
NTRCA অনুপ্রাস এবং অনুপ্রাসের পরিচয়
প্রশ্ন : অনুপ্রাস কাকে বলে? অনুপ্রাস কতপ্রকার ও কী কী? প্রত্যেক প্রকার অনুপ্রাসের পরিচয় দাও।
উত্তর: শব্দালঙ্কারের অন্যতম শাখা হলো ‘অনুপ্রাস’ একই ধ্বনি বা ধ্বনিপুঞ্জ বাক্যের মধ্যে যুক্ত বা বিযুক্তভাবে বারবার আবর্তিত হয়ে যে ধ্বনিমাধুর্য সৃষ্টি করে তাকে অনুপ্রাস বলে। যেমন-কুলায় কাঁপিছে কাতর কপোত। এখানে ‘ক’ ধ্বনির চারবার আবর্তনে যে ধ্বনিমাধুর্য সৃষ্টি হয়েছে তাই অনুপ্রাস।
অনুপ্রাস প্রধানত ছয় প্রকার। যথা:
ক) আদ্যানুপ্রাস, খ)মধ্যানুপ্রাস, গ)অন্ত্যানুপ্রাস, ঘ)বৃত্ত্যনুপ্রাস, ঙ) শ্রুত্যনুপ্রাস, ও চ) ছেকানুপ্রাস।
নিচে উল্লিখিত অনুপ্রাসসমূহের পরিচয় দেয়া হলো-
ক) আদ্যানুপ্রাস : বাক্যের আদিতে যে অনুপ্রাস হয় তাই আদ্যানুপ্রাস। যেমন-
১)যাঁহা যাঁহা নিকসয়ে তনু তনু জ্যোতি
তাঁহা তাঁহা বিজুরি চমকময় হোতি।
২) যতবার লেখা শুরু করি
ততবার ধরা পড়ে, এ খবর সহজ তো নয়।
খ) মধ্যানুপ্রাস : বাক্যের মধ্যে যে অনুপ্রাস সৃষ্টি হয় তাই মধ্যানুপ্রাস। যেমন-
১) শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুই আর সবি গেছে ঋণে
২) চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা।
গ) অন্ত্যানুপ্রাস : একটি বাক্যের শেষ শব্দের সাথে অন্য বাক্যের শেষ শব্দের যে অনুপ্রাস হয়, তাই হলো অন্ত্যানুপ্রাস। যেমন-
১) চীর চন্দন হার উরে না দেলা।
সো অব নদী গিরি আঁতর ভেলা।
২) উচ্চ কণ্ঠ উঠিল হাসিয়া।
তুচ্ছ ছলনা গেলা সে ভাসিয়া।
ঘ) বৃত্ত্যনুপ্রাস : একটি ধ্বনি দুই-এর অধিকবার বাক্যে আবর্তিত হলে যে অনুপ্রাস হয় তাই বৃত্ত্যনুপ্রাস। যেমন-
১) জাগে রথ রথী গজ অশ্ব পদাতিক
এখানে ‘জ’, ‘গ’, ‘র’ এবং ‘থ’ ধ্বনি আবর্তন হয়েছে।
২) কাক কালো কোকিল কালো কালো কন্যার কেশ।
‘ক’ ধ্বনি নয় বার আবর্তিত হয়েছে।
ঙ) শ্রুত্যনুপ্রাস : বর্ণ বা ধ্বনি স্বতন্ত্র হলেও শ্রুতিগত দিক থেকে যে অনুপ্রাস সৃষ্টি হয় তাই শ্রুত্যনুপ্রাস। যেমন-
১) বলে দাও মোর সারথিরে ডেকে
ঘোড়া বেছে নেয় ভালো ভালে দেখে।
২) তুমি শুয়ে রবে তে-তলার পরে আমরা রহিব নিচে
অথচ তোমারে দেবতা বলিত, সে ভরসা আজ মিছে।
চ) ছেকানুপ্রাস : দুই বা তার অধিক ব্যঞ্জন ধ্বনি যুক্ত বা বিযুক্ত হয়ে যে অনুপ্রাস সৃষ্টি করে তাই ছেকানুপ্রাস। যেমন-
১) লঙ্কার পঙ্কজ রবি যাবে অস্তাচলে।
২) অন্ধ হরে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?
উল্লিখিত ছয় প্রকার অনুপ্রাস ছাড়াও আরো তিন প্রকার অনুপ্রাসের কথা কোন কোন আলঙ্কারিক বলে থাকেন। এগুলো হলো:
ক) সরলানুপ্রাস খ)গুচ্ছানুপ্রাস গ) মালানুপ্রাস।
নিচে এদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেয়া হলো:
ক) সরলানুপ্রাস : একটি বা দুটি বর্ণ একাধিকবার আবর্তিত হলে তাকে সরলানুপ্রাস বলে। যেমন:
১) রাজদন্ড যত খন্ড হয় তত তার দুর্বলতা, তত তার ক্ষয়।
‘ত’ ধ্বনির আটবার ধ্বনিত হয়েছে।
২) হবে সে সূর্যের সেবাদাসী
‘স’ ধ্বনি চারবার আবর্তিত হয়েছে।
খ) গুচ্ছানুপ্রাস : একাধিক ব্যঞ্জনবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের গুচ্ছ ধারাবাহিকভাবে আবর্তিত হলে তাকে গুচ্ছানুপ্রাস বলে। যেমন:
১) নন্দ নন্দন চন্দ চন্দন
গন্ধ নিন্দিত –অঙ্গ।
যুক্ত ‘ন্দ’ ক্রমানুসারে পাঁচবার আবর্তিত।
১) মালঞ্চের চঞ্চল অঞ্চল
যুক্ত ‘ঞ্চ’ ধ্বনি ক্রমানুসারে তিনবার আবর্তিত।
গ) মালানুপ্রাস : অনুপ্রাসের মালা অর্থাৎ একাধিক অনুপ্রাস থাকলে তাকে মালানুপ্রাস বলে। যেমন:
১) আজন্ম সাধন-ধন সুন্দরী আমার
কবিতা কল্পনালতা।
২) কুসুম কুন্তলা মহী মুক্তমালা গলে।
ড. এ. আই. এম. মুসা
অধ্যাপক-বাংলা
+88 01713 211 910