
ধ্বনিমূল বা মূলধ্বনি ও সহধ্বনি এবং এদের পার্থক্য
প্রশ্ন: ধ্বনিমূল বা মূলধ্বনি ও সহধ্বনি কী বুঝ? উদাহরণসহ এদের পার্থক্য দেখাও।
উত্তরঃ ধ্বনিমূল বা মূলধ্বনি: ব্লুমফিল্ড ধ্বনিমূল বা মূলধ্বনির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন-
‘ধ্বনির স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে কল্পিত সর্বক্ষুদ্র ধ্বনি একক’কেই ধ্বনিমূল বা মূলধ্বনি বলে।
গ্লিসন ধ্বনিমূল বা মূলধ্বনির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন-
‘‘ধ্বনিমূল হলো বৈপরীত্যসূচক একই শ্রেণিজাত ধ্বনি একক।’’
ক্রুবেৎস্কয় ধ্বনিমূলের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন-
‘‘ভাষার ধ্বনি সংগঠনের মৌল একক হল ফোনিম বা ধ্বনিমূল।
তাই ফোনিম বলতেই বোঝাবে এক-একটি ধ্বনি একক, যাতে আছে একগুচ্ছ বিমূর্ত স্বাতন্ত্রিক বৈশিষ্ট্য।
উল্লিখিত সংজ্ঞাসমূহ থেকে ধ্বনিমূলের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যেতে পারে-
(ক) ধ্বনিমূল হচ্ছে একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক একক এবং যা তার চেয়ে ছোট ধ্বনিতাত্ত্বিক এককে ভাঙ্গা যায় না।
(খ) ধ্বনিমূলের একক বলতে ধ্বনিমূলগত বৈপরীত্যের প্রত্যেক সদস্যকে নির্দেশ করে।
(গ) মূলধ্বনির বৈশাদৃশ্য হচ্ছে যে কোন ধ্বনির বৈপরীত্য বা যে কোন ভাষার বৈপরীত্য সৃষ্টিতে সক্ষম।
সুতরাং উল্লিখিত আলোচনা থেকে বলতে পারি, যা কোন ভাষার ক্ষুদ্রতম একক, যার নিজস্ব কোন অর্থ নেই কিন্তু অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে এবং ধ্বনিতাত্ত্বিক পরিবেশে পরিবর্তিত হয়, তাকে ধ্বনিমূল বা মূলধ্বনি বলে। উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা যেতে পারে।
(১) /ক/ ধ্বনিকে মূলধ্বনি হিসাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। কারণ,/ক/ -কে এর চেয়ে ক্ষৃদ্রতর অংশে বিভক্ত করা যায় না। এক্ষেত্রে /ক/ ক্ষুদ্রতম একক।
(২) /ক/ ধ্বনির নিজস্ব কোন অর্থ নেই কিন্তু ন্যুনতম সংখ্যাজোড়ের সাহয্যে অর্থগত দিক স্পষ্ট করে। যেমন- /কাল/, /খাল/, /গাল/
এই তিনটি শব্দের শেষাংশ ‘আল’। কিন্তু শব্দের প্রথমে ব্যবহৃত ধ্বনিগুলো পৃথক বলে তিনটি পৃথক অর্থ প্রকাশিত।
সহধ্বনি: ধ্বনিতাত্ত্বিক পরিবেশে মূলধ্বনির পরিবর্তিত রূপকে সহধ্বনি বলে। যেমনঃ ‘চালতা’ ও ‘পাল্টা’ শব্দ দুটিতে /ল/ ধ্বনি থাকা সত্ত্বেও প্রথম শব্দে /ল/- এর দন্ত্য ধ্বনি থাকায় তার প্রকৃতিগত কোনো পরিবর্তন হয় নি। কিন্তু দ্বিতীয় শব্দে /ল/-এর পর মুর্ধন্য ধ্বনি থাকায় /ল/ ধ্বনির প্রকৃতি পরিবর্তিত। আর সে জন্যই প্রথম শব্দের /ল/ মূলধ্বনি কিন্তু দ্বিতীয় শব্দের /ল/ মূলধ্বনি নয় সহধ্বনি।
একই ধ্বনিক পরিবেশে দুটি মূলধ্বনির পরিবর্তিত অবস্থায় শব্দের অর্থ পাল্টে দেয়। সহধ্বনির বেলায় তা ঘটে না। যেমন-
তান, ধান শব্দদুটির ধ্বনিক বিশ্লেষণ:
তান= ত+আ+ন
ধান=ধ+আ+ন
এখানে উভয় শব্দে একটি মাত্র ধ্বনিমূলের পার্থক্য। ধ্বনিমূলদ্বয় স্থান পরিবর্তন করলেও শব্দের অর্থ তাদের অনুসরণ করবে।
কিন্তু –‘ফুল’ (phul) শব্দকে আঞ্চলিকতা দোষে ful উচ্চারণ করলে এত তার অর্থ পাল্টায় না। এখানে /ph/ একটি মূলধ্বনি এবং /f/
তার একটি সহধ্বনি।
ড. এ. আই. এম. মুসা
সহযোগী অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ
সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ, রংপুর।
+88 01713 211 910