
অর্থালঙ্কার কাকে বলে? অর্থালঙ্কারের বৈশিষ্ট্য
প্রশ্ন : অর্থালঙ্কার কাকে বলে? অর্থালঙ্কারের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।
উত্তর: আলঙ্কারিকদের মতে, যা বাক্যকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে তুলে তাই অলঙ্কার। তাঁরা এ অলঙ্কারকে প্রধানত দু’শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। এগুলো হলো- শব্দালঙ্কার ও অর্থালঙ্কার। নিচে অর্থালঙ্কারের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো-
যে অলঙ্কার অর্থ-বৈচিত্র্য দ্বারা বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তাকে অর্থালঙ্কার বলে। অন্যকথায়, যে অলঙ্কার একান্তভাবে বাক্যে ব্যবহৃত শব্দ বা শব্দাবলীর অর্থের আশ্রয় গ্রহণ করে সৃষ্ট হয়, তাকে অর্থালঙ্কার বলে। যেমন:
‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান।’
এখানে মরণকে শ্যামের সাথে তুলনা করে একধরনের ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করা হয়েছে।
অর্থালঙ্কারের বৈশিষ্ট্য :
১। অর্থালঙ্কারের শব্দ ও ধ্বনি গৌণ, অর্থই প্রথম এবং প্রধান। এ জন্য এক শব্দের পরিবর্তনে সমার্থক আলাদা শব্দ প্রয়োগ করলেও অর্থাশ্রয়ী এ অলঙ্কারের আবেদন ক্ষুণ্ণ হয় না। যেমন : রবীন্দ্রনাথের ‘বসুন্ধরা’ কবিতায় আছে-
‘অনন্ত আকাশে
অনিমেষ জেগে থাকে নিদ্রাতন্দ্রাহত
শূন্যশয্যা মৃতপুত্রা জননীর মতো।’
এখানে উল্লিখিত উদাহরণের কিছু শব্দ পরিবর্তন করলে দ্বারায়-
অসীম গগনে
নির্নিমেষ বসে আছে নিদ্রতন্দ্রাহত
শূন্যশষ্যা পুত্রহারা প্রসূতির মতো।’
এর আবেদন ক্ষুণ্ন হয় নি বলেই মনে হয়।
২। অর্থালঙ্কার বক্তব্যকে সরস ও সুন্দর করে এবং বাক্যের অর্থকে সুষ্পষ্ট ও মনোরম করে তোলে।
যেমন: একটি অপহ্নুতি অলঙ্কারে পাই-
‘চোখে চোখে কথা নয় গো-আগুনে আগুনে কথা।’
এখানে চোখের সাথে আগুনের তুলনা করে উভয় চরিত্রের ক্ষোভের স্বরূপটিকে উন্মোচিত করা হয়েছে। ফলে অলঙ্কারের আবেদন শব্দের মধ্যে সীমিত না থেকে দুরসঞ্চারী হয়েছে।
৩। এই অলঙ্কার অর্থ নির্ভর হওয়ায় এতে ব্যাপক বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতি পরিলক্ষিত হয়।
৪। অর্থালঙ্কার যেহেতু বৈচিত্র্যপূর্ণ সেহেতু এর শ্রেণী বিভাগও ব্যাপক বিস্তৃত। কেননা, এই অলঙ্কারের রয়েছে পাঁচটি প্রধান শাখা এবং এই শাখাগুলোর রয়েছে অনেকগুলো উপ-শাখা।
*************************************
ড. এ. আই. এম. মুসা
অধ্যাপক-বাংলা
www.onlinereadingroombd.com
+88 01713 211 910