
সিরাজউদ্দৌলা নাটক: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
এইচএসসি : নাটক, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (অনুধাবনমূলক প্রশ্ন)
প্রশ্ন-১। রাইসুল জুহালা কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ।
উত্তরঃ- রাইসুল জুহালা ছিলেন নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলা'র প্রধান গুপ্তচর। এটি তাঁর প্রকৃত নাম নয়। তাঁর প্রকৃত নাম নারান সিংহ। সিকানদার আবু জাফর (১৯১৮-৭৫) নারান সিংহ কে সম্পূর্ণ কাল্পনিক চরিত্র হিসাবে অঙ্কন করেন নি। বরং মেদেদীপুরের ফৌজদার বাজারামের ছোট ভাই নারান সিংহ এর আদলেই তিনি এই চরিত্রটি নির্মাণ করেছেন।
রাইসুল জুহালা সাহসী, বৃদ্ধিমান, কৌশলী এবং সর্বোপরি তিনি ছিলেন একজন আদর্শ দেশ প্রেমিক। দেশের জন্য, দেশবাসীর কল্যাণের জন্য তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গুপ্তচরের দায়িত্ব পালন করেছেন। কোন প্রকার লোভের বশে তিনি মীরজাফর, জগৎশেষ্ঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখের ন্যায় দেশের সাথে, দেশবাসীর সাথে বেঈমানী করেন নি । পলাশীতে নবাবের পতন হলেও ক্লাইভ ও মীরজাফর নারান সিংহ এর প্রকৃত পরিচয় জেনে ফেলে। অতঃপর তাকে গুলি করে হত্যা করে । মৃত্যুর পূর্বে ক্লাইভ তাকে লক্ষ্য করে বলেছিল, গুপ্তচরের মৃত্যু এভাবেই হয়। এর জবাবে নারান সিংহ বলেছিল-
“গুপ্ত চরের কাজ করেছি দেশের স্বাধীনতার খাতিরে । সে- কি বেঈমানীর চেয়ে খারাপ? মোনাফেকীর চেয়ে খারাপ ?
প্রশ্ন-২ মীর মর্দান কে ছিলেন? তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তরঃ- মীর মর্দান ছিলেন নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলার সর্বাধিক বিশ্বাসী সেনাপতি। কোন কোন ঐতিহাসিক তাঁকে মীর মদন বলে পরিচিত করেছেন।
প্রতিহিংসা পরায়ণ ঘসেটী বেগম, স্বার্থান্ধ সিপাহসালার ও লোভী রাজ অমাত্যগণ যখন সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তখন যে কয়জন দেশপ্রেমিক রাজ কর্মচারী সিরাজের পক্ষ নিয়ে ছিলেন, মীর মর্দন ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম। নবাবের প্রতি তাঁর ছিল গভীর আস্থা অপরিমের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা । দেশের প্রতি, দেশবাসীর প্রতি তাঁর ছিল গভীর মমতা । নিজের জীবন দিয়ে তিনি তা প্রমাণ করে গেছেন।
মীর মর্দান ছিলেন অকুতোভয় সাহসী । মীরজাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখের ন্যায় তিনি দেশের সাথে, দেশ বাসীর সাথে বেঈমানী করেন নি। পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফরসহ অন্য সেনাপতিরা যখন নিস্ক্রিয় ছিল মীর মর্দান তখন বীরের ন্যায় যুদ্ধ করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ইংরেজ পক্ষের কামানের একটি গোলা এসে তাঁর উরুতে আঘাত করলে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি জানিয়ে যান যে, অধিকাংশ সেনাপতি ছিলেন; বেঈমান, দেশদ্রোহী।
প্রশ্নঃ ৩। মোহাম্মাদী বেগ কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তরঃ- বাংলার ইতিহাসে যে কয়জন বেঈমান, বিশ্বাসঘাতক, নরপিশাচি, নীচ প্রকৃতির কৃতয়ের নাম লেখা আছে মোহাম্মদী বেগ তাদের মধ্যে অন্যতম। কারণ, সেই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলার হত্যাকারী।
পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পর নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলা ধৃত ও বন্দী হন । বন্দী নবাবকে কেউ হত্যা করতে রাজী হয়নি । কিন্তু অর্থলোভী পাষন্ড মোহাম্মাদী বেগ অর্থের লোভে ও মীরের প্ররোচনয়া নবাবকে হত্যা করতে রাজী হয় এবং অবশেষে তাকে হত্যা করে। অথচ এই মোহাম্মাদী বেগ ছিল নবাবের পিতা জয়নুদ্দিনের পালিত পুত্র। জয়নুদ্দিন অনাথ মোহাম্মাদী বেগকে খুব ভালো বাসতেন । নবাব মাতা আমিনা বেগমও তাকে নিজ সন্তানের মতো ভালোবাসতেন । আর ভালোবাসতেন বলেই তিনি মোহাম্মাদী বেগের বিয়ে দিয়ে ছিলেন অত্যন্ত জাঁক জমকের সাথে ।
নরপশু মোহাম্মাদী বেগ যখন সিরাজের কয়েদ খানার নির্জন ঘরে ঢুকল তখন সিরাজ তাকে দেখে আশ্বস্ত হলেন । ভাবলেন মোহাম্মাদী বেগ বুঝি তাকে বাঁচাতে এসেছে। মোহাম্মাদী বেগ তাকে হত্যা করতেই এখানে এসেছে; তখন নবাব ভীত হলেন । নবাব তাকে অনুরোধ করলেন এ পাশ কাজ থেকে বিরত থকার জন্য । তিনি মোহাম্মাদী বেগকে অতীতের কথা, শৈশবের কথা স্মারণ করাতে চাইলেন । কিন্তু চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী ।
বস্তুত বাংলার ইতিহাসে এক নরপিশাচ হত্যাকারীর নাম, মোহাম্মাদী বেগ।
প্রশ্ন-৪। সাঁফে কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তরঃ- সাঁফ্রে একজন ফরাসী সেনাপতি। পলাশীর যুদ্ধে সাঁফে নবাবের পক্ষ অবলম্বন করেন। সিকানদার আবু জাফর রচিত “সিরাজ-উ-দ্দৌলা নাটকে সাঁফ্রেকে সীমিত পরিসরে পাওয়া গেলেও তিনি ছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
ফরাসী ও ইংরেজ উভয়ই এদেশে বাণিজ্য করতে আসে । কিন্তু এক পর্যায়ে তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দী হয়ে উঠে। প্রতি দ্বন্দিতায় ফরাসীরা নবাবের পক্ষ অবলম্বন করে আর সে সুত্রেই সাঁফ্রে নবাবের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয় । পলাশীতে নবাবের বিপর্যার ঘটলে সাঁফ্রেও পরাজিত ও বন্দী হন।
প্রশ্ন-৫। রাজবল্লভ কে? তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ।
উত্তরঃ- রাজবল্লভ, রাজা রাজবল্লভ' হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি নবাব সিরাজের বিপক্ষের লোক। সিরাজের দরবারে যে কয়জন ঘোরতর বিশ্বাসঘাতক ও অর্থ লোলুপ অমাত্য ছিলেন তাদের শিরোমনি।
রাজবল্লভ ঢাকা বিক্রমপুরের অধিবাসী ছিলেন এবং তিনি জাতে ছিলেন বাঙ্গালী বৈদ্য । তিনি ফৌজী বিভাগের কেরানি হিসাবে জীবন শুরু করলেও পরবর্তী কালে যোগ্যতার বলে ঢাকার দেওয়ান নিযুক্ত হন । নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলা কে সিংহাসনচ্যুত করার পিচনে রাজা রাজবল্লভের বিরাট ভূমিকা ছিল। তিনি ছিলেন ঘসেটী বেগমের অত্যন্ত প্রি পাত্র। ইংরেজদের সাথেও তার ছিল অত্য মধুর সম্পর্কে । ইংরেজদের সাথে তাঁর অর্থের ও লেন-দেন ছিল ।
বস্তুত বাংলাদেশে ইংরেজ মক্তিকে স্থাপনের পিছনে রাজ বল্লভের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিল।
প্রশ্ন-৬। মোহন লাল কে? তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তরঃ- মোহন লাল-- মোহন লাল কাশ্মীরি হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন নবাবের অন্যতম সেনাপতি। কাশ্মীরের অধীবাসী এই হিন্দু যুবক নবাবের খুব বিশ্বস্ত এবং প্রিয় ছিলেন। সিরাজের রাজ দরবারে তিনি প্রথমে দেওয়ান খানার পেশকার নিয়োগ হয়ে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে যোগ্যতা ও বিশ্বাস্ততার গুণে তিনি নবাবের প্রধানমন্ত্রী পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন।
পলাশীর যুদ্ধে নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতি ছিলেন মীর মর্দান ও মোহন লাল। মীর মর্দান যুদ্ধে ইংরেজদের গোলার আঘাতে নিহত হলে মোহনলাল একা যুদ্ধ পরিচালনা করেন। যুদ্ধে জয় যখন প্রায় নিশ্চিত তখন সেনাপতি মীরজাফর ও রায় দুর্লভের অসৎ পরামর্শে নবাব যুদ্ধ বন্ধের আদেশ দেন। অবশেষে মোহনলাল পুত্রসহ ইংরেজদের হাতে বন্দী হন। ক্লাইভের আদেশে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন যে, তাকে বিষ পানে হত্যা করা হয়েছে।
প্রশ্ন-৭। “আমার শেষ যুদ্ধ পালাশীতেই”-কে, কাকে উদ্দেশ্য করে এবং কেন এই উক্তি করেছিল?
উত্তরঃ- প্রশ্নে উদ্বৃত উক্তিটি নির্ভীক ও আধুনিক জীবনচেতনায় পরিশ্রুত সাহিত্যিক সিকান্দার আবু জাফর (১৯২৮-৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক “ সিরাজ-উ-দ্দৌলা”- এর তৃতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যের অন্তর্গত।
ছিলেন।
এই আত্মা- প্রত্যয়ী উক্তিটি করেছিলেন নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলা বিশ্বস্ত ও প্রিয় সেনাপতি মোহনলাল। পলাশীর যুদ্ধের প্রাক্তরে নবাবকে উদ্দেশ্য করে তিনি এই উক্তি করে
পলাশীর প্রান্তরে নবাব পক্ষের সেনাপতিদের একে একে পতন ঘটলে নবাব নিজেই যখন যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তখন মোহনলাল নবাবকে মুর্শিদাবাদে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে এই উক্তি উচ্চারণ করেছিলেন ।
ঘসেটি বেগম,রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, উমিচাঁদের ষড়যন্ত্রে এবং মীরজাফর, রায়দুর্লভ এর বিশ্বাসঘাতকতার পলাশীর প্রান্তরে নবাব বাহিনীর পরাজয় আসন্ন হয়ে উঠে। একে একে পতন ঘটে নবাবের বিশ্বস্ত ও চৌকুষ সেনাপতি মীর মর্দান, বদ্রে আলী, নৌবে সিং প্রমুখের। এ সংবাদ নবাব শিবিরে পৌছলে নবাব বিচলিত হয়ে উঠেন । অতঃপর তিনি নিজেই যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। আর তখনই নবাবের সম্মুখে উপস্থিত হন নবাবের বিশ্বস্ত ও প্রিয় সেনাপতি এবং পরামর্শ দাতা মোহনলাল। মোহনলাল নবাবকে সম্মুখে উপস্থিত হন নবাবের বিশ্বস্ত ও প্রিয় সেনাপতি এবং পরামর্শ দাতা মোহনলাল। মোহনলাল নবাবকে জানান, পলাশীতে যুদ্ধ শেষ হয়েছে; এখন আর আত্মাতিমানের সময় নেই। তাছাড়া এখানে যুদ্ধ জয়েরও কোন সম্ভাবনা নেই । তাই তিনি নবাবকে মুর্শিদাবাদে ফিরে যেতে পরামর্শ দেন । সিরাজ তখন তাকে বলেন তিনি কি একাই ফিরে যাবেন । তখন মোহনলাল বলেচিলেন আমার শেষ যুদ্ধ পলাশীতেই ।
বস্তুত এ উক্তির মধ্য দিয়ে মোহনলালের একনিষ্ঠ দেশপ্রেম ও স্বজাত্য প্রীতি উন্মেচিত হয়েছে।
প্রশ্ন- ৮ । তোমাদের প্রাণ বিপন্ন হবে অথচ দেশের স্বাধীনতা রক্ষিত হবে না, এই চিন্তাটাই আজ বেশী করে পীড়া দিচ্ছে।” কে, কাকে কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছিল।?
উত্তরঃ- প্রশ্নে উদ্বৃত বাক্যটি নির্ভীক ও আধুনিক জীবন- চেতনায় পরিস্রুত সাহিত্যিক সিকানুদার আবু জাফর ( ১৯১৮-৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক সিরাজ-উ-দ্দৌলা (১৯৬৫) এর তৃতীয় অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যের অন্তর্গত ।
আলোচ্য উক্তিটি নবাব সিরাজ -উ-দ্দৌলা'র। তিনি এই উক্তি করেছিলেন তার দুই প্রিয় ও বিশ্বস্ত সেনাপতি মীর মর্দান ও মোহনলালকে উদ্দেশ্য করে । মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা ভয়াবহতার কথা স্মারণ করে তিনি এই উক্তি করেছিলেন।
ইংরেজদের ঔদ্ধত্য যখন সীমালঙ্ঘন করে তখন নবাব তাদের সমুচিত শান্তি দানের জন্য প্রক্তন হন। সে উদ্দেশ্যেই পলাশীতে যুদ্ধের আয়োজন । যুদ্ধের পর্ব রাত্রে মীর মর্দান ও মোহনলাল যুদ্ধের বিভিন্ন দিক নবাবকে বিশ্লেষণ করে দেখান। তারা নবাবকে আশ্বস্ত করেন যে, যুদ্ধে তাদের জয় নিশ্চিত। কিন্তু দরদর্শী নবাব জানতেন সে মীরজাফর, রায়দুলভ, ইয়ার লতিফ প্রমুখ সেনাপতি গণ ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়েছে। তারা আমাগী কালের যুদ্ধে নবাবের পক্ষে তো নয়-ই বরং নবাবের বিপক্ষে অবস্থান নিবে। তাই নবাব পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের আশঙ্কা ব্যক্ত করেন । আর তখনই মীর মর্দান নবাবকে অভয় দিয়ে বলে ছিলেন যে, তাদের প্রাণ থাকতে নবাবের কোন ক্ষতি হবে না। মীর মর্দানের এই উক্তির জবাবেই নবাব আলাচ্য উক্তিটি করে ছিলেন ।
বস্তুতঃ এই উক্তির মিথ্যা দিয়ে একদিকে যেমন নবাবের গভীর দেশাত্মবোধ উন্মোচিত হয়েছে, তেমনি অন্যদিকে দেশপ্রেমিক সেনাপতিদের প্রতি প্রকাশিত হয়েছে গভীর মমত্মবোধ ও ভালবাসা।
প্রশ্ন-৯। “ ইংরোদের হয়ে যুদ্ধ করছি কোম্পানীর টাকার জন্য । তা বলে বাঙ্গালী কাপুরুষ নয়।”
কে কোন প্রসঙ্গে এ উক্তি করেছিল ।
উত্তরঃ- প্রশ্নে উদ্বৃত বাক্যটি নির্ভীক ও আধুনিক জীবন- চেতনায় পরিস্রুত সাহিত্যিক সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৮-৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক সিরাজ-উ-দ্দৌলা (১৯৬৫) এর প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের অন্তর্গত ।
আলোচ্য উক্তিটি ইংরেজ পক্ষের বাঙ্গালি সৈনিক ওয়ালী খানের।
ইংরেজদের ঔদ্ধতৌর সমূচিত শান্তি দেয়ার জন্য নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলা কলাকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করেন। নবাবের ক্ষীপ্ত আকমণের মুখে ইংরেজ বাহিনী বিপর্যন্ত। কিন্তু এর পরও ক্যাপ্টেন ক্লেটন গুটিকয়েক সৈনিক নিয়ে নবাব বাহিনীকে প্রতিরোধ করার ব্যর্থ প্রয়াস চালান। এসময়ে ইংরেজ পক্ষের বাঙ্গালি সৈনিক ওয়ালী খান ক্লেটনকে যুদ্ধ বন্ধের পরামর্শ দেন । কারণ, নবাব বাহিনী দুর্গের খুব কাছা কাছি এসে পড়েছে । কাজেই যুদ্ধ করে কোনো লাভ নেই । কিন্তু ক্লেটন ওয়ালী খানের এই পরামর্শে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং তাকে বেঈমান গালি দিয়ে বলেন - কাপুরুষ বাঙ্গালির কথার যুদ্ধ বন্ধ হবে না। ক্লেটনের এই উক্তির জবাবেই ওয়ালী খান আলোচ্য উক্তিটি করে ছিলেন ।
বস্তুত এই উক্তির মাধ্যমে নাট্যকার ওয়ালী খানের বীরত্বেকে যেমন প্রকাশ করেছেন তেমনি সমগ্ৰ
বাঙ্গালির বীরত্বেকেও উন্মোচন করার প্রায়স পেয়েছেন ।
প্রশ্ন- ১০। “ সময় থাকতে একযোগে মাথা তুলে দাঁড়ান । আপনারা অবশ্যই জয়লাভ করবেন । ”
কে, কাকে উদ্দেশ্য করে, কেন এ উক্তি করেছিল ?
উত্তরঃ- প্রশ্নে উদ্বৃত বাক্যটি নির্ভীক ও আধুনিক জীবন-চেতনায় পরিস্রুত সাহিত্যিক সিকানদার আবু জাফর
( ১৯১৮-৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক “ সিরাজ-উ-দ্দৌলা (১৯৬৫)এর তৃতীয় অঙ্গের চতুর্থ দৃশ্যের অন্তর্গত
আলোচ্য উক্তিটি করেছেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ- উ-দ্দৌলা । দরবারে সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি এই উক্তি করেছেন। সমবেত জনতাকে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্য তিনি এই উক্তি করেছিলেন।
প্রতারকদের প্রতারণা আর বিশ্বাসঘাতকদের বিশ্বাসঘাতকতার পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ দ্দৌলার সেনাবাহিনীর পরাজয় ঘটে । অতঃপর দেশপ্রেমিক সেনাপতি মোহনলালের পরামর্শে সিরাজ রাজধানী মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন দেশের স্বাধীনতা সুসংহত করার জন্য। সেই উদ্দেশ্যেই রাজদরবারে সাধারণ জনগণের সমাবেশ ঘটান । তিনি সমবেত জনতাকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এগিয়ে আসার আহব্বান জানান। তিনি তাদের কাছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যৌক্তিকতা ও বিশ্লেষণ করেন । তিনি বলেন যে, আজ সমস্ত অপশক্তি নবাবের বিরুদ্ধে এক হয়েছে । মুসলমান মীর জাফর, ব্রাহ্মণ রাজবল্লভ, কায়ন্ত রায়দুলর্ভ, জৈন মহাতারব চাঁদ শেঠ, শিখ উমিচাঁদ, ফিরিঙ্গি খৃষ্টান ওয়াটসন, ক্লাইভ এক জোট হয়ে মসনদের অধিকার পেতে চায়। শাসন ক্ষমতা স্থায়ী করতে চায়। এর মধ্য দিয়ে তারা দেশ ও জনগণের উপর লুঠতরাজের একচেটিয়া অধিকার কায়েম করতে চায়। জনগণের জীবনে ক্লাইভ ও মীরজাফরের অত্যাচারে ফলে নেমে আসবে এক অনন্ত আধার । তাই নবাব দেশের জনগণকে ঐক্যবন্ধ হয়ে তা প্রতিহত করার জন্য আহবান জানান । সময় থাকতে সকলকে একযোগ হয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে বলেন। সমস্ত জনগণ যদি ঐক্যবন্ধ হয় তবে অপশক্তির বিরুদ্ধে অবশ্যই তারা জয়লাভ করবে।
বস্তুত এই উক্তির মধ্যদিয়ে নবাব সিরাজ উ দ্দৌলার জাতীয় ঐক্যচেতনা এবং শোত্মবোধ উন্মোচিত হয়েছে
প্রশ্ন-১১। “ তারা চায় মসনদের অধিকার"- কার উক্তি? কারা এবং কেন মসনদের অধিকার চায়?
উত্তরঃ- প্রশ্নে উদ্বৃত বাক্যটি নির্ভীক ও আধুনিক জীবন- চেতনায় পরিশ্রুত সাহিত্যিক সিকানদার আবু জাফর ( ১৯১৮-৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক সিরাজ- উ- দ্দৌলা (১৯৬৫) এর তৃতীয় অঙ্কের চতুর্থ দৃশ্যের অন্তর্গত ।
আলোচ্য উক্তিটি করেছেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলা । দরবারে সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি এই উক্তি করেছেন। পলাশীর যুদ্ধের কারণ ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি এই উক্তি করেছিলেন ।
প্রতারকদের প্রতারণা আর বিশ্বাসঘাতকদের বিশ্বাসঘাতকতায় পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ-উ-দ্দৌলার সেনাবাহিনীর পরাজয় ঘটে । অতঃপর দেশপ্রেমিক সেনাপতি মোহনলালের পরামর্শে সিরাজ রাজধানী মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন দেশের স্বাধীনতা সুসংহত করার জন্য । সেই উদ্দেশ্যেই রাজদরবারে সাধারণ জনগণের সমাবেশ ঘটান । তিনি সমবেত জনতাকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি তাদের কাছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যৌক্তিকতাও বিশ্লেষন করেন । তিনি বলেন যে, আজ সমস্ত অপশক্তি নবাবের বিরুদ্ধে এক হয়েছে। মুসলমান মীর জাফর, ব্রাহ্মণ রাজবল্লভ, কায়স্ত রায়দুলর্ভ, জৈন মহাতাব চাঁদ শেঠ, উমিচাঁদ, ফিরিঙ্গি খৃষ্টান ওয়াটসন, ক্লইভ এক জোট হয়ে মসনদের অধিকার পেতে চায়। শাসন ক্ষমতা স্থায়ী করতে চায়। এর মধ্য দিয়ে তারা দেশ ও জনগণের উপর লুঠতরাজের একচেটিয়া অধিকার কায়েম করতে চায়।
প্রশ্ন-১২। শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ”-কোন প্রসঙ্গে কার উক্তি ?
উত্তরঃ প্রশ্নে উদ্বৃত বাক্যটি আধুনিক জীভনবোধ ও শিল্পচেতনায় পরিশ্রুত সাহিত্যিক সিকানদার আবু জাফর
( ১৯১৮-৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক সিরাজ-উ-দ্দৌলা (১৯৬৫) এর দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যের অন্তর্গত ।
আলোচ্য উক্তিটি অপচিত কিংবদন্তীর পুরুষ বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর আলী খান এর । ইংরেজ কোম্পনী প্রনিধি ক্লাইভ কর্তৃক প্রণীত দলিলের শর্ত নিয়ে রাজবল্ল ও জসৎশেঠের সাথে ক্লাইভের মতবিরোধ দেখা দেয়। সেই মতবিরোধ প্রশমিত করার জন্য ক্লাইভ আলোচ্য উক্তি করেন ।
নবাব আলীবর্দী কাঁ এর মৃত্যু হলে বাংলার সিংহাসনের আসীন হন তাঁরই সেহভাজন দৌহিত্র সিরাজ-উ-দ্দৌলা। কিন্তু সিরাজের এ সিংহাসন লাভকে কেউই স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারেন নি । তাঁর আত্মীয় স্বজনসহ রাজ অমাত্যগণ তাঁর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ঘসেটি বেগম, মীর জাফর, জগৎ শেঠ, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ সকলই স্বীয় স্বার্থ ও স্বপ্ন চরিতার্থ করার প্রয়াসে নবাবকে ক্ষমতা চ্যুত করতে চান । এই লক্ষকে বাস্তবায়নের জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা কুচক্রী ও ক্ষমতালোভী ইংরেজ কোম্পানীর সাথে এক চুক্তিতে উপনীত হন । এই চুক্তি পত্র সকলের স্বাক্ষর ও অনুমোদনের জন্য কোম্পানী প্রতিনিধি ক্লাইভ মীরনের আবাসে আসেন। নবাবের পতনের পর কে কি পাবেন তা এই চুক্তিপত্রে উল্লেখ রয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী নবাব সিরাজের পতনের পর বাংলার নবাব হলেন মীরজাফর আর রাজ্য চালাবেন ইংরেজ কোম্পানী। রাজবল্লভ ও জগৎশেঠ চুক্তির এই শর্ত মানতে চান না। অতঃপর মীর জাফরের মধ্যস্থতায় সকলেই চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি পত্রে স্বাক্ষরের প্রাক মুহুর্তে সকলের মধ্যে উদ্বৃত মতবিরোধ প্রশমিত করার জন্য মীর জাফর উচ্চারণ করেন - শুভ কাজে অযথা বিলম্ব করা বুদ্ধি মানের কাজ নয়।
বস্তুত আলোচ্য উক্তি অবতারণার মধ্য দিয়ে নাট্যকার একদিকে নবাবরে বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের স্বরুপ যেমন উন্মোচিত করেছেন তেমনি অন্য দিকে উল্লিখিত চুক্তি পত্রের প্রতি ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন।
প্রশ্ন- ১৩ : দেশের স্বার্থের জন্য নিজেদের স্বার্থ তুচ্ছ করে আমরা নবাবের আজ্ঞাবহ হয়েই থাকব ।”
কে, কার উদ্দেশ্যে কখন এ উক্তি করেছেন?
উত্তরঃ ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত বাক্যটি আধুনিক জীবনবোধ ও শিল্পচেতনায় পরিস্রুত সাহিত্যিক সিকানদার আবু জাফর ( ১৯১৮-৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক সিরাজ উ-দ্দৌলা (১৯৬৫) এর দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের অন্তর্গত ।
আলোচ্য উক্তিটি করেছেন অপচিত কিংবদন্তীর পুরুষ বিশ্বাসঘাতক ও প্রতারক মীর জাফর আলী খান। নবাব আলিবর্দী খাঁ এর মৃত্যু হলে বাংলার সিংহাসনে আসীন হন তারই সেহভাজন দৌহিত্র সিরাজ-উ-দ্দৌলা । কিন্তু সিরাজের সিংহাসন লাভকে কেউ-ই স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারেন নি । সিরাজের আত্মীয়- স্বজনসহ রাজ অমাত্যগণ সিরাজের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন । সিরাজ এই প্রাসাদ ষড়যন্ত্র সম্বন্ধে অবগত ছিলেন। মীরজাফর, রায়দুলর্ভ প্রমুখ সেনাপতিকে কয়েদ করে তিনি এই ষড়যন্ত্র নির্মূল করতে পারতেন । কিন্তু সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ দেখা দেয়ার আশঙ্কার তিনি তা করেন নি । তবে নবাব বিচক্ষণতার সাথে কৌশলে কার্য সিদ্ধির পথে অগ্রসর হন । তিনি সকল অমাত্যদের নিয়ে এক মন্ত্রণাসভার আয়োজন করেন। সে সভায় তিনি এক লবণ ব্যবসায়ীর উপর ইংরেজ অত্যাচারের নমুনা প্রদর্শন করে ইংরেজদের সমস্ত অত্যাচার নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেন । এক্ষেত্রে নবাবের লক্ষ্য ছিল, ষড়যন্ত্রকারী অমাত্যদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে তাদের সৎপথে ফিরিয়ে আনা । অতঃপর মীর জাফরসহ সকলেই নবাবের অনুগত থাকার অভিমত ব্যক্ত করেন । নবাব তাদেরকে সাবধান করেছেন যেনতারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে নবাবকে বিভ্রান্ত না করেন। এর জবাবেই মীর জাফর উচ্চারণ করেন- দেশের স্বার্থের জন্যে নিজেদের স্বার্থ তুচ্ছ করে আমরা নবাবের আজ্ঞাবহ হয়েই থাকব ।
বস্তুত এই উক্তির মধ্য দিয়ে নাট্যকার মীর জাফরের প্রতারক মনোভাবকেই উন্মোচন করেছেন।
প্রশ্ন-১৪। “ শুভ হোক আমার বাংলার জন্যে ।নিশ্চিন্ত হোক বাংলার প্রত্যেকটি নর- নারী।”
কার প্রার্থনা এটি ? কখন করেছেন ?
উত্তরঃ- প্রশ্নে উদ্বৃত বাক্যটি আধুনিক জীবনবোধ ও শিল্পচেতনায় পরিশ্রুত সাহিত্যিক সিকানদার আবু জাফর (১৯১৮-১৯৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক সিরাজ-উ-দ্দৌলা (১৯৬৫) এর চতুর্থ অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যের অন্তর্গত ।
আলোচ্য বাক্যগুলো বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলার প্রার্থনা । জাফর গঞ্জের কয়েদ খানায় বন্দী অবস্থায় বাংলার জনগণের কল্যাণার্থে তিনি প্রার্থনা করেন। পলাশীর প্রান্তরে পাতানো যুদ্ধে সিরাজ পরাজিত হন এবং পরবর্তীতে ইংরেজ বাহিনীর কাছে বন্দী হন । বন্দী সিরাজকে কয়েদ করা হয় জাফরগঞ্জের সিঃসীম অন্ধকার করা কক্ষে । নবাবকে হত্যা করার জন্য একদিন সেকানে প্রবেশ করে হায়নারুপী মীরন এবং অকৃতজ্ঞ নরঘাতক মোহাম্মদী বেগ । এই দুই নরঘাতক কেরা কক্ষে প্রবেশ করার সময় কিঞ্চিৎ পরিমাণ আলোও প্রবেশ করে । তা দেখে নবাব ভাবেন প্রভাত বুঝি হয়ে এলো। আর তখনই প্রজাদরদী নবাব মোনাজাতের ভঙ্গীতে পরম করুণাময়ের উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করেণ- শুভ হোক বাংলার জন্যে। নিশ্চিন্ত হোক বাংলার প্রতেকটি নর-নারী । আলহামদুলিল্লাহ । ”
বস্তুত উপনিবেশবাদের পোষক এবং ইংরেজদের খয়ের খাঁ শ্রেণীর ঐতিহাসিকগণ বাংলার নবাব সিরাজকে কলঙ্কিত করে অঙ্কন করলেও এই উচ্চারণের মধ্যদিয়ে সিরাজের জনদরদী ও প্রজাবৎসল স্বরুপকেই নাট্যকার উন্মোচন করেছেন।
প্রশ্ন: ১৫। আসামীর সে অধিকার থাকে না-কি? -কার উক্তি/কোন প্রসঙ্গে আলোচনা কর।
উত্তরঃ প্রশ্নে উদ্বৃত বাক্যটি আধুনিক জীবনবোধ ও শিল্পচেতনায় পরিস্রুত সাহিত্যিক সিকানদার আবু জাফর (১৯৮১-১৯৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক সিরাজ - উ-দ্দৌলা (১৯৬৫) এর চতুর্থ অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যের অন্তর্গত ।
আলোচ্য উক্তিটি করেন বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের পুত্র দুশ্চরিত্র মীরন । জাফরগঞ্জের কয়েদ খানার নবাব সিরাজ তাঁর মৃত্যুদন্ডাজ্ঞা দেখতে চাইলে মীরন উল্লিখিত উচ্চারণ করেন । পলাশীর প্রান্তরে পাতানো যুদ্ধে সিরাজ পরাজিত হন এবং পরবর্তীতে ইংরেজ বাহিনীর কাছে বন্দী হন। বন্দী সিরাজকে কয়েদ করা হয় জাফরগঞ্জের নিঃসীম অন্ধকার করা কক্ষে। নবাবকে হত্যা করার জন্য একদিন সেখানে প্রবেশ করে হায়নারুপী মীরন এবং অকৃতজ্ঞ নরঘাতক মোহাম্মদী বেগ। এই দুই নরঘাতক কারা কক্ষে প্রবেশ করার কিঞ্চিৎ পরিমাণ আলোও প্রবেশ করে । তা দেখে নবাব ভাবেন প্রভাত বুঝি হয়ে এলো । আর তখনই প্রজাদরদী নবাব মোনাজাতের ভঙ্গীতে পরম করুণাময়ের উদ্দেশ্যে প্রজাসাধারণের শুভ কামনা করেন । কিন্তু হঠাৎ সেকানে মীরন ও মোহাম্মদী বেগের উপস্থিতিতে তিনি চমকে উঠেন । তিনি জানতে চান কেন তারা করা কক্ষে প্রবেশ করেছে। এর জবাবে তারা বলেন যে, নবাবের তথা মীর জাফরের দন্ডাজ্ঞা শোনাতে তারা এখানে এসেছে । তখন সিরাজ দন্ডাজ্ঞা দেখতে চাইলে মীরন উচ্চারণ করে - আসামীর সে অধিকার থাকে নাকি ?
বস্তুত এই উক্তির অবতারণার মধ্যদিয়ে নাট্যকার সিরাজের প্রতি পক্ষের অন্যায় আচরণের স্বরুপকেই উন্মোচন করেছেন ।
প্রশ্ন- ১৬। “ ইনি কি নবাব, না ফকীর “- কে, কাকে উদ্দেশ্য করে কোন প্রসঙ্গে এ উক্তি করে ছিলো?
উত্তরঃ- প্রশ্নে উদ্বৃত বাক্যটি আধুনিক জীবনবোধ ও শিল্পচেতনায় পরিশ্রুত সাহিত্যিক সিকানদার আবুজাফর (১৯১৮-১৯৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক সিরাজ -উ-দ্দৌলা (১৯৬৫) এর চতুর্থ অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের অন্তর্গত ।
নব্য নবাব মীর জাফরকে উদ্দেশ্য করে রবার্ট ক্লাইভ আলোচ্য উক্তিটি করেন। সিংহাসনে না বসে সিংহাসনের হাতল ধরে দাড়িয়ে থাকলে তিনি উল্লিখিত উক্তি করেন। প্রতারকদের প্রতারণা আর বিশ্বাসঘাতকের বিশ্বাসঘাতকতায় পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ-উ-দ্দৌলার সৈন্য বাহিনীর পরাজয় ঘটে এবং পরবর্তীতে সিরাজ বন্দী হন । বাংলার সিংহাসনের উত্তরসুরী এখন মীর জাফর আলী খান। তার সিংহাসনে আহোরণের সকল বাধা অপসারিত। তার সিংহাসন আরোহণ সকল প্রস্তুতি সুসম্পন্ন হয়েছে। তারপরও তিনি সিংহাসনে বসছেন না। সিংহাসনের পাশে দাড়িয়ে আছেন কোম্পানীর প্রতিনিধি রবার্ট ক্লাইভের অপেক্ষায় । ক্লাইভ তাকে হাত ধরিয়ে বসিয়ে দিলে কেবল তিনি সিংহাসনে বসবেন, এটা তার একান্ত ইচ্ছ। কারণ, ক্লাইভের চাতুর্যের কারণেই তিনি আজ সুবে বাংলার নবাব। অতঃপর ক্লাইভ দরবারে আগমন করেন ক্লাইভ দরবারে প্রবেশ করেই দেখতে পান যে, মেরুদন্ডহীন মীর জাফর সিংহাসনের পাশে দাড়িয়ে আছেন । আর তখনই ক্লাইভ চরম বিদ্রুপের সাথে উচ্চারণ করেন-- “ ইনি কি নবাব না ফকীর?” বস্তুত এই উক্তির মধ্যদিয়ে ব্যক্তিত্বহীন পরতান্ত্রিক মীর জাফরের চরিত্রই নাট্যকার সুস্পষ্ট ভাবে উন্মোচন করেছেন ।
প্রশ্ন-১৭। “ সেখানে যদ্ধ হয়নি, হয়েছে যুদ্ধের অভিনয়”- কোন প্রসঙ্গে কার উক্তি? আলোচনা কর । অথবা
“ আবার যুদ্ধ হবে, আর সৈন্য পরিচালনা করব আমি নিজে ।” -কোন প্রসঙ্গে? কার উক্তি ?
উত্তর :- প্রশ্নে উদ্ধৃত বাক্যটি আধুনিক জীবনবোধ ও শিল্পচেতনায় পরিশ্রুত সাহিত্যিক সিকানদার আবু জাফর (১৯১৮-১৯৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক সিরাজ-উ-দ্দৌলা (১৯৬৫) এর তৃতীয় অঙ্কের চতুর্থ দৃশ্যের অন্তর্গত ।
আলোচ্য উক্তিটি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলার । পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে এবং সমবেত জনতাকে স্বদেশের স্বাধীনতা রক্ষায় উৎসাহ দানের জন্য তিনি এই উক্তি করেছিলেন ।
প্রতারকদের প্রতারণা আর বিশ্বাসঘাতকদের বিশ্বাসঘাতকতায় পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ-উ-দ্দৌলার সেনাবাহিনীর পরাজয় ঘটে। অতঃপর দেশপ্রেমিক সেনাপতি মোহনলালের পরামর্শে সিরাজ রাজধানী মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন দেশের স্বাধীনতা সুসংহত করার জন্য। সেই উদ্দেশ্যেই রাজদরবারে সাধারণ জনগণের সমাবেশ ঘটান । তিনি সমবেত জনতাকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এগিয়ে আসার আহবান জানান।তিনি তাদের কাছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার যৌক্তিকতাও বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন ক্লাইভ ও শীর জাফরের হাতে রাজধানীর পতন হবে জনগণের জীবনে নেমে আসবে অনন্ত আধাঁর । তাই দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে তাদেরকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে । তখন সমবেত জনতার পক্ষ থেকে এক ব্যক্তি বলেন তাদের তো সৈন্য পরিচালনার যোগ্য সেনাপতিও নেই কি দিয়ে তারা যুদ্ধ করবে। এক জবাবে নবাব সিরাজ বলেনযুদ্ধ তিনি নিজেই পরিচালনা করবেন । নবাব আলীবর্দীর আমল থেকেই তিনি বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং জয়লাভ করেছেন । কোথাও পরাজিত হননি । একমাত্র পলাশীতে পরাজিত হয়েছেন। কারণ- সেখানে যুদ্ধ হয়নি হয়েছে যুদ্ধের অভিনয় ।
বস্তুত এই উক্তির মধ্য দিয়ে নাট্যকার সিরাজের একনিষ্ট দেশপ্রেম এবং বীরত্বকেই উন্মোচন করেছেন ।
প্রশ্ন-১৮। বাংলার বুকে দাড়িয়ে বাঙ্গালির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার স্পর্ধা ইংরেজ পেলো কোথা থেকে, আমি তার কৈফিয়ৎ চাই। -কে, কাকে উদ্দেশ্য করে কেন এ উক্তি করেছিল ?
উত্তরঃ প্রশ্ন উদ্ধৃত বাক্যটি আধুনিক জীবনবোধ ও শিল্পচেতনায় পরিস্রুত সাহিত্যিক সিকানদার আবু জাফর (১৯১৮-১৯৭৫) রচিত ঐতিহাসিক নাটক সিরাজ-উ-দ্দৌলা (১৯৬৫) এর প্রথম,অঙ্কের প্রথম দৃশ্যের অন্তর্গত ।
ইংরেজ ডাক্তার হলয়েলকে উদ্দেশ্য করে নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলা আলোচ্য উক্তিটি করেন।
ইংরেজগণ নবাবের দেয়া শর্ত ভঙ্গ করে এদেশে বাণিজ্য অব্যাহত রাখে। শুধু তাই নয়, তারা এদেশের নিরীহ জনগণের উপরও নির্যাতন ও জুলুম চালাতে থাকে । নবাব এসমস্ত বিষয়ের প্রতি বিধান করার জন্য কলকতার দুর্গ আক্রমণ করেন এবং ইংরেজদের পরাস্ত করেন । অতঃপর ইংরেজ পক্ষের সেনাপতি হাতুড়ে ডাক্তার হলওয়েলের নিকট কৈফিয়ৎ চান কেন তারা এদেশের জনগণের উপর অত্যাচার জুলুম চালাচ্ছে, কেন তারা কাশিম বাজারে গোলাগোলি আমদানি করেছে। মোট কথা ইংরেজদের সকল প্রকার অন্যায় অত্যাচার নির্যাতন আর জুলুমকে স্মরণ রেখেই নবাব উচ্চারণ করেন - বাংলার বুকে দাড়িয়ে বাঙ্গালির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার স্পর্ধা ইংরেজ পেলো কোথা থেকে আমি তার কৈফিয়ৎ চাই।
বস্তুত এই উক্তির মধ্যদিয়ে একদিকে যেমন নবাবের দেশপ্রেম ও, স্বাজাত্য প্রীতি, ও প্রজাবৎসল প্রকাশ পেয়েছে তেমনি অন্যদিকে নবাবের মীরত্ব ও উন্মোচিত হয়েছে । বস্তুত এই উক্তির মধ্যদিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের লোভী মনোভাবের-ই-উন্মোচন ঘটেছে ।
+88 01713 211 910