
বাগধারা ও প্রবাদ প্রবচন, NTRCA বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা প্রস্তুতি
বাগধারা ও প্রবাদ প্রবচন
অ
১) অকাল কুষ্মান্ড (অপদার্থ, অকেজো) - অকাল কুষ্মান্ড ছেলেটার ওপর এ কাজের দায়িত্ব দিও না।
২) অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া) - অনেক রোগভোগের পর শয়তানটা শেষ পর্যন্ত অক্কা পেয়েছে।
৩) অগস্ত্য যাত্রা (চিরদিনের জন্য প্রস্থান) - ডাকাতি মামলার আসামি হওয়ায় করিম গ্রাম থেকে অগস্ত্য যাত্রা করেছে।
৪) অগাধ জলের মাছ (সুচতুর ব্যক্তি) - সরল মনে হলেও লোকটা আসলে অগাধ জলের মাছ।
৫) অর্ধচন্দ্র (গলা ধাক্কা) - শয়তানটাকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করে দাও।
৬) অন্ধের ষষ্ঠি (একমাত্র অবলম্বন) - বিধবার একমাত্র সন্তান তার অন্ধের ষষ্ঠি/অন্ধের নড়ি।
অন্ধের নড়ি
৭) অগ্নিশর্মা (নিরতিশয় ক্রুদ্ধ ) - তিনি ক্রোধে অগ্নিশর্মা হলেন।
৮) অগ্নিপরীক্ষা (কঠিন পরীক্ষা) - জাতিকে এ অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেই হবে, ভয় পেলে চলবে না।
৯) অন্ধকারে ঢিল মারা ( আন্দাজে কাজ করা) - অন্ধকারে ঢিল মেরে সব কাজ ঠিক ভাবে করা যায় না।
১০) অকূল পাথার( ভীষণ বিপদ) - অকূল পাথারে আল্লাহ্ই একমাত্র সহায়।
১১) অনুরোধে ঢেঁকি গলা (অনুরোধে দুরূহ
১২) কাজ সম্পন্ন করতে সম্মতি জ্ঞাপন) - অনুরোধ ঢেঁকি গেলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, আমি এ কাজ করতে পারব না।
১৩) অদৃষ্টের পরিহাস (ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা ) - অদৃষ্টের পরিহাসে রাজাও ভিখারি হয়।
১৪) অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী ( সামান্য বিদ্যার অহংকার)- কিছুই জানে না, আবার দেমাক কত - অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী আর কি ।
১৫) অনধিকার চর্চা ( সীমার বাইরে পদক্ষেপ) - কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আমি অনধিকার চর্চা করি না।
১৬) অরণ্যে রোদন (নিষ্ফল আবেদন) - কৃপণের নিকট চাঁদা চাওয়া অরণ্যে রোদন মাত্র।
১৭) অহিনকুল সম্বন্ধ ( ভীষণ শত্রæতা) - দ্ভুাইয়ের মধ্যে অহিনকুল সম্বন্ধ দাঁড়িয়েছে।
১৮) অন্ধকার দেখা ( দিশেহারা হয়ে পড়া) - এ বিপদে আমি যে সব অন্ধকার দেখছি।
১৯) অমাবস্যার চাঁদ (দুর্লভ বস্তু) - তোমার দেখা পাওয়াই ভার, অমাবস্যার চাঁদ হয়ে পড়েছ।
আ
২০) আকাশ কুসুম ( অসম্ভব কল্পনা ) - মূর্খরাই আকাশ কুসুম চিন্তা করে।
২১) আকাশ পাতাল (প্রচুর ব্যবধান) - ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে আকাশ পাতাল প্রভেদ।
২২) আক্কেল সেলামি (নির্বুদ্ধিতারদন্ড) - বিনা টিকেটে রেলগাড়িতে চড়ে আক্কেল সেলামি দিতে হলো।
২৩) আঙুল ফুলে কলাগাছ (হঠাৎ বড়লোক) - যুদ্ধের বাজারে দেদার টাকা পয়সা কামাই করে অনেকেই আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে।
২৪) আকশের চাঁদ হাতে পাওয়া ( দুর্লভ বস্তু প্রাপ্তি)- হারানো ছেলেকে ফিরে পেয়ে বাপ-মা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন।
২৫) আদায় কাঁচকলায় (শত্রুতা) - তার সঙ্গে আমার আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক , সে আমার দুশমন।
২৬) আদা জল খেয়ে লাগা ( প্রাণপণ চেষ্টা করা) - কাজটি শেষ করার জন্য সে আদা জল খেয়ে লেগেছে।
২৭) আক্কেল গুড়ম (হতবুদ্ধি, স্তম্ভিত) - ইঁচড়ে পাকা ছেলেটার কথা শুনে আমার আক্কেল গুড়ম।
২৮) আমড়া কাঠের ঢেঁকি (অপদার্থ) - ও হচ্ছে ধনীর দুলাল, আমড়া কাঠের ঢেঁকি, ওকে দিয়ে কিছুই হবে না।
২৯) আকাশ ভেঙে পড়া ( ভীষণ বিপদে পড়া)- ব্যাংক ফেল করেছে শুনে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল।
৩০) আমতা আমতা করা (ইতস্তত করা, দ্বিধা করা)- আমতা আমতা না করে স্পষ্ট কথায় দোষ স্বীকার কর।
৩১) আটকপালে (হতভাগ্য) - ছেলেটা এতিম, আটকপালে।
৩২) আঠার মাসে বছর ( দীর্ঘসূত্রতা) - তোমার তো আঠার মাসে বছর, কোনো কাজই তাড়াতাড়ি করতে পার না।
৩৩) আলালের ঘরের দুলাল (অতি আদরের নষ্ট পুত্র)- বড়লোকের ঘরে দু-একজন আলালের ঘরের দুলাল মিলবেই।
৩৪) আকাশে তোলা ( অতিরিক্ত প্রশংসা করা)- চাটুকাররা ধনী ব্যক্তিদের কথায় কথায় আকাশে তোলে।
৩৫) আষাঢ়ে গল্প (আজগুবি কেচ্ছা) - চাঁদে যাওয়ার কথাটা একসময় ছিল আষাঢ়ের গল্প।
ই, উ, এ
৩৬) ইঁদুর কপালে ( নিতান্ত মন্দ ভাগ্য ) - আমার মতো ইঁদুর কপালে লোকের দাম এক কানাকড়িও না।
৩৭) ইঁচড়ে পাকা ( অকালপক্ব) - অতবড় মানুষটার সাথে তর্ক করছে, কী ইঁচড়ে পাকা ছেলে বাবা।
৩৮) ইতর বিশেষ (পার্থক্য ) - সৃষ্টিকর্তার নিকট সব মানুষই সমান, ইতর বিশেষ নেই।
৩৯) উত্তম মধ্যম (প্রহার, পিটুনি) - গৃহস্থ চোরটাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দিল।
৪০) উড়নচন্ডী (অমিতব্যয়ী) - এমন উড়নচন্ডী হলে দুদিনে টাকাকড়ি সব শেষ হবে।
৪১) উভয় সংকট( সবদিকে বিপদ) - ‘ শাখের করাত’ দেখ।
৪২) উলুবনে মুক্ত ছড়ানো (অস্থানে মূল্যবান দ্রব্য প্রদান)- তাকে সদুপদেশ দান, উলুবনে মুক্ত ছড়ানোর মতোই নিষ্ফল।
৪৩) উড়োচিঠি ( বেনামি পত্র) - ডাকাতরা জমিদার বাড়িতে উড়োচিঠি দিয়ে ডাকাতি করেছিল।
৪৪) উড়ে এসে জুড়ে বসা ( অনধিকারীর অধিকার)- লোকটার মাতব্বরি দেখলে গা জ্বলে যায়। ও এখানকার লোক নয়, উড়ে এসে জুড়ে বসেছে।
৪৫) একক্ষুরে মাথা মুড়ানো ( একই স্বভাবের)- সকলেই একক্ষুরে মাথা মুড়িয়েছে দেখছি, পরীক্ষায় সবাই ফেল করেছে।
৪৬) একচোখা ( পক্ষপাতিত্ব, পক্ষপাতদুষ্ট) - একচোখা লোকের কাছে সুবিচার পাওয়া যায় না।
৪৭) এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ একবারই আসে না)- আমাকে ফাঁকি দিলে, মনে রেখো, এক মাঘে শীত যায় না।
৪৮) এলোপাতাড়ি (বিশৃঙখলা) - এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়লে শত্রæদলের ক্ষতি করতে পারবে না।
৪৯) এসপার ওসপার ( মীমাংসা) - চুপ করে থেকে লাভ কী, এসপার ওসপার একটা করে ফেল।
৫০) একাদশে বৃহস্পতি ( সৌভাগ্যের বিষয়)- এখন তার একাদশে বৃহস্পতি, দুলোমুঠোও সোনামুঠো হচ্ছে।
৫১) এলাহি কান্ড ( বিরাট আয়োজন) - বড় বাড়িতে বিয়ে, সেতো এক এলাহি কান্ড হবে।
ক
৫২) কলুর বলদ ( একটানা খাটুনি) - কলুর বলদের মতো সংসারের চাকায় ঘুরে মরছি।
৫৩) কথার কথা ( গুরুত্বহীন কথা) - কারও মনে আঘাত দেওয়ার জন্য একথা বলি নি, এটা একটা কথার কথা।
৫৪) কপাল ফেরা ( সৌভাগ্য লাভ) - লটারির টিকেট কিনে সে তার কপাল ফেরাতে চায়।
৫৫) কত ধানে কত চাল ( হিসাব করে চলা) - নিজেকে তো আর উপার্জন করতে হয় না, কত ধানে কত চাল হয় বুঝবে কেমন করে।
৫৬) কড়ায় গন্ডায় ( সম্পূর্ণ , পুরোপুরি) - সে কড়ায় গÐায় তার পাওনা বুঝে নিল।
৫৭) কান খাড়া করা ( মনোযোগী হওয়া) - আমি কী বলি তা শোনার জন্য সে কান খাড়া করে রইল।
৫৮) কাঁচা পয়সা ( নগদ উপার্জন) - কাঁচা পয়সা পাও কি না, তাই খরচ করতে বাধে না।
৫৯) কাঁঠালের আমসত্ত¡ (অসম্ভব বস্তু) - ঐ হাড়কিপ্টে করবে দান, কাঁঠালের আমসত্ত¡ আর কি ।
৬০) কূপমন্ডুক ( ঘরকুনো, সীমাবদ্ধ জ্ঞান সম্পন্ন) - তুমি তো কূপমন্ডুক, ‘ ঘরে হৈতে আঙিগনা বিদের্শ।’
৬১) কেতাদুরস্ত ( পরিপাটি) - কথাবার্তায়, পোষাকপরিচ্ছদে কেতাদুরস্ত হলেও সে অন্তঃসারশূন্য।
৬২) কাঠের পুতুল (নির্জীব, অসার) - রাজা কাঠের পুতুলের মতো সিংহাসনে বসেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীই দেশ শাসন করতেন।
৬৩) কথায় চিঁড়ে ভেজা (ফাঁকা বুলিতে কার্যসাধন) - কাজটি করাতে হলে নগদ কিছু ঢাল, শুধু কথায় চিঁড়ে ভেজে না।
৬৪) কান পাতলা ( সহজেই বিশ্বাসপ্রবণ) - কান পাতলা লোকের অধীনে কাজ করা কঠিন।
৬৫) কাছা ঢিলা ( অসাবধান) - কাছা ঢিলা লোককে কোনো বড় দায়িত্ব দিতে নেই।
৬৬) কুলকাঠের আগুন ( তীব্র জ্বালা) - তোমার কথার খোঁচায় আমার সারা দেহে কুলকাঠের আগুন জ্বলছে।
৬৭) কেঁচো খুঁড়তে সাপ (সামান্য থেকে অসামান্য পরিস্থিতি)- ব্যাপারটি নিয়ে বেশি নাড়াচাড়া করলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোবে।
৬৮) কেউকেটা ( সামান্য) - ও একেবারে কেউকেটা লোক নয়, ওর সঙ্গে লাগাতে যেও না।
৬৯) কেঁচে গন্ডুস ( পুনরায় আরম্ভ) - সবটাই ভুল হয়েছে, আবার কেঁচে গন্ডুস করতে হবে দেখছি।
৭০) কৈ মাছের প্রাণ ( যা সহজে মরে না) - লোকটা এত অত্যাচারেও মরে নি, কৈ মাছের প্রাণ দেখছি।
খ গ ঘ
৭১) খয়ের খাঁ ( চাটুকার) - তুমি তো বড় সাহেবের খয়ের খাঁ, তিনি যা বলেন তুমি তাই বল।
৭২) খন্ড প্রলয় ( তুমুল কান্ড) - সামান্য ঘটনা থেকে এমন খন্ড প্রলয় হবে ভাবি নি।
৭৩) গড্ডালিকা প্রবাহ ( অন্ধ অনুকরণ) - গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেয়, আমি তাদের দলে নেই।
৭৪) গদাই লষ্করি চাল ( আলসেমি) - এমন গদাই লস্করি চালে চললে ট্টেন ফেল করবে।
৭৫) গণেশ উল্টানো ( উঠে যাওয়া, ফেল মারা)- কর্মচারীদের চুরির ফলে দোকানটা গণেশ উল্টিয়েছে।
৭৬) গলগ্রহ ( পরের বোঝাস্বরুপ থাকা) - কারো গলগ্রহ হয়ে থাকা যে কী কষ্ট, তা আমার বিলক্ষণ জানা আছে।
৭৭) গোঁয়ার গোবিন্দ (নির্বোধ অথচ হঠকারী)- সে যেমন জেদি তেমনি রাগী, তার মতো গোঁয়ার গোবিন্দকে নিয়ে পথ চলা যায়না।
৭৮) গোল্লায় যাওয়া ( নষ্ট হওয়া, অধঃপাতে যাওয়া)- কুসঙ্গে পড়ে ছেলেটা গোল্লায় গেছে।
৭৯) গোবর গণেশ ( মূর্খ- ) -ছেলেটা একেবারে গোবর গণেশ।
৮০) গাছে তুলে মই কাড়া ( আশা দিয়ে আশ্বাস ভঙ্গ করা)- আমাকে এগিয়ে দিয়ে সরে পড়েছ, একেই বলে গাছে তুলে মই কাড়া।
৮১) গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো ( কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করা)- গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ালে সংসার চলবে কেমন করে ?
৮২) গোঁফ খেজুরে (নিতান্ত অলস) - গোঁফ খেজুরে লোক দিয়ে কোনো কাজই হয় না।
৮৩) গোড়ায় গলদ ( শুরুতে ভুল) - অঙ্ক মিলবে কেমন করে ? গোড়াতেই তো গলদ।
৮৪) গুড়ে বালি ( আশায় নৈরাশ্য) - আশা করেছিলাম মামার সম্পত্তি পাব, এখন দেখছি সে গুড়ে বালি।
৮৫) ঘর ভাঙানো (সংসার বিনষ্ট করা) - তোমার মতো ঘর ভাঙানো বৌ আর দেখি নি।
৮৬) ঘাটের মড়া ( অতি বৃদ্ধ) - টাকার লোভে ঘাটের মড়ার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিও না।
৮৭) ঘোড়ারোগ (সাধ্যের অতিরিক্ত সাধ) - মাসে তিন হাজার টাকা মাইলে পেয়ে গাড়ি কিনতে চাও, একেই বলে গরিবের ঘোড়ারোগ।
৮৮) ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া ( মধ্যবর্তীকে অতিক্্রম করে কাজ করা) - বড় বাবুকে না জানিয়ে বড় সাহেবকে বলা, ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার মতো।
চ ছ জ ঝ
৮৯) চক্ষুদান করা ( চুরি করা) - কে আমার কলমটার চক্ষুদান করল ?
৯০) চাঁদের হাট ( আনন্দের প্রাচুর্য) - ধনেজনে চৌধুরী সাহেবের সংসার যেন চাঁদের হাট।
৯১) চিনির বলদ ( ভারবাহী কি ফল লাভের অংশীদার নয়)- সংসারে চিনির বলদের মতো খেটে মরছি, কিছুই পাই না।
৯২) চোখের বালি (চক্ষুশূল) - বখাটে ছেলেটা সকলের চোখের বালি।
৯৩) চোখের পর্দা ( লজ্জা) - তোমার দেখছি চোখের পর্দা নেই, কেমন করে এ কাজ করলে ?
৯৪) ছকড়া নকড়া ( সস্তা দর) - নিলামের মাল, তাই ছকড়া নকড়ায় বিক্্ির হয়ে গেল।
৯৫) ছাপোষা ( অত্যন্ত গরিব) - আমার মতো ছাপোষা লোকের কোনো শখ থাকতে নেই।
৯৬) ছিনিমিনি খেলা ( নষ্ট করা) - পরের টাকায় ছিনিমিনি খেলতে লজ্জা করল না ?
৯৭) ছেলের হাতের মোয়া ( সহজলভ্য বস্তু) - রতœহার ছেলের হাতের মোয়া নয় যে চাইলেই পাবে।
৯৮) জগাখিচুড়ি পাকানো ( গোলমাল বাধানো) - ব্যাপারটা জগাখিচুড়ি পাকিয়ে সে সরে পড়ল।
৯৯) জিলাপির প্যাঁচ (কুটিলতা) - ভালোমানুষ মনে হলেও তার ভেতরে রয়েছে জিলাপির প্যাঁচ।
১০০) ঝোপ বুঝে কোপ মারা ( সুযোগ মতো কাজ করা) - ঝোপ বুঝে কোপ মারতে পেরেছে বলেই সে কৃতকার্য হয়েছে।
ট ঠ ড ঢ
১০১) টনক নড়া ( চৈতন্যোদয় হওয়া/ বুঝে ওঠা) - ব্যবসায় ক্ষতি হতেই তার টনক নড়ল।
১০২) ঠাট বজায় রাখা ( অভাব চাপা রাখা) - অভাবে পড়লেও তিনি ঠাট বজায় রেখে চলেছেন।
১০৩) ঠোঁটকাটা ( বেহায়া) - তোমার মতো ঠোঁট কাটা ছেলে আর দেখি নি, মুখের ওপর এ কথা বললে।
১০৪) ডুমুরের ফুল - ‘অমাবস্যার চাঁদ’ দেখ।
১০৫) ঢাক ঢাক গুড় গুড় ( গোপন রাখার চেষ্টা) - ঢাক ঢাক গুড় গুড় করে লাভ কী, ব্যাপারটা খুলে বল।
১০৬) ঢাকের কাঠি ( মোসাহেব) - ‘খয়ের খা’ দেখ।
ত থ দ ধ ন
১০৭) তালকানা ( বেতাল হওয়া) - চোখে চশমা, আর চশমা খুঁজে বেড়াচ্ছে, আচ্ছা তালকানা লোক।
১০৮) তাসের ঘর ( ক্ষণস্থায়ী বস্তু) - ঠুনকো বন্ধুত্ব স্বার্থের সামান্য আঘাতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে যায়।
১০৯) তামার বিষ ( অর্থের কু প্রভাব) - হঠাৎ বড় লোক কি না, তাই তামার বিষে বিবেকহীন হয়ে পড়েছ।
১১০) থ বনে যাওয়া ( স্তম্ভিত হওয়া) - তোমার কান্ড দেখে আমি তো থ বনে গেলাম।
১১১) দা-কুমড়া - ‘অহিনকুল’ দ্রষ্টব্য।
১১২) দহরম মহরম ( ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক) - সাহেবের সাথে তোমার যখন এত দহরম মহরম, তখন কাজটা করিয়ে দাও ভাই।
১১৩) দুমুখো সাপ ( দুজনকে দুরকম কথা বলে
পরস্পরের মধ্যে শত্রæতা সৃষ্টিকারী) - লোকটা একটা দুমুখো সাপ; আমাদের দুজনকে দুরকম কথা বলে দুজনের মধ্যে শত্রæতা সৃষ্টি করেছে।
১১৪) দুধের মাছি ( সুসময়ের বন্ধু) - সুদিনে যে দুধের মাছি, দুর্দিনে তার সাক্ষাৎ মেলে না।
১১৫) ধরাকে সরা জ্ঞান করা ( সকলকে তুচ্ছ ভাবা) - বড়লোক হয়েছ বলে ধরাকে সরা জ্ঞান করো না।
১১৬) ধরি মাছ না ছুঁই পানি ( কৌশলে কার্যোদ্ধার) - এ ব্যাপারে আমার ভূমিকা হবে ধরি মাছ না ছুঁই পানি।
১১৭) ননীর পুতুল ( শ্রমবিমুখ) - ছেলেটি একেবারে ননীর পুতুল, একটু পরিশ্রমেই হাঁফিয়ে ওঠে।
১১৮) নয়ছয় (অপচয়) - সে বাড়ি বিক্্িরর টাকাগুলো নয়ছয় করে ফেলল।
১১৯) নেই আঁকড়া ( একগুঁয়ে) - এমন নেই আঁকড়া ছেলে আর তো দেখি নি বাবা যা বলবে তাই !
প ফ ব ভ ম
১২০) পটল তোলা ( অক্কা পাওয়া) - শয়তানটা পটল তুলেছে, এবার গাঁয়ের লোকের হাড় জুড়াবে।
১২১) পালের গোদা ( দলপতি) - পুলিশ পালের গোদাকে ধরতে পারি নি, সাধারণ মানুষের হাতে হাতকড়া পরিয়েছে।
১২২) পুকুরচুরি ( বড় রকমের চুরি) - কিছু কর্মচারী পুকুরচুরি করে প্রতিষ্ঠানে লালবাতি জ্বালিয়েছে।
১২৩) ফপর দালালি ( অতিরিক্ত চালবাজি) - সবখানে ফপর দালালি চলে না, জায়গা বুঝে কাজ করতে হয়।
১২৪) ফোড়ন দেওয়া বিড়াল তপস্বী (ভন্ড সাধু) - মুখে ধর্মের কথা বললেও লোকটা আসলে বক ধার্মিক।
১২৫) বর্ণচোরা ( কপট ব্যক্তি) - লোকটা বর্ণচোরা, তার আসল রুপ ধরা যায় না।
১২৬) বালির বাঁধ ( অস্থায়ী বস্তু) - ‘বড়র পিরিত যেন বালির বাঁধ।’
১২৭) বাঁ হাতের ব্যাপার ( ঘুষ গ্রহণ) - এ অফিসের কিছু কর্মচারী বাঁ হাতের ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত।
১২৮) বাঘের দুধ/চোখ (দুঃসাধ্য বস্তু) - টাকায় বাঘের দুধ মেলে।
১২৯) বিসমিল্লায় গলদ - ‘ গোড়ায় গলদ’ দ্রষ্টব্য।
১৩০) বুদ্ধির ঢেকি (নিরেট মূর্খ) - ‘হুঁকাটি বাড়ায়ে রয়েছে দাঁড়িয়ে বেটা বুদ্ধির ঢেঁকি।’
১৩১) ব্যাঙের সর্দি ( অসম্ভব ঘটনা) - জেলের বাস্তু ঘুঘুকে দেকাচ্ছে জেলের ভয়, ব্যাঙের আবার সর্দি।
১৩২) ব্যাঙের আধুলি ( সামান্য সম্পদ) - এই সামান্য কটা টাকা ব্যাঙের আধুলি আর কি ।
১৩৩) ভরাডুবি ( সর্বনাশ) - আমি কারো ভরাডুবি করি নি যে সবাই আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।
১৩৪) ভূতের ব্যাগার (অযথা শ্রম) - জীবনভর ভূতের ব্যাগার খেটে গেলাম, লাভ কিছুই হলো না।
১৩৫) ভিজে বিড়াল ( কপটচারী) - সমাজের ভিজে বেড়ালদের চেনা সহজ নয়।
১৩৬) ভূশন্ডির কাক্ (দীর্ঘজীবী) - স্ত্রী, পুত্র, কন্যা- সবার মৃত্যুর পরও বৃদ্ধ ভূশন্ডির কাকের মতো বেঁচে আছে।
১৩৭) মগের মুল্লুক ( অরাজক দেশ) - এটা কি মগের মুল্লুক পেয়েছ যে যা খুশি তাই করবে ?
১৩৮) মণিকাঞ্চন যোগ (উপযুক্ত মিলন) - যেমন বর , তেমনি কনে, একেবারে মণিকাঞ্চন যোগ।
১৩৯) মন না মতি ( অস্থির মানব মন) - মানুষের মন তো বদলেই থাকে; কথায় বলে- ‘মন না মতি’।
১৪০) মাছের মায়ের পুত্রশোক (কপট বেদনাবোধ) - নিজের পুত্রের মৃত্যুতে একফোঁটা চোখের পানি পড়ল না, এ যে মাছের মায়ের পুত্রশোক।
১৪১) মিছরির ছুরি (মুখেমধু অন্তরে বিষ) - শুনতে মধুর হলেও তার কথাগুলো মিছরির ছুরির মতো অন্তরকে বিদ্ধ করে।
র শ স হ
১৪২) যক্ষের ধন (কৃপণের কড়ি) - যক্ষের ধনের মতো সে তার টাকাকড়ি আগলে আছে, এক পয়সাও দান করে না।
১৪৩) রাঘব বোয়াল( সর্বগ্রাসী ক্ষমতাসীন ব্যক্তি) - সমাজপতিরা রাঘব বোয়াল হয়ে গরিবের সর্বনাশ করে।
১৪৪) রাবণের চিতা ( চির অশান্তি) - ‘ রাবণের চিতাসম জ্বলিছে হৃদয় মম।’
১৪৫) রাশভারি ( গম্ভীর প্রকৃতির) - আমাদের বড় সাহেব খুব রাশভারি লোক, তাঁর সাথে বুঝেসুঝে কথা বলো।
১৪৬) রুই-কাতলা ( পদস্থ বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি) - দেশের সুযোগ সুবিধা রুই-কাতলারাই বেশি ভোগ করে।
১৪৭) লেফাফা দুরস্ত ( বাইরের ঠাট বজায় রেখে চলেন যিনি)- এই লেফাফা দুরস্ত লোকটিকে দেখে কি মনে হয় যে, ইনি কর্পদকশূন্য ?
১৪৮) শাঁখের করাত (উভয় সংকট) - সত্যকথা বললে বাবার ক্ষতি, আবার মিথ্যাকথা বললে মায়ের ক্ষতি, আমার হয়েছে শাঁখের করাতের অবস্থা।
১৪৯) শাপে বর ( অনিষ্টে ইষ্ট লাভ) - আমাকে ফেলে যাওয়ায় আমার রোজগার হলো হাজার টাকা- একই বলে শাপে বর।
১৫০) সোনায় সোহাগা - ‘মণি কাষ্ণন যোগ’ দ্রষ্টব্য।
১৫১) সাক্ষী গোপাল ( নিষ্ক্রিয় দর্শক) - তোমাদের এই পারিবারিক কলহে আমার সাক্ষী গোপাল হওয়া ছাড়া উপায় নেই।
১৫২) হাটে হাঁড়ি ভাঙা ( গোপন কথা প্রকাশ করা) - আমাকেঘাঁটিও না বলছি, তা হলে আমি হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেব।
১৫৩) হাতটান ( চুরির অভ্যাস) - দামি জিনিসপত্র সাবধানে রেখ, ছেলেটার হাতটান অভ্যাস আছে।
১৫৪) হাড় হাভাতে (হতভাগ্য) - সব হারিয়ে ছেলেটি একেবারে হাড় হাভাতে এর কিছু হবে না।
১৫৫) হালে পানি পাওয়া ( সুবিধা করা) - ব্যবসায় অনেক চেষ্টাই তো করলাম, কিন্তু হালে পানি পেলাম না।
ড. এ. আই. এম. মুসা
অধ্যাপক, বাংলা
-০-
+88 01713 211 910