
এইচএসসি, ভোগে সুখ নাই, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ
ভোগে সুখ নাই, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ
যথার্থ মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষের পরিচয় তার ভোগ-লালসার মাধ্যমের প্রকাশ পায় না, পরের জন্য ত্যাগের মধ্যেই মানুষের প্রকৃত সুখ নিহিত। নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে যে সুখ তার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব অমৃত সুধা।
ষড়রিপুর (কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য) প্রবল পরাক্রমে মানুষ আত্মসুখে নিমগ্ন হয়। স্বার্থমগ্ন মানুষেরা ভোগবিলাসের মাধ্যমে পরিতৃপ্তি পেতে চায়। এতে মানুষের লালসা দিন দিন বাড়তে থাকে। ভোগে শুধু আসক্তিই বাড়ে। মানুষ ক্রমে ক্রমে লালসার গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। আত্মতৃপ্তিতে, ভোগে সত্যিকারের লাবণ্য নেই। কারণ, ভোগে মানুষকে ত্যাগী হওয়ার পরিবর্তে অহংকারী হতে শেখায়। মানুষকে আলো ঝলমল জগৎ থেকে অমানিশার জগতের দিকে ধাবিত করে। সে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে পঙ্কিলতার সাথে, গ্লানির সাথে এবং কালিমার সাথে। জীবন চলার বিস্তীর্ণ পথের পরিবর্তে সংকীর্ণ কানা গলিতে সে হাবুডুবু খেতে থাকে। তাদের দিয়ে সমাজের কোন উপকার সম্ভব নয়। অপরদিকে শ্রেষ্ঠ মনুষ্য চরিত্রে পরিচয় পাওয়া যায় তার ত্যাগের মধ্যে। নিজের স্বার্থ বড় বলে বিবেচনা না করে পরের উপকারের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে যথার্থ মহানুভবতার পরিচয় দেয়। ত্যাগ মানুষকে বিরাট হৃদয়ের অধিকারী করে। তাই যে যত বেশি ত্যাগ করতে পারে সে তত বিরাট হৃদয়ের অধিকারী হওয়ার যোগ্যতা রাখে। ত্যাগী মানুষ নিজের সুখ অন্যের সাথে ভাগ করে নেয়, অন্যের দুঃখে দুখ অনুভব করে। কবির কণ্ঠেও তাই নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে পরের জন্য কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি, এ জীবন মন সকলি দাও
তার মত সুখ কোথাও কি আছে, আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
পৃথিবীর সকল মানুষ যদি নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যের স্বার্থ নিয়ে ভাবে তাহলে আমাদের এই মাটির পৃথিবীও হয়ে উঠতে পারে স্বর্গের সমান। আমাদের মনুষ্যত্বের যথার্থ বিকাশের জন্য আমাদের ভোগী হবার পরিবর্তে ত্যাগী হওয়া উচিত।
+88 01713 211 910