
সংলাপ ও ক্ষুদে গল্প রচনা : এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬
সংলাপ ও ক্ষুদে গল্প রচনা : এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬
প্রশ্ন ১ : বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
(ঢাবো-১৬, যবো-১৭)
অথবা, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে দুই বন্ধুর মধ্যে নিচে একটি সংলাপ উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তন অথবা বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা।
স্বস্তিকা : শুভ সকাল সৃষ্টি, তোমরা কেমন আছ?
সৃষ্টি : শুভ সকাল বন্ধু। আমরা ভালো। তুমি কেমন আছ?
স্বস্তিকা : আমি ভালো। কিন্তু তোমাকে একটু চিন্তিত মনে হচ্ছে? কী হয়েছে?
সৃষ্টি : চিন্তিত অবশ্যই, মনটাও খারাপ হয়ে গেল।
স্বস্তিকা : কেন? কী হয়েছে?
সৃষ্টি : আজ সকালে বৈশ্বিক উষ্ণতা বিষয়ে একটি বই পড়ে শেষ করলাম।
স্বস্তিকা : বইটিতে কী আছে?
সৃষ্টি : বইটিতে বাংলাদেশের জন্য বিপদ সংকেত আছে।
স্বস্তিকা : কেমন?
সৃষ্টি : আমরা পৃথিবীর সমস্ত মানুষ মিলে প্রকৃতির উপর যে অত্যাচার করেছি, তা যদি অব্যহত থাকে তবে বাংলাদেশের মতো অনেক দেশেই ব্যাপক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে।
স্বস্তিকা : পৃথিবীর আবহাওয়া উষ্ণ হবে, বন্যা বাড়বে আবার খরাও হবে।
সৃষ্টি : হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছ। কিন্তু তুমি এগুলো জানলে কী করে?
স্বস্তিকা : পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি। কিন্তু বিস্তারিত নয়। বিস্তারিত তোমার কাছে জানতে চাই।
সৃষ্টি : এই অবস্থা যদি চলতে থাকে তবে পৃথিবী মরুভূমিতে পরিণত হবে। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাবে। আমাদের মতো উপকূলবর্তী দেশ সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
স্বস্তিকা : এই অবস্থার জন্য দায়ী কে?
সৃষ্টি : দায়ী সবাই কিন্তু মূলত দায়ী উন্নত বিশ্ব। এদের সৃষ্ট সিএফসি গ্যাসের কারণেই আমাদের বৈশ্বিক আবহাওয়াকে খারাপ করছে।
স্বস্তিকা : পৃথিবীর আবহাওয়া উষ্ণ হবে, বন্যা বাড়বে আবার খরাও হবে।
সৃষ্টি : হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছ। এমনও হতে পারে যে, বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ সমুদ্র গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।
স্বস্তিকা : এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?
সৃষ্টি : উপায় হলো- ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপণ। বৃক্ষের পরিমাণ বাড়লেই বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমে আসবে। বায়ু আর উত্তপ্ত হবে না।
স্বস্তিকা : সাথে সাথে সিএফসি নির্গমণও কমাতে হবে। এই জন্য অবশ্য সারা বিশ্বে আন্দোলন তৈরি হয়েছে।
সৃষ্টি : আমাদের দেশেও বৃক্ষরোপণকে জনপ্রিয় করতে হবে।
স্বস্তিকা : তুমি হয় তো পত্রিকায় দেখে থাকবে রংপুর জেলার তারাগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে এক ঘণ্টায় আড়াই লক্ষ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।
সৃষ্টি : হ্যাঁ, আমি দেখেছি পত্রিকায়। বিষয়টি আমাকে খুব উদীপ্ত করেছে। সারা দেশে এরকম উদ্যোগ নিলে সবুজ বাংলাদেশ আরো সবুজ হয়ে যাবে।
স্বস্তিকা : চল আমরা এমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করি। বাংলাদেশসহ সমস্ত পৃথিবীকে রক্ষা করি।
সৃষ্টি : অবশ্যই। চল পড়তে বসি, আগামীকাল বাংলা পরীক্ষা আছে।
স্বস্তিকা : চল। আল্লাহ হাফেজ।
সৃষ্টি : আল্লাহ হাফেজ।
প্রশ্ন ২ : উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর। (সিবো-১৬)
উত্তর: উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ
জিনিয়া : শুভ সন্ধ্যা সুদেষ্ণা, তুমি কেমন আছ?
সুদেষ্ণা : শুভ সন্ধ্যা জিনিয়া । আমি ভালো। তুমি কেমন আছ?
জিনিয়া : আমিও ভালো আছি। আমি তোমার ভালো ফলাফলে আনন্দিত
হয়েছি। ভবিষ্যতে তুমি কী করবে এই বিষয়ে
কি কিছু ভেবেছো?
সুদেষ্ণা : আমি ইতোমধ্যে স্থির করেছি যে, আমি প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার
সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত পৌঁছাবো।
জিনিয়া : ঠিক বুঝলাম না।
সুদেষ্ণা : আমি বিএড, এমএড করব এবং পিএইচডিও করব। এবং আমি একজন শিক্ষক হব। সমাজ থেকে অশিক্ষা, অজ্ঞতা দূর করে দেব এবং অগণিত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবতাবোধ ও ইতিবাচক জীবনবোধ ছাড়িয়ে দেব।
জিনিয়া : খুব ভালো। এটি একটি মহৎ কাজ কিন্তু এর বাস্তবায়ন খুব কঠিন।
সুদেষ্ণা : মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। আমি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বাংলা বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেব। তারপর বিএড- এমএড ট্রেনিং শেষ করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করব।
জিনিয়া : এত বিষয় থাকতে তুমি বাংলায় শিক্ষক হতে চাও কেন?
সুদেষ্ণা : প্রথমত, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। তাছাড়াও আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারে না। বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় বাংলায় খারাপ রেজাল্ট করে। সবচেয়ে বড় কারণ হল বাংলা আমার প্রিয় বিষয়।
জিনিয়া : তা বুঝলাম বাংলা ভাষার প্রতি তোমার বিশেষ টান আছে। কিন্তু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাও কেন? তারপর আবার পিএইচডি করে?
সুদেষ্ণা : এই জন্য চাই যে, সর্বোচ্চ ডিগ্রি থাকলে আমাকে কেউ ছোট করে দেখতে পারবে না। আমার প্রতি সবার আগ্রহ থাকবে।
জিনিয়া : তা বুঝলাম। কিন্তু বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা কেন?
সুদেষ্ণা : কারণ, এই বয়েসের ছাত্র-ছাত্রীদের মনে সহজে ইতিবাচক চিন্তা ও সৎ ভাবনার ছাপ ফেলা সহজ।
জিনিয়া : ভাষা শেখার বিষয়ে তোমার চিন্তাটিও আমার ভালো লেগেছে। এই বিষয়ে আমার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা মনে পড়ে গেল। তিনি বলতেন, আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তারপর ইংরেজি শেখার পত্তন।
সুদেষ্ণা : আসলেও তাই। যে ভাষার জন্য বাঙালি জাতি রক্ত দিয়েছে? সে ভাষায় যাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা শক্ত ভিত তৈরি করতে পারে, সে ভাষাকে ভালোবাসতে পারে- সেদিকে আমার খেয়াল থাকবে।
জিনিয়া : তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুনে ভালো লাগল।
সুদেষ্ণা : আমার জীবনের লক্ষ্য তো শুনলে, তোমার লক্ষ্য কী?
জিনিয়া : আর আমার লক্ষ্য হলো ডাক্তার হওয়া। তবে প্রচলিত ধারার ডাক্তার নয়।
সুদেষ্ণা : কেমন?
জিনিয়া : আমি রোগের চিকিৎসা করার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ কীভাবে করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করব।
সুদেষ্ণা : খুবই মহান উদ্যোগ। তাহলে তোমাকে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। আজ আর নয়, বিদায়।
জিনিয়া : ঠিকই বলেছ। এখন থেকে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আজ আর নয়, বিদায়।
সুদেষ্ণা : তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। বিদায়।
জিনিয়া : তোমাকেও ধন্যবাদ।
প্রশ্ন ৩ : সমাজ সেবী এক বন্ধুর সঙ্গে অন্য বন্ধুর সংলাপ। অথবা, একজন উদ্যোক্তা বন্ধুর সঙ্গে অন্য এক বন্ধুর সংলাপ।
উত্তর: একজন উদ্যোক্তার সঙ্গে তার বন্ধুর সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: একজন উদ্যোক্তার সঙ্গে তার বন্ধুর সংলাপ
রাহাবিন : ঈদ মোবারক বন্ধু।
গুনগুন : তোমাকেও ঈদ মোবারক।
রাহাবিন : তারপর বলো কেমন আছো? অনেক দিন দেখা নেই তোমার সঙ্গে। ৫/৬ বছর তো হবেই।
গুনগুন : ভালো আছি। হ্যাঁ, প্রায় ছয় বছর দেখা হয় না আমাদের। তবে এই দেখা না হওয়ার সঙ্গত কারণ আছে বন্ধু।
রাহাবিন : তো কারণটা কী, বন্ধু?
গুনগুন : আমার এলাকায় আমি পশ্চাদপদ নারী ও পুরুষদের নিয়ে । ‘মৎস্য ও পশু চাষ প্রকল্প’ শুরু করেছি। ২৫ জন নারী ও ২৫ জন দরিদ্র পুরুষকে বেচে নিয়ে কাজ করছি। প্রথম বছরেই খরচ বাদে আমাদের লাভ হয়েছে হয়েছে চার লাখ টাকা।
রাহাবিন : দরিদ্র নারী পুরুষ তোমার এখানে কি হিসেবে কাজ করে?
গুনগুন : পার্টনার হিসেবে কাজ করে। তবে সময় বেঁধে দেওয়া আছে ১০ ঘন্টা করে। আপাতত আমরা প্রত্যেকে মাসে ৫,০০০ টাকা করে বেতন বাবদ নিচ্ছি। উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে নতুন কোনো প্রকল্পে হাত দেব আমরা।
রাহাবিন : এলাকার মানুষের প্রতিক্রিয়া কী? এতে কি তারা খুশি? তারা কি পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে?
গুনগুন : আমরা প্রথমে এদের বুঝিয়েছি। ভালো আয় হওয়াতে মনে হয় সবাই খুশি।
রাহাবিন : এলাকার দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে তুমি নিজেকে সমর্পণ করেছো শুনে খুব ভালো লাগল।
গুনগুন : এবার এসে তো শুনলাম, তুমি এলাকার দরিদ্র বেকার যুবকদের নিয়ে ‘আউটসর্সিং’এর কাজ শুরু করেছো। তাদেরকে প্রথমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছ, তারপর প্রজেক্টের কাজে লাগাচ্ছো।
রাহাবিন : হ্যাঁ, একটু চেষ্টা করছি। প্রথমে পাঁচজনকে নিয়ে শুরু করছিলাম। এখন শতাধিক নারী-পুরুষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আর প্রজেক্টে কাজ করছে ৫০ জনের মতো। এখন ঐ পাঁচজনকে পাঁচটা প্রজেক্ট দিয়ে দিয়েছি। সফলতা এসেছে, সুনামও এসেছে। উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে এক একর জমিতে নিজস্ব অফিস কমপ্লেক্স তৈরি করছি।
গুনগুন : স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। মাত্র চার বছরে এতটা উন্নতি, অভিনন্দন বন্ধু।
রাহাবিন : তোমার আরো উন্নতি হবে। যেভাবে লেগে আছ, এলাকার মানুষ তোমাকে ছাড়বে না।
গুনগুন : আমিও আজীবন থাকতে চাই। সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করার আনন্দই আলাদা। ওদের উৎসাহ, কর্মনিষ্ঠা, আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
রাহাবিন : আমিও আনন্দিত এবং তৃপ্ত। এটা আরো সম্প্রসারিত হয়ে সারা বিশ্বে যখন কাজ করবে, তখন আমার স্বপ্নপূরণ হবে।
গুনগুন : তোমাদের স্বপ্ন বাস্তব হোক।
রাহাবিন : তোমার স্বপ্নও বাস্তবায়িত হোক।
[দুজনে পরম আনন্দ নিয়ে আবার কোলাকুলি]
প্রশ্ন ৪ : কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ রচনা কর। (চবো-২৪)
উত্তর: কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব।
জুনায়েদ : শুভ বিকেল হিমেল, তুমি কেমন আছো?
হিমেল : শুভ বিকেল। আমি ভালো আছি তুমি কেমন আছো?
জুনায়েদ : আমিও ভালো আছি। কী খবর হিমেল, আজকাল দেখছি তুমি বেশ সিরিয়াস হয়ে গেছো পড়াশোনায়। এইচএসসির পর কী বিষয় নিয়ে পড়বে? ভবেছো কিছু?
হিমেল : হ্যাঁ বন্ধু, অনেক ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করব। আমাদের দেশের বাস্তবতা বুঝেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
জুনায়েদ : বাহ! খুব ভালো কথা। তবে বল তো, সাধারণ শিক্ষা বাদ দিয়ে তুমি কারিগরি শিক্ষাকেই কেন বেছে নিচ্ছো?
হিমেল : দেখ, আমাদের দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষায় স্নাতক হয়ে বের হয়, কিন্তু তাদের অনেকেই চাকরি পায় না। অথচ দক্ষ কারিগরি জনবল সব সময় চাহিদায় থাকে। চাকরি না পেলেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথ থাকে। তাই আমি মনে করি, টিকে থাকতে হলে দক্ষ হতে হবে—শুধু ডিগ্রি নয়।
জুনায়েদ : তোমার কথা যথার্থ। আমার ভাইটিও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে এখন ভালো একটি কোম্পানিতে কাজ করছে। সে বলছিল, বিদেশেও কারিগরি শিক্ষার অনেক কদর।
হিমেল : একদম ঠিক বলেছে। মালয়েশিয়া, জার্মানি বা জাপানের মতো দেশগুলোতে কারিগরি শিক্ষিত জনবল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশেও সরকার এখন কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। 'একটি দক্ষ জাতি গড়তে চাই'—এই স্লোগান নিয়েই সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
জুনায়েদ : কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো অনেকে কারিগরি শিক্ষাকে ছোট করে দেখে। এটা একটা বড় সমস্যা, না?
হিমেল : অবশ্যই। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। কারিগরি শিক্ষিত একজন মানুষ শুধু চাকরির জন্য বসে থাকে না, সে উদ্যোক্তা হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। এই বিষয়টি সবাইকে বোঝাতে হবে।
জুনায়েদ : তুমি ঠিক বলেছো হিমেল। আমারও এখন মনে হচ্ছে, কারিগরি শিক্ষা শুধু একটি বিকল্প পথ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।
হিমেল : তাই বলি, শিক্ষা মানেই শুধু বই মুখস্থ নয়, বরং বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য জ্ঞানই আসল শিক্ষা। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আমরা তা অর্জন করতে পারি।
জুনায়েদ : তোমার কথা শুনে আমিও আগ্রহী হয়ে উঠেছি। আমি ভাবছি, উচ্চ মাধ্যমিক শেষে কোনো টেকনিক্যাল কোর্সে ভর্তি হব।
হিমেল : অবশ্যই। আমরা যদি সবাই দক্ষ হই, তাহলে নিজের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারব।
জুনায়েদ : একমত। ধন্যবাদ বন্ধু, তোমার কথাগুলো আমাকে অনেক বাস্তব সচেতনতা এনে দিল।
হিমেল : আমরাই পরিবর্তন আনব, জুনায়েদ। শিক্ষা হোক জীবনের জন্য, কেবল পরীক্ষার জন্য নয়।
জুনায়েদ : ধন্যবাদ তোমাকে।
হিমেল : তোমাকেও ধন্যবাদ।
প্রশ্ন ৫ : সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: সড়ক দুর্ঘটনা ।
জিলান : শুভ সকাল বন্ধু, কেমন আছ?
সিয়াম : শুভ সকাল, ভালো আছি। তবে মনটা খুব খারাপ। তুমি কেমন আছ?
জিলান : আমিও ভালো আছি। হ্যাঁ তোমাকে খুব মলিন দেখাচ্ছে। মন খারাপের কারণ কী?
সিয়াম : আজকের পত্রিকা পড়নি?
জিলান : না, কী আছে পত্রিকায়?
সিয়াম : একটা দুর্ঘটনার খবর পড়ে মন খারাপ হয়ে গেল। আহ্! কী মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
জিলান : কী রকম?
সিয়াম : এক পরিবারের ৪ সদস্যের মধ্যে ৩ জনই মারা গেছে।
জিলান : খুবই হৃদয়বিদারক।
সিয়াম : আসলেই হৃদয়বিদারক। পরিবারের ৮ বছরের মেয়েটি শুধু বেঁচে আছে। ওর নিকট আত্মীয় বলতে কেউ নেই।
জিলান : কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনাটি?
সিয়াম : পরিবারটি রাস্তার পাশে দাড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছিল। দুই বাসের মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। একটি আরেকটিকে টেক্কা দিতে গিয়ে নিরপরাধ মানুষগুলোর উপর বাস তুলে দেয়। বেঁচে থাকা মেয়েটির বাবা-মা এবং ছোট ভাইটি সঙ্গে সঙ্গেই বাসের ধাক্কা ও চাপা খেয়ে মারা যায়।
জিলান : খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এরকম ঘটনা অহরহই ঘটছে। কেউ যেন দেখার নেই।
সিয়াম : দেখার থাকলেও দেখছে না। পরিবহণ সেক্টরের সাথে কেউই পারছে না।
জিলান : বেপরোয়া ড্রাইভিং-এর জন্যই রকম ঘটনা ঘটছে।
সিয়াম : তাছাড়া, ড্রাইভাররাও অনেক ক্ষেত্রে অদক্ষ হয়। ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এমন ড্রাইভারও অনেক সময় গাড়ি চালায়।
জিলান : ঠিকই বলেছো। অনেক ক্ষেত্রে ড্রাইভারদের যথাযথ প্রশিক্ষণও থাকে না। অনেক ড্রাইভারের নৈতিক এবং মানবিক দিকও খুব নীচু মানের।
সিয়াম : অন্যদিকে ফিটনেস বিহীন গাড়িও রাস্তায় চলতে দেখা যায়। অনেক মালিক অতিরিক্ত লাভের আশায় ফিটনেস বিহীন গাড়ি রাস্তায় নামিয়ে দেয়। এই সমস্ত ফিটনেস বিহীন গাড়িই বেশি দুর্ঘটনা ঘটায়।
জিলান : ভাঙা রাস্তা এবং ট্রাফিক আইনের প্রতি পথচারী ও চালকদের যথাযথ সচেতনতা না থাকার কারণেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে।
সিয়াম : আসলেই্ তাই।
জিলান : চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিলে, ফিটনেস বিহীন গাড়ি রাস্তায় নামতে না দিলে এবং ব্যাপকভাবে গণসচেতনতা সৃষ্টি করলেই সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে আসতে পারে।
সিয়াম : খুবই সুচিন্তিত কথা বলেছো।
জিলান : সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চলো আমরা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সাথে যোগ দেই এবং আমাদের কলেজে একটি সংগঠন গঠন করে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করে তুলি।
সিয়াম : খুবই ভালো প্রস্তাব। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। চলো এখনই এই বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করি।
জিলান : অবশ্যই।
সিয়াম : তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।
জিলান : তোমাকেও ধন্যবাদ।
প্রশ্ন ৬: সম্প্রতি পড়া কোনো বই নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ। (রাবো-১৬)
অথবা, বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো। (দিবো-১৯, রাবো-২৫)
উত্তর: সম্প্রতি পড়া কোনো বই নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: বই পড়ার গুরুত্ব
মুস্তাকিম : ঈদ মোবারক বন্ধু।
রায়হান : তোমাকেও ঈদ মোবারক।
মুস্তাকিম : ঈদের আজ তৃতীয় দিন। তোমাকে এই দুই দিন দেখিনি কেন? মোবাইলেও পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত বাসায় এলাম।
রায়হান : এই দেখা না হওয়ার সঙ্গত কারণ আছে বন্ধু।
মুস্তাকিম : তো কারণটা কী? বলো শুনি ।
রায়হান : আগে বসো, তারপর বলি।
মুস্তাকিম : নাও, বসলাম।
রায়হান : ঈদের দুই দিন আগে থেকে আমি একটি বই পড়ছিলাম। পড়ায় ডিস্ট্রাব হবে বিধায় আমি মোবাইল বন্ধ করে রেখে ছিলাম। আজ বিকালে পড়া শেষ করলাম। অনেক বড় বই তো একটানা পড়তে চেয়েছিলাম। তাই এই আত্ম গোপন।
মুস্তাকিম : তবে তো খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছো। বই পড়া যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা বিভিন্ন পণ্ডিতদের মুখে শোনা যায়। তো কী বই পড়লে?
রায়হান : বইটির নাম হলো: ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’। লেখক সেলিনা হোসেন। বইটি অনেক বড়। এই বইটির তিনটি খণ্ড আছে। আর, হ্যাঁ বই পড়ার গুরুত্বের কথা তুমি বলছিলে। এই বইটি পড়লে এর গুরুত্ব তুমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারবে।
মুস্তাকিম : ও, তাই বল। সেলিনা হোসেনের কয়েকটি বই আমি পড়েছি। তবে এটি পড়া হয়নি। এটি তো উপন্যাস। এর বিষয়বস্তু কী?
রায়হান : হ্যাঁ, এটি উপন্যাস। এর বিষয়বস্তু বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং বাংলাদেশের জন্ম ও বিকাশ।
মুস্তাকিম : তো কেমন লাগলো তোমার?
রায়হান : খুবই ভালো লেগেছে। বইটির আমেজ এখনো আমার সত্তার মধ্যে গুঞ্জরিত হচ্ছে।
মুস্তাকিম : যতদূর শুনেছি এটি ইতিহাস কেন্দ্রিক উপন্যাস। তো, কোন সময়ের ইতিহাস বর্ণনা করা আছে এখানে?
রায়হান : তুমি ঠিকই শুনেছ। এটি ইতিহাস কেন্দ্রিক উপন্যাস। এখানে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ইতিহাস স্থান পেয়েছে।
মুস্তাকিম : তাহলে তো এখানে বাংলাদেশের জন্ম -কথাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
রায়হান : হ্যাঁ, তুমি ঠিক ধরেছো। বাঙালি যে কত বড় মহান জাতি এখানে তাই চিহ্নিত করা হয়েছে।
মুস্তাকিম : তাহলে তো বইটি পড়তেই হয়।
রায়হান : হ্যাঁ অবশ্যই পড়বে। বইটা এখনই তুমি নিয়ে যাও। যাওয়ার আগে চা খেয়ে যাও।
মুস্তাকিম : অবশ্যই। চায় খেয়েই উঠবো। এবং রাত থেকেই পড়া শুরু করবো। কলেজ খোলার আগেই পড়া শেষ করবো ।
রায়হান : তবে যথা সময়ে বইটা ফেরৎ দিও। মা-বাবা দু’জনই বইটা পড়বেন।
মুস্তাকিম : অবশ্যই। আজ উঠি বন্ধু। চায়ের জন্য ধন্যবাদ। বিদায়।
রায়হান : ধন্যবাদ। বিদায়।
প্রশ্ন ৭ : বাংলা নববর্ষের উদযাপন নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর। (ববো-১৬)
উত্তর: বাংলা নববর্ষের উদযাপন নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: নববর্ষ উদযাপন
নিকুঞ্জ : আসসালামু আলাইকুম বন্ধু, কেমন আছো?
হৃদয় কুণ্ড : ওয়ালাইকুম সালাম, বন্ধু। ভালো আছি। কী ব্যাপার তোমাকে বেশ খুশি খুশি লাগছে?
নিকুঞ্জ : খুশি খুশি লাগছে, কারণ কয়েক দিন পরেই বাংলা নববর্ষ।
হৃদয় কুণ্ড : হ্যাঁ তাইতো, আমি তো লেখাপড়া চাপে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম।
নিকুঞ্জ : গত বছরে তো আমরা শুধু আলোচনা সভা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন শেষ করেছি। এবারও কি আমরা তাই করবো?
হৃদয় কুণ্ড : না, না, এবার নতুন কিছু করতে হবে। একটু বৈচিত্র্য আনতে হবে আমাদের কর্মসূচিতে।
নিকুঞ্জ : কিন্তু সেই নতুন বিষয়টা কী?
হৃদয় কুণ্ড : সকালে সবার কল্যাণ কামনা করে একটা মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা যায়। বিকালে বা সারাদিনব্যাপী একটা মেলার আয়োজন করা যায়।
নিকুঞ্জ : ভালো প্রস্তাব। আগে নাকি নববর্ষ উপলক্ষে নদীতে নৌকাবাইচ হতো, মাঠে ষাঁড় বা মোরগ লড়াই হতো। এ রকম ঐতিহ্যবাহী কিছু করা যায় না?
হৃদয় কুণ্ড : অবশ্যই যায়। এর পাশাপাশি বিকালে কলেজ মাঠে একটা প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা যায়।
নিকুঞ্জ : হ্যাঁ, ১১শ ও দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে ম্যাচ হলে খুবই জমজমাট হবে।
হৃদয় কুণ্ড : আর কী কী করা যায় বল তো?
নিকুঞ্জ : শিশুদের জন্য কোনো প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন থাকলে ভালো হয় । যেমন ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা।
হৃদয় কুণ্ড : হ্যাঁ, করা যেতে পারে ।
নিকুঞ্জ : তাহলে চল, এ বিষয়ে অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে কথা বলি।
হৃদয় কুণ্ড : চল।
প্রশ্ন ৮ : নারী শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর। (দিবো-১৬, মবো-২৫)
উত্তর: নারী শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: নারীশিক্ষার গুরুত্ব
সিমান্ত : আসসালামু আলাইকুম বন্ধু, কেমন আছো?
আবিদুর : ওয়ালাইকুম সালাম। ভালো আছি। কিন্তু কী ব্যাপার? তোমাকে বেশ উত্তেজিত উত্তেজিত মনে হচ্ছে?
সিমান্ত : হ্যাঁ ঠিকই ধরেছো। পত্রিকা পড়নি?
আবিদুর : কেন, পত্রিকায় কী লিখেছে?
সিমান্ত : একজন জ্ঞানপাপী ধর্ম-পণ্ডিত বিবৃতি দিয়েছে, মেয়েদের লেখাপড়ার দরকার নেই।
আবিদুর : বলো কি? এরকম অজ্ঞ লোকও আজকাল আছে?
সিমান্ত : আছে, তিনি বলেছেন, মেয়েরা বাইরে আসলে না কি সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে।
আবিদুর : মূর্খ আর কাকে বলে? অথচ প্রত্যেক ধর্মেই শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
সিমান্ত : হ্যাঁ তাই। নবীজীর (সা.) অনেক হাদিসে জ্ঞান অর্জনের জন্য গভীরভাবে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এখানো তো বলা হয়নি জ্ঞান অর্জন শুধু পুরুষরা করবে। নারী-পুরুষ সবার কথাই এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আবিদুর : তাছাড়া জ্ঞান অর্জন প্রত্যেকের জন্যই ফরজ।
সিমান্ত : সব ভাষার, সব ধর্মের প্রবক্তারাই সার্বজনীন শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বেগম রোকেয়ার ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধটি পড়নি? এখানে নারী শিক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত যুক্তিসহকারে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আবিদুর : কী আছে ঐ প্রবন্ধে?
সিমান্ত : ঐ প্রবন্ধে বলা হয়েছে সমাজ হলো দুই চাকার গাড়ির মতো। এর একটি চাকা হলো পুরুষ আরেকটি হলো নারী। গাড়ির একটি চাকা ছোট এবং আরেকটি চাকা বড় হলে গাড়ি যেমন একই জায়গায় ঘুরতে থাকে, সামনে এগুতে পারে না; সমাজও তাই, নারী পুরুষ সমান না হলে সমাজ সামনের দিকে এগুতে পারে না।
আবিদুর : চমৎকার ব্যাখ্যা। আসলে একটি দেশ, জাতি কিংবা সমাজের অগ্রগতির জন্য নারী পুরুষের সমান হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। সমাজের কিছু অপ শক্তি আছে, তারাই নারী শিক্ষার বিরোধিতা করতে পারে, অন্য কেউ নয়।
সিমান্ত : আমাদের এই অপশক্তি বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আবিদুর : ঠিক তাই, চলো এ বিষয়ে আমরা একটা সমাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি।
সিমান্ত : চলো। ধন্যবাদ।
আবিদুর : ধন্যবাদ।
প্রশ্ন ৯: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিষয়ে বাবা ও মেয়ের মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
(যবো-২০১৬, ববো-২৫)
অথবা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিষয়ে শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে সংলাপ।
উত্তর: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিষয়ে বাবা ও মেয়ের মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
মেয়ে (সাদিয়া) : আসসালামু আলাইকুম, বাবা।
বাবা (আবু তালহা): ওয়ালাইকুম সালাম। তুমি মনে হয় কিছু বলবে, মা?
সাদিয়া : জ্বী বাবা। আজকে আমাদের কলেজে "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি" নিয়ে আলোচনা সভা হয়েছিল। আমি অনেক কিছু জানলাম। তুমি কি বলবে, এটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বাবা : খুব ভালো প্রশ্ন করেছো মা। আমাদের দেশের ইতিহাস আর সংস্কৃতি বোঝার জন্য এই বিষয়টা জানা খুব দরকার। বাংলাদেশ একটি বহু ধর্ম-বর্ণের দেশ। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলেমিশে বাস করে।
সাদিয়া : কিন্তু বাবা, টিভিতে দেখি মাঝে মাঝে কোথাও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। মানুষ এত ঘৃণা করে কেন?
বাবা : মানুষ যখন নিজের ধর্ম, ভাষা বা পরিচয়কে শ্রেষ্ঠ ভাবতে গিয়ে অন্যকে ছোট করে দেখে, তখনই সমস্যা তৈরি হয়। আবার রাজনৈতিক স্বার্থেও অনেক সময় এসব ইস্যু উসকে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত ধর্ম শিক্ষা দেয় শান্তি ও সহনশীলতা।
সাদিয়া : তাহলে কি ধর্মভিত্তিক বিভাজন দূর করা সম্ভব?
বাবা : অবশ্যই সম্ভব, যদি আমরা মানবিক মূল্যবোধ আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে গুরুত্ব দিই। ছোটবেলা থেকে যদি আমরা শিখি যে সব ধর্মের মানুষ আমাদের ভাই-বোন, তাহলে বিভেদ আর থাকবে না।
সাদিয়া : আমাদের বইতে লেখা আছে, ১৯৭১ সালে সব ধর্মের মানুষ মিলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। এটাও কি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ?
বাবা : খুবই বড় উদাহরণ, মা। বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের রক্তের বিনিময়ে।
সাদিয়া : বাবা, আমরা কীভাবে নিজেদের জীবনেও এই সম্প্রীতির চর্চা করতে পারি?
বাবা : খুব সহজ। অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করো, ভিন্ন মত শুনতে শিখো, ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করো। বন্ধুরা যদি অন্য ধর্মের হয়, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখো। ধর্ম নয়, মানুষ আগে—এই মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
সাদিয়া : আমি বুঝতে পারছি বাবা। শুধু বক্তৃতা বা সেমিনারে নয়, এই মূল্যবোধ আমাদের আচরণে আনতে হবে।
বাবা : একদম ঠিক বলেছো। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শুধু শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি নয়, এটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠনের পূর্বশর্তও।
সাদিয়া : ধন্যবাদ বাবা, তুমি এত সুন্দর করে বোঝালে। আমি এখন থেকেই চেষ্টা করব সম্প্রীতির মানসিকতা নিয়ে চলতে।
বাবা : তুমি যদি সত্যিই তা করতে পারো, তবে আমি গর্বিত হবো মা। কারণ পরিবর্তন শুরু হয় নিজেকে দিয়েই।
সাদিয়া : ধন্যবাদ বাবা।
বাবা : তোমাকেও ধন্যবাদ।
প্রশ্ন ১০: ফেসবুকের সুফল ও কুফল নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: ফেসবুকের সুফল ও কুফল নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: ফেসবুকের সুফল ও কুফল ।
জিম : শুভ বিকাল, ঐশী! কেমন আছো?
ঐশী : শুভ বিকাল, জিম। ভালো আছি। তুমি?
জিম : আমিও ভালো। আজকে কলেজ থেকে ফিরেই দেখলাম, তুমি একটা সুন্দর পোস্ট দিয়েছো ফেসবুকে। খুব ভালো লাগলো।
ঐশী : ধন্যবাদ জিম। আমি এখন নিয়মিত ফেসবুকে কিছু শিক্ষামূলক পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করি। ফেসবুক এখন শুধু বিনোদনের নয়, শিক্ষার মাধ্যমও হতে পারে।
জিম : একমত। ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা দেশের খবর, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সাহিত্য—অনেক কিছু জানতে পারি। আমাদের অনেক ভালো শিক্ষকও ফেসবুকে শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেন।
ঐশী : হ্যাঁ, আর কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ রাখা যায়। কোনো ক্লাসের নোট বা সময়সূচি মিস হলে ফেসবুক গ্রুপে জেনে নেওয়া যায়।
জিম : আবার ফেসবুক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ওয়েবিনার বা অনলাইন কোর্স সম্পর্কে জানার সুযোগও করে দেয়। আমি একটা অনলাইন লেখালেখির প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম ফেসবুকেই জানতে পেরে।
ঐশী : দারুণ! তবে জিম, সবকিছুর যেমন ভালো দিক থাকে, তেমনি খারাপ দিকও থাকে, তাই না?
জিম : একদম ঠিক। ফেসবুকে সময়ের অপচয় হয় অনেক। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করে, যা পড়াশোনার ক্ষতি করে।
ঐশী : শুধু তা-ই নয়, অনেকেই গুজব বা ভুয়া খবর ছড়ায় ফেসবুকে। আবার অচেনা মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে অনেক সমস্যায় পড়ে।
জিম : সত্যি কথা বলেছো। ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য শেয়ার করলে সেগুলো কেউ অপব্যবহারও করতে পারে। সাইবার বুলিং, হ্যাকিং এসবও বড় ঝুঁকি।
ঐশী : তাই ফেসবুক ব্যবহারে আমাদের সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের উচিত সময় বেঁধে ব্যবহার করা এবং ভালো কিছু শেখার জন্য কাজে লাগানো।
জিম : ঠিক বলেছো। যদি আমরা ফেসবুককে একটি উপকারী মাধ্যম হিসেবে দেখি, তাহলে এটা আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াবে। না হলে সেটা সময় নষ্ট ও ক্ষতির কারণ হবে।
ঐশী : আসল কথাটা হলো—ব্যবহার নির্ভর করে আমাদের উপরে। ভালো ব্যবহার করলে সুফল, না হলে কুফল।
জিম : একদম ঠিক, ঐশী। আজকের কথোপকথন থেকে অনেক কিছু শিখলাম।
ঐশী : আমিও, জিম। আজ তাহলে উঠি। পড়াশোনায় বসতে হবে।
জিম : আমিও তাই করবো। দেখা হবে কাল কলেজে।
ঐশী : অবশ্যই। ভালো থেকো।
জিম : তুমিও। শুভ সন্ধ্যা!
প্রশ্ন ১১: ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল ও কুফল নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল ও কুফল নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল ও কুফল ।
মাহি : শুভ বিকাল, শাফি! কী খবর? আজ একটু তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছো মনে হয়?
শাফি : শুভ বিকাল, মাহি! হ্যাঁ, আজ ক্লাস শেষে ভাবলাম তোমার সঙ্গে একটু আড্ডা দেই। তবে জানো, রাস্তায় আসতে আসতেই একটা জিনিস ভাবছিলাম।
মাহি : কী জিনিস?
শাফি : ইন্টারনেট নিয়ে। এটা যেমন আমাদের জীবনে দরকারি হয়ে উঠেছে, তেমনি অনেকে এটাকে অপব্যবহারও করছে।
মাহি : একদম ঠিক বলেছো। ইন্টারনেট ছাড়া এখন যেন কিছুই ভাবা যায় না। পড়াশোনা, যোগাযোগ, কেনাকাটা, এমনকি ক্লাস—সবই তো অনলাইনে হয়।
শাফি : হ্যাঁ, আমার তো ইন্টারনেট ছাড়া প্রজেক্ট তৈরি করাও সম্ভব নয়। গুগল, ইউটিউব, অনলাইন লাইব্রেরি—সবই ভরসা। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষক-বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগও সহজ।
মাহি : আমিও অনলাইনে নানা কোর্স করছি, নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। অনলাইনে বই পড়ে ফেলেছি কয়েকটা, যা আগে কখনো কল্পনাও করিনি।
শাফি : এসব তো ইন্টারনেটের বড় সুফল। কিন্তু সমস্যা হয় তখনই, যখন মানুষ এটিকে শুধুই বিনোদনের জন্য ব্যবহার করে—ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট করে।
মাহি : একমত। অনেকেই ভিডিও গেম বা অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও দেখে দিন পার করে। আবার কিছু কিছু ওয়েবসাইট তো তরুণদের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত।
শাফি : তার চেয়েও বড় বিপদ হলো সাইবার ক্রাইম। ফিশিং, হ্যাকিং, ভুয়া প্রোফাইল—এসব ব্যাপার খুব ভয়ানক। অনেক সময় অজান্তেই মানুষ প্রতারণার শিকার হয়ে যায়।
মাহি : হ্যাঁ, আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির ঘটনাও তো আমরা দেখেছি।
শাফি : তাই বলি, ইন্টারনেট একদিকে যেমন জ্ঞানের দ্বার খুলে দেয়, তেমনি অসচেতন হলে বিপদের কারণও হয়ে দাঁড়ায়।
মাহি : তাহলে সমাধান কী বলো তো?
শাফি : সমাধান হলো সচেতন ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। সময় বেঁধে ইন্টারনেট ব্যবহার করা উচিত। কী দেখছি, কোথা থেকে তথ্য নিচ্ছি, সেটা যাচাই করে নেওয়াও জরুরি।
মাহি : একদম ঠিক বলেছো। ইন্টারনেট যেন আমাদের সাহায্য করে, ক্ষতি নয়—এই দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে।
শাফি : হ্যাঁ। আজকের আলোচনা খুব উপকারে এলো। এই বিষয়টা নিয়ে ক্লাসে যদি উপস্থাপনা দিতে হয়, আমরা দুজনই প্রস্তুত থাকবো।
মাহি : দারুণ হবে! এখন তাহলে যাই, সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে।
শাফি : আমিও উঠি। দেখা হবে কাল।
মাহি : ইনশাআল্লাহ। ভালো থেকো, শুভ সন্ধ্যা!
প্রশ্ন ১২ : আসন্ন এইচ এস সি পরীক্ষা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: আসন্ন এইচ এস সি পরীক্ষা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: আসন্ন এইচ এস সি পরীক্ষা
মুগ্ধ : শুভ সন্ধ্যা, সৈকত।
সৈকত : শুভ সন্ধ্যা, মুগ্ধ । তুমি কেমন আছো?
মুগ্ধ : ভাল আছি। তবে পরীক্ষা নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত।
সৈকত : তুমি তোমার কোর্স শেষ করতে পারেনি?
মুগ্ধ : অন্যান্য বিষয়ে প্রস্তুতি ভালো। তবে ইংরেজি বিষয়ে আমার প্রস্তুতিও তেমন ভাল নয়।
সৈকত : এ নিয়ে ভেবো না। আমার বিশ্বাস এ বিষয়ে তুমি উতরে যাবে। তুমি তো ইংরেজিতে ভালো। এক সপ্তাহ পড়াশুনা করলে তোমার পড়া শেষ হয়ে যাবে। ইংরেজি বিষয়ে তোমার প্রস্তুতি কেমন?
মুগ্ধ : ইংরেজিতে আমার প্রস্তুতি খুবই ভালো। তবে বাংলা প্রথম পত্র একটু কঠিন মনে হয়। কারণ সৃজনশীল প্রশ্নের প্রয়োগ ও উচ্চতার দক্ষতা প্রশ্নের উত্তরগুলো আমার কাছে জটিল মনে হয়।
সৈকত : সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে মূল বই ভাল করে বুঝে পড়তে হবে। গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, উপন্যাসের প্রতিটি লাইন উপলব্ধির মধ্যে আনতে হবে। কবিতার প্রতীকী শব্দের অর্থ বুঝতে হবে। তাহলেই প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হয়ে যাবে। আমার এ বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। কারণ, ক্লাশগুলো ভালোভাবে করেছিলাম।
মুগ্ধ : বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে তোমার প্রস্তুতি কেমন?
সৈকত : রসায়ন ছাড়া, অন্য বিষয়গুলো ভালো।
মুগ্ধ : আমার রসায়নের প্রস্তুতি ভালো, তবে গণিত এখনও শেষ করতে পারি নি।
সৈকত : বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমার বড় ভাই বাসায় এসেছিলেন, তার কাছ থেকে আমি গণিতটা কমপ্লেট করে নিয়েছি। গণিত এখন আমার আর কোনো সমস্যা নেই। তুমিও পারবে, কয়েক দিন অনুশীলন করলেই হয়ে যাবে। আর কোনো সাহায্য লাগলে আমাকে বলো।
মুগ্ধ : অবশ্যই বলবো এবং প্রয়োজনে তোমার সাহায্য নেব।
সৈকত : আজ আর নয় বন্ধু, রাত হয়ে যাচ্ছে। মা চিন্তা করবেন।
মুগ্ধ : হ্যাঁ, তাই চল, যাওয়া যাক। শুভ সন্ধ্যা।
সৈকত : শুভ সন্ধ্যা।
প্রশ্ন ১৩ : জীবনের লক্ষ্য নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: জীবনের লক্ষ্য নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: জীবনের লক্ষ্য
আহনাফ : শুভ সকাল জেরিন, তুমি কেমন আছ?
হামিম : শুভ সকাল মৌমিতা । আমি ভালো। তুমি কেমন আছ?
আহনাফ : আমিও ভালো আছি। আমি তোমার ভালো ফলাফলে আনন্দিত হয়েছি। ভবিষ্যতে তুমি কী করবে এই বিষয়ে কি কিছু ভেবেছো?
হামিম : আমি ইতোমধ্যে স্থির করেছি যে, আমি একজন শিক্ষক হব। সমাজ থেকে অশিক্ষা, অজ্ঞতা দূর করে দেব এবং অগণিত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবতাবোধ ও ইতিবাচক জীবনবোধ ছাড়িয়ে দেব।
আহনাফ : খুব ভালো। এটি একটি মহৎ কাজ কিন্তু এর বাস্তবায়ন খুব কঠিন।
হামিম : মানুষের অসাধ্য কিছু নেই। আমি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বাংলা বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেব। তারপর বিএড- এমএড ট্রেনিং শেষ করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করব।
আহনাফ : এত বিষয় থাকতে তুমি বাংলায় শিক্ষক হতে চাও কেন?
হামিম : প্রথমত, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। তাছাড়াও আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারে না। বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় বাংলায় খারাপ রেজাল্ট করে। সবচেয়ে বড় কারণ হল বাংলা আমার প্রিয় বিষয়।
আহনাফ : তা বুঝলাম বাংলা ভাষার প্রতি তোমার বিশেষ টান আছে। কিন্তু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাও কেন?
হামিম : এই জন্য চাই যে, এই বয়েসের ছাত্র-ছাত্রীদের মনে সহজে ইতিবাচক চিন্তা ও সৎ ভাবনার ছাপ ফেলা সহজ।
আহনাফ : ভাষা শেখার বিষয়ে তোমার চিন্তাটিও আমার ভালো লেগেছে। এই বিষয়ে আমার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা মনে পড়ে গেল। তিনি বলতেন, আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তারপর ইংরেজি শেখার পত্তন।
হামিম : আসলেও তাই। যে ভাষার জন্য বাঙালি জাতি রক্ত দিয়েছে? সে ভাষায় যাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা শক্ত ভিত তৈরি করতে পারে, সে ভাষাকে ভালোবাসতে পারে- সেদিকে আমার খেয়াল থাকবে।
আহনাফ : তোমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুনে ভালো লাগল। আর আমার লক্ষ্য হলো ডাক্তার হওয়া।
হামিম : এটিও মহান পেশা। তাহলে তোমাকে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। আজ আর নয়, বিদায়।
আহনাফ : ঠিকই বলেছ। এখন থেকে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আজ আর নয়, বিদায়।
হামিম : তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। বিদায়।
আহনাফ : তোমাকেও ধন্যবাদ।
প্রশ্ন ১৪: বই মেলা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: বই মেলা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: বই মেলা।
ওয়াফা : শুভ বিকাল। তুমি কেমন আছ শিফা?
শিফা : শুভ বিকাল। আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছ ওয়াফা?
ওয়াফা : আমিও ভালো। গতকাল বিকেলে তুমি কোথায় গিয়েছিলে?
শিফা : আমি আমার বোনের সাথে একুশে বইমেলায় গিয়েছিলাম।
ওয়াফা : এবার মেলা থেকে কী কী বই কিনলে শিফা?
শিফা : কোনো বই কিনি নি, শুধু ক্যাটালগ সংগ্রহ করেছি। ক্যাটালগ দেখে বইয়ের তালিকা করব তারপর কিনবো। তাছাড়া বই মেলা তো শুধু
বই কেনার জন্য নয়।
ওয়াফা : তা হলে কীসের জন্য?
শিফা : বই মেলায় বইয়ের সঙ্গে পাঠকের সংযোগ ঘটে।
ওয়াফা : হ্যাঁ, তা ঠিক বলেছ। বই মেলায় বইয়ের সঙ্গে শুধু পাঠকের সংযোগ ঘটে না, বরং পাঠকের সঙ্গে পাঠকের, পাঠকের সঙ্গে প্রকাশকের,
পাঠকের সঙ্গে লেখকের সংযোগ ঘটে।
শিফা : তুমি না গত সপ্তায় মেলায় গিয়েছিলে? তুমি কী বই কিনলে?
ওয়াফা : আমি মেলায় গিয়ে ছিলাম একটি সেমিনারে অংশ নেয়ার জন্য এবং কিছু সংগঠনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য। তবে
বইও কিছু কিনেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: সেলিনা হোসেনের ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’, ‘নীল ময়ূরের যৌবন’ ও ‘চাঁদবেনে’।
শিফা : সেলিনা হোসেনের এই বইগুলো অবশ্য আমি পড়েছি। খুব ভালো লেগেছে।
ওয়াফা : মেলায় বইয়ে দামের যে ছাড় দেয় তা যথেষ্ট নয়। আরো ছাড় দেয়া উচিৎ। মেলায় যে বই ৩০% কমিশন দেয় সেই বই নীলক্ষেতে
কিনা যায় ৩৫% থেকে ৪০% কমিশনে।
শিফা : হ্যাঁ, তা ঠিক বলেছো। তাছাড়া বইয়ের মূল পাঠক ছাত্র-ছাত্রীরা কিন্তু এদের ক্রয় ক্ষমতা কম। তাই এদের জন্য মেলায় বেশি সুযোগ
থাকা দরকার ছিল।
ওয়াফা : হ্যাঁ, তাই হওয়া উচিত। আজ আসি বন্ধু। আবার দেখা হবে। খোদা হাফেজ।
শিফা : খোদা হাফেজ।
প্রশ্ন ১৫: মাদকাসক্তির কুফল ও এর প্রতিকার বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা করো। (ববো-২৪)
উত্তর: মাদকাসক্তির কুফল ও এর প্রতিকার বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: মাদকাসক্তির কুফল ও এর প্রতিকার।
সামিন : কিরে জারিফ, আজকাল তোকে কেমন যেন চিন্তিত দেখাচ্ছে। কিছু হয়েছে নাকি?
জারিফ : আর বলিস না সামিন, আমার এক দূর সম্পর্কের মামাতো ভাই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। ওর পরিবারে রীতিমতো অশান্তি চলছে। ওকে দেখে খুব কষ্ট হয়।
সামিন : হ্যাঁ রে, মাদকাসক্তি তো একটা সর্বনাশা ব্যাপার। এর কুফলগুলো মারাত্মক। একবার কেউ এই ফাঁদে পড়লে সহজে বের হতে পারে না।
জারিফ : ঠিকই বলেছিস। মাদক শুধু শরীরকেই নয়, মনকেও শেষ করে দেয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, লিভার, কিডনি, হৃৎপিণ্ড সবকিছুর ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে।
সামিন : শুধু তাই নয়, এর সামাজিক কুফলও অনেক। একটা মাদকাসক্ত ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তারা চুরি, ডাকাতি এমনকি খুনের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এতে পারিবারিক শান্তি নষ্ট হয়, সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
জারিফ : একদম তাই। আমার মামাতো ভাইয়ের জন্য ওর বাবা-মা কতটা কষ্ট পাচ্ছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। কিন্তু এর থেকে মুক্তির উপায় কী?
সামিন : প্রতিকার অবশ্যই আছে। প্রথমত, পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ভালোবাসা ও সহানুভূতি দিতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে যে সে একা নয়, পরিবার তার পাশে আছে।
জারিফ : এরপর?
সামিন : এরপর পেশাদার সাহায্য নেওয়া জরুরি। মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে সঠিক চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সেখানে তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা কাটাতে সাহায্য করা হয়।
জারিফ : এটা তো খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর আমাদের মতো বন্ধুদেরও কি কোনো ভূমিকা আছে?
সামিন : অবশ্যই! বন্ধুদেরও সচেতন থাকতে হবে। কেউ মাদকাসক্ত হলে তাকে তিরস্কার না করে বা দূরে ঠেলে না দিয়ে তাকে বোঝাতে হবে এবং সঠিক পথে আসার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে হবে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বোঝাতে হবে যে মাদক তাদের জীবন ধ্বংস করে দেবে।
জারিফ : তুই ঠিক বলেছিস সামিন। আমরা যদি সবাই মিলে চেষ্টা করি, তাহলে হয়তো অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। ধন্যবাদ তোকে, খুব ভালো আলোচনা হলো।
সামিন : তোকেও ধন্যবাদ জারিফ। আশা করি তোর মামাতো ভাই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
প্রশ্ন ১৬ : লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা।
অপর্ণা : শুভ সন্ধ্যা, লুবাবা, তুমি কেমন আছো?
লুবাবা : শুভ সন্ধ্যা, অপর্ণা, আমি ভালো আছি। তুমি কিছু বলবে মনে হয়?
অপর্ণা : হ্যাঁ, লুবাবা, জানো? আমি অনেকদিন ধরে ভাবছি, আমাদের পাড়ায় একটা ছোট পাঠাগার থাকলে কেমন হতো!
লুবাবা : দারুণ একটা আইডিয়া বলেছ! এখনকার ছেলেমেয়েরা মোবাইল আর গেমে আসক্ত হয়ে বই থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। একটা লাইব্রেরি হলে হয়তো বই পড়ার পরিবেশটা আবার ফিরবে।
অপর্ণা : একদম ঠিক। আমাদের আশেপাশে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে, কিন্তু বই কেনার সামর্থ্য সবার নেই। ওদের জন্য লাইব্রেরি খুব উপকারে আসবে।
লুবাবা : তাহলে আমাদের কাজটা শুরু করা উচিত। প্রথমেই পুরোনো বই সংগ্রহের একটা উদ্যোগ নিতে পারি। বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী, শিক্ষক—সবাইকে বলব যাতে যার যার ঘরে থাকা বই দান করে।
অপর্ণা : হ্যাঁ, আমি আমাদের স্কুলে একটা বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দিতে পারি। ‘বই দান, জ্ঞান দান’ এমন একটা স্লোগান দিলেই ভালো হয়।
লুবাবা : চমৎকার! আর লাইব্রেরির জন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গাও লাগবে। জানো, আমাদের পাড়ার কমিউনিটি সেন্টারের একটা ঘর প্রায় ফাঁকা থাকে। চাইলে কাউন্সিলরের অনুমতি নিয়ে সেটা ব্যবহার করা যেতে পারে।
অপর্ণা : সেটা দারুণ হবে। আর লাইব্রেরির একটা সুন্দর নামও দরকার। ‘সকাল পাঠাগার’ কেমন?
লুবাবা : এক কথায় অসাধারণ! আমরা চাইলে সপ্তাহে একদিন শিশুদের জন্য গল্পপাঠ, কুইজ প্রতিযোগিতা কিংবা চিত্রাঙ্কন আয়োজনও করতে পারি।
অপর্ণা : হ্যাঁ, এতে শিশুরা আগ্রহী হবে এবং বইয়ের প্রতি ভালোবাসা গড়ে উঠবে। আমরা যদি ইচ্ছা আর নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করি, তাহলে এটা সম্ভব।
লুবাবা : ঠিক বলেছো। চল, আমরা এখনই পুরো পরিকল্পনাটা লিখে ফেলি, পরে বন্ধুদের নিয়ে একটা মিটিং করি।
অপর্ণা : চল, আমাদের স্বপ্নের লাইব্রেরি গড়ার পথে এখনই শুরু হোক যাত্রা!
প্রশ্ন ১৭: গণতন্ত্রে উত্তরণ ও সাম্প্রতিক বাংলাদেশ বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: গণতন্ত্রে উত্তরণ ও সাম্প্রতিক বাংলাদেশ বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: গণতন্ত্রে উত্তরণ ও সাম্প্রতিক বাংলাদেশ।
ফারিন : শুভ বিকাল, মানাল! কেমন আছো?
মানাল : শুভ বিকাল, ফারিন! ভালো আছি। তুমি?
ফারিন : আমিও ভালো। আজ পত্রিকায় পড়ছিলাম, জাতীয় সংসদে গণতন্ত্র চর্চা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। ভাবলাম, তোমার সঙ্গে এই বিষয়ে একটু কথা বলি।
মানাল : দারুণ বিষয় এনেছো। আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্র নিয়ে সচেতন হওয়া খুব দরকার। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পথচলা কিন্তু খুব সহজ ছিল না।
ফারিন : ঠিক বলেছো। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক শাসন, একদলীয় শাসনের মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে ধীরে ধীরে গণতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
মানাল : হ্যাঁ, বিশেষ করে ১৯৯১ সালের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তখন থেকেই দেশে আবার বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয়।
ফারিন : এখন মানুষ অনেক সচেতন। গণমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—এসবের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও এখন মত প্রকাশ করতে পারে। এটা গণতন্ত্রের একটা ইতিবাচক দিক।
মানাল : তাছাড়া, সরকার বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছে—মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, স্মার্ট বাংলাদেশ উদ্যোগ ইত্যাদি—সবই দেশের অগ্রগতির চিহ্ন।
ফারিন : তবে গণতন্ত্র মানে শুধু উন্নয়ন নয়। জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার—এসবই গণতন্ত্রের মূল উপাদান।
মানাল : একদম ঠিক। মাঝে মাঝে আমরা দেখি বিরোধী মত দমন বা তথ্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আসে। এই বিষয়গুলো গণতন্ত্রের পথকে দুর্বল করতে পারে।
ফারিন : এজন্য আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের সচেতন হতে হবে। যুক্তিভিত্তিক আলোচনা, তথ্যনির্ভর মতামত—এসবই গণতান্ত্রিক চর্চা গড়ে তোলে।
মানাল : হ্যাঁ, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিতর্ক, মতবিনিময়, নেতৃত্ব গঠনের আয়োজন বাড়ানো উচিত। এতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তৈরি হয়।
ফারিন : গণতন্ত্র তখনই টিকে থাকবে, যখন আমরা সবাই নিজের অধিকার আর দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবো।
মানাল : একমত। আজকের আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলো। এটা আমাদের পরবর্তী উপস্থাপনায় কাজে দেবে।
ফারিন : নিঃসন্দেহে! এখন উঠি, সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে।
মানাল : আমিও যাচ্ছি। দেখা হবে কাল কেলেজে।
ফারিন : অবশ্যই। ভালো থেকো, শুভ সন্ধ্যা!
প্রশ্ন ১৮: যানজটের ভোগান্তি নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: যানজটের ভোগান্তি নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: যানজটের ভোগান্তি ।
অর্জন : আসসালামু আলাইকুম, আহ্নাফ। কেমন আছিস।
আহনাফ : ওয়ালাইকুম সালাম, অর্জন। বেশি ভালো না। কালকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় এমন এক জ্যামে পড়লাম, আধা ঘণ্টার রাস্তা তিন ঘণ্টায় পার হলাম! তাই শরীরটা কেমন করছে।
অর্জন : কী বলিস! আমিও তো একই অবস্থা—বাসে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পিঠে ব্যথা ধরে গেছে। ঢাকার এই যানজট দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে।
আহনাফ : ঠিক বলেছিস। সকাল-বিকেল তো বটেই, এখন তো মাঝরাতেও জ্যামে পড়তে হয়। গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু রাস্তা তো বাড়ছে না!
অর্জন : তার ওপর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কী বেহাল দশা! যেখানে সেখানে পার্কিং, লেন না মানা—সব মিলিয়ে রীতিমতো নৈরাজ্য।
আহনাফ : আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে রিকশা আর প্রাইভেট গাড়ির আধিক্য। একটা ছোট রাস্তায় একসঙ্গে এত রকমের যানবাহন চললে তো যানজট হবেই।
অর্জন : হ্যাঁ, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যদি উন্নত করা যেত, তাহলে মানুষ প্রাইভেট গাড়ি কম ব্যবহার করত। এতে অনেকটা সমস্যা কমত।
আহনাফ : সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া উন্নয়ন মানেই ভোগান্তি। সিটি কর্পোরেশন বা বিআরটিএ-র পক্ষ থেকেও খুব একটা কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।
অর্জন : কিন্তু এর প্রভাব পড়ছে আমাদের জীবনযাত্রায়—সময় নষ্ট, মানসিক চাপ, দূষণ—সবই বাড়ছে।
আহনাফ : শুধু ব্যক্তিগত না, দেশের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যানজটে কর্মঘণ্টার অপচয় অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অর্জন : অবশ্যই। এই সমস্যার সমাধানে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে অবস্থা আরও খারাপ হবে।
আহনাফ : সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে—ট্রাফিক আইন মানা, অপ্রয়োজনে গাড়ি ব্যবহার না করা।
অর্জন : একমত। সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হয়, তবেই পরিবর্তন সম্ভব।
আহনাফ : চল, পরিবর্তনের জন্য আমরা নিজেরা আগে সচেতন হই। আশাকরি একদিন যানজটমুক্ত শহর দেখব।
অর্জন : ইনশাআল্লাহ, নিশ্চয়ই দেখব!
প্রশ্ন ১৯ : খাদ্যে ভেজাল ও তার প্রতিকার বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।
উত্তর: খাদ্যে ভেজাল ও তার প্রতিকার বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
সংলাপ
বিষয়: খাদ্যে ভেজাল ও তার প্রতিকার।
প্রমিত : আসসালামু আলাইকুম, শীতল। কী খবর? এত চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
শীতল : ওয়ালইকুম সালাম। মনাটা খুব খারাপ।
প্রমিত : কেন?
শীতল : আর বলিস না ভাই। খবরের কাগজে পড়লাম—ফলের রসে কেমিক্যাল, দুধে ডিটারজেন্ট, এমনকি শিশুখাদ্যেও ভেজাল! ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।
প্রমিত : হ্যাঁ রে, এ এক ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ আজ খাবারে নয়, বিষ গ্রহণ করছে না জেনেই।
শীতল : শুধু ব্যবসায়িক লাভের আশায় কীভাবে মানুষ এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে? একটা জাতির স্বাস্থ্য এভাবে ধ্বংস হতে বসেছে!
প্রমিত : একদম ঠিক বলেছিস। অথচ খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। বিশুদ্ধ খাদ্য পাওয়া নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।
শীতল : শুনলাম, বাজারে কৃত্রিম ডিম, নকল ঘি, এমনকি রাসায়নিক মিশ্রিত সবজিও বিক্রি হচ্ছে। এসব খেয়ে তো ক্যানসার, কিডনি বিকলসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
প্রমিত : আমাদের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা আইন আছে, কিন্তু তার কার্যকর প্রয়োগ নেই বললেই চলে। নিয়মিত মনিটরিং ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি।
শীতল : আমি মনে করি, সরকারের পাশাপাশি আমাদের সাধারণ মানুষেরও সচেতন হতে হবে। ভেজাল চেনার উপায় জানতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে।
প্রমিত : একমত। যেমন, ঘরে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি, রাসায়নিক মুক্ত কৃষিপণ্যের দিকে ঝুঁকতে পারি।
শীতল : আর মিডিয়া ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে। ছোটদের থেকেই ভেজালবিরোধী শিক্ষার সূচনা দরকার।
প্রমিত : খুব ভালো বলেছিস। আমাদের নিজেদের মধ্য থেকেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই পরিবর্তন সম্ভব।
শীতল : তাহলে চল, আমরা নিজেরা ভেজালবিরোধী সচেতনতা ক্যাম্পেইনে অংশ নিই। অন্যদেরও জানাই “বিশুদ্ধ খাবার, সুস্থ জীবন” আমাদের অধিকার।
প্রমিত : একদম ঠিক! ছোট পদক্ষেপ থেকেই বড় পরিবর্তনের শুরু হয়। চল, আজ থেকেই শুরু করি।
-০-
ক্ষুদে গল্প: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সমাধান |
প্রশ্ন-১: প্রদত্ত উদ্দীপক অনুসরণে একটি ক্ষুদে গল্প রচনা কর।
মাকে সেবা করতে না পারার যন্ত্রণায় দগ্ধ হয় হাসান…
উত্তর: নিচে প্রদত্ত উদ্দীপক অনুসরণ করে 'অনুতাপের আগুন' শিরোনামে একটি খুদে গল্প উপস্থাপন করা হলো :
শিরোনাম: অনুতাপের আগুন
মাকে সেবা করতে না পারার যন্ত্রণায় দগ্ধ হয় হাসান, প্রতিটি মুহূর্তে। ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে সে। বয়স চল্লিশ ছুঁইছুঁই, সংসার আছে, সন্তান আছে—তবু একটানা মায়ের মুখটা ভেসে ওঠে চোখে।
মা ছিলেন গ্রামে, একা। হাসান প্রতিবার ফোনে বলত, "এই তো মা, আগামী ঈদেই ছুটি নিয়ে আসছি।" কিন্তু ঈদ আসত, ছুটি মিলত না। কখনো সন্তানের স্কুল পরীক্ষা, কখনো বসের জরুরি মিটিং, কখনো স্ত্রীর অনীহা—একটার পর একটা অজুহাত তাকে আটকে রাখত।
এর মধ্যেই একদিন ফোন এল—“তোমার মা আর নেই।”
বুকটা যেন চেপে ধরল কিছু একটায়। পায়ের নিচের মাটি সরে গেল। সেই রাতে ট্রেন ধরার সময়টা এখনো ভুলতে পারে না হাসান। স্টেশনের শেষ ট্রেনটা চলে গিয়েছিল মিনিট দশ আগে। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল সে। মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সব শব্দ থেমে গেছে—শুধু তার বুকের ভেতর অনুতাপের বজ্রনিনাদ চলছে।
শেষবার মায়ের কপালে চুমু দিতে পারেনি, এক গ্লাস পানি পর্যন্ত হাতে তুলে দিতে পারেনি সে।
এরপরের দিনগুলো যেন অনুতাপের গর্ভে জন্ম নেওয়া নিঃসঙ্গ সময়। হাসান আজও মায়ের ছবি সামনে রেখে বলে, “মা, আমায় ক্ষমা করো।”
দেয়ালে ঝোলানো ছবির চোখ দুটি যেন নীরবে বলে—“তুই আসবি বলেছিলি রে... অপেক্ষায় ছিলাম…”
হাসান জানে, সময় আর ফিরে আসবে না। এখন শুধু বেঁচে থাকা মানে—প্রতি নিঃশ্বাসে অনুতাপের আগুনে পোড়া।
প্রশ্ন-২: 'স্বনির্ভরতার জন্য চাই ইচ্ছাশক্তি' শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর।
উত্তর: নিচে 'স্বনির্ভরতার জন্য চাই ইচ্ছাশক্তি' শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা করা হলো:
শিরোনাম: স্বনির্ভরতার জন্য চাই ইচ্ছাশক্তি
নয়ন গ্রামের এক গরিব ছেলে। বাবা দিনমজুর, মা গৃহকর্মে সহায়তা করেন। ছোটবেলা থেকেই নয়নের স্বপ্ন ছিল শিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। কিন্তু দারিদ্র্য ছিল তার সবচেয়ে বড় বাধা। স্কুলে যেতে হতো পায়ে হেঁটে, অনেক সময় না খেয়েই। বন্ধুদের কাছে বই ধার করে পড়ত, রাতে হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে যেত।
একদিন স্কুলে শিক্ষক বললেন, “স্বনির্ভর হতে চাইলে প্রথমে চাই ইচ্ছাশক্তি। দারিদ্র্য নয়, মানসিক শক্তিই বড় সম্বল।” এই কথাটা নয়নের মনে গভীর রেখাপাত করল। সে নিজেকে বলল, “আমি পারব, আমাকেই পারতে হবে।”
এসএসসি পরীক্ষায় নয়ন জেলায় প্রথম হলো। মিডিয়াতে তার গল্প ছড়িয়ে পড়ল। একজন সমাজসেবক তার দায়িত্ব নিলেন। কলেজে ভর্তি হলো, পাশাপাশি টিউশনি শুরু করল। উচ্চশিক্ষা শেষে নয়ন সরকারি চাকরি পেল।
বছর দশেক পর নয়ন ফিরে এল নিজের গ্রামে, প্রতিষ্ঠা করল একটি পাঠাগার ও টিউশন কেন্দ্র। দরিদ্র শিশুদের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করল। সে জানত, ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করা যায়।
আজ নয়ন অনেকের অনুপ্রেরণা। সে প্রমাণ করেছে, স্বনির্ভরতা কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়—ইচ্ছাশক্তিই এর মূল চাবিকাঠি।
প্রশ্ন-৩: 'মোবাইল ফোনে বন্ধুত্বের পরিণাম শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর।
উত্তর: নিচে 'মোবাইল ফোনে বন্ধুত্বের পরিণাম’ শিরোনামে একটি খুদে গল্প উপস্থাপন করা হলো:
শিরোনাম: মোবাইল ফোনে বন্ধুত্বের পরিণাম
রাফি একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মেধাবী, ভদ্র এবং পরিবারের আদরের ছেলে। কিন্তু হঠাৎই সে বদলে যেতে শুরু করে। ক্লাসে মনোযোগ কমে যায়, ঘরে বসেও ফোনে ব্যস্ত থাকে। মা-বাবা প্রথমে বুঝতে পারেননি সমস্যাটা কী।
রাফির জীবনে পরিবর্তনটা আসে একদিন ফেসবুকে এক অচেনা মেয়ের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাওয়ার পর। মেয়েটির নাম ছিল "মায়া"। চ্যাটিং শুরু হয়, এক সময় তা নিয়মিত ফোনালাপে গড়ায়। মায়া রাফিকে খুব সহজেই প্রভাবিত করে ফেলে। সে বলে, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ!” রাফি ধীরে ধীরে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কমিয়ে দেয়, এমনকি পড়াশোনাও বন্ধের পথে।
একদিন মায়া জানায়, তার মা অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি। সে কিছু টাকা চাই। রাফি নিজের সঞ্চিত টাকা তো দেয়ই, বাবার ঘর থেকে লুকিয়ে আরও টাকা নেয়। এরপর থেকে মায়া ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। একদিন পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়।
রাফি তখন বুঝতে পারে সে প্রতারণার শিকার হয়েছে। মায়া নামের ওই প্রোফাইলটি ছিল ভুয়া, আর যার ছবি সে দেখেছিল, তা ছিল কোনো অভিনেত্রীর। সে ভীষণভাবে ভেঙে পড়ে।
বাবা-মা সব জানতে পারেন। প্রথমে রাগ হলেও পরে ছেলেকে সান্ত্বনা দেন। রাফি আবার নিজের জীবন গুছিয়ে নিতে শুরু করে। সে উপলব্ধি করে, অচেনা মানুষদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব কখনোই বাস্তব ও নিরাপদ হয় না।
এ অভিজ্ঞতা রাফির জীবন বদলে দেয়। সে নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং অন্য বন্ধুদেরও সতর্ক করে দেয়— “মোবাইল ফোন ব্যবহার করো, কিন্তু বুঝে-শুনে। ভুয়া বন্ধুত্বে নয়, সত্যিকারের জীবনের বন্ধুত্বেই ভরসা রাখো।”
প্রশ্ন-৪: 'স্বনির্ভরতার জন্য দেশি শিল্পের বিকাশ চাই' শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর।
উত্তর: নিচে 'স্বনির্ভরতার জন্য দেশি শিল্পের বিকাশ চাই' শিরোনামে একটি খুদে গল্প উপস্থাপন করা হলো :
শিরোনাম: স্বনির্ভরতার জন্য দেশি শিল্পের বিকাশ চাই
গ্রামের ছেলেটি অয়ন ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতে ভালোবাসত। কলম, কাগজ, রং-তুলি হাতে পেলেই সে ডুবে যেত নিজস্ব জগতে। শহরের কোনো আর্ট স্কুলে পড়ার সুযোগ না থাকলেও স্থানীয় এক শিল্পীর কাছে সে শিখে নেয় পটচিত্র আঁকার কৌশল।
কিছুদিন পর গ্রামের হাটে সে নিজের আঁকা পটচিত্র, হাতে তৈরি মাটির পুতুল ও বাঁশের তৈরি জিনিস নিয়ে একটি ছোট দোকান দেয়। প্রথমদিকে খুব একটা বিক্রি না হলেও সে হাল ছাড়েনি।
একদিন হাটে ঘুরতে এসেছিলেন ঢাকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি অয়নের শিল্পকর্ম দেখে মুগ্ধ হন। তিনি ছবিগুলো কিনে নেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তা প্রচার করেন। অয়নের ছোট দোকানটিই হয়ে ওঠে বড় পরিচয়ের কেন্দ্র।
এরপর স্থানীয় আরও অনেক যুবক অয়নের সাথে যুক্ত হয়। গ্রামের নারীরাও শাড়ি, নকশিকাঁথা, ঝুমকা তৈরি করে অয়নের মাধ্যমে বাজারে তুলে ধরে। অয়ন একটি ছোট কারখানা গড়ে তোলে, যেখানে দেশি কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি হতে থাকে নান্দনিক হস্তশিল্প।
বছর দুয়েকের মধ্যেই ‘অয়ন হ্যান্ডিক্র্যাফটস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান দেশের বাইরেও নাম করে। অয়ন বিশ্বাস করে, বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে যদি দেশি শিল্পের উন্নয়ন করা যায়, তবে আমাদের কর্মসংস্থান বাড়বে, অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
স্বনির্ভরতার পথে হাঁটতে হলে চাই দেশি শিল্পের বিকাশ। অয়নের মতো তরুণরা যদি এগিয়ে আসে, তবে একদিন বাংলাদেশ নিজের শিল্প দিয়ে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেবেই।
প্রশ্ন-৫: শিরোনামসহ নিচের সংকেত অনুসরণে একটি খুদে গল্প রচনা কর:
বঝড়ের রাত। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। পিয়ালের মন খুবই অস্থির। রাত আনুমানিক একটা। হঠাৎ কলিং বেলের আওয়াজ। অজানা আতঙ্কে পিয়াল...........
উত্তর: নিচে প্রদত্ত সংকেত অবলম্বনে 'ঝড়ের রাতে দেবদূত ' শিরোনামে একটি খুদে গল্প উপস্থাপন করা হলো:
শিরোনাম: ঝড়ের রাতে দেবদূত
ঝড়ের রাত। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। জানালার কাচে ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত একটার ঘরে। পিয়ালের মন অস্থির হয়ে আছে অনেকক্ষণ ধরে। মায়ের শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে গেছে, ওষুধও প্রায় শেষ। বাইরে বেরোতে সাহস করছে না।
বিছানায় বসে মায়ের পাশে হাত ধরে বসে আছে পিয়াল। এমন সময় হঠাৎ করেই দরজার কলিং বেলের টুনটুন শব্দ। হঠাৎ এমন সময়ে কে এলো?
অজানা আতঙ্কে পিয়াল থমকে যায়। ছুরি হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় দরজার দিকে। বাইরের ঝড়ের শব্দ যেন এক মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে আসে পিয়ালের কানে।
“কে?” দরজার ফাঁক দিয়ে প্রশ্ন করে পিয়াল।
একটা কণ্ঠ উত্তর দেয়, “আমি টুটুল ভাই। পাশের বাসা থেকে এসেছি।”
দরজা খুলে দেখে, পাশের বাসার টুটুল ভাই হাতে ইনহেলার ও স্যালাইন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
“তুই বলেছিলি না, আন্টির ইনহেলার শেষ হয়ে গেছে? মনে ছিল, তাই আনলাম। আম্মুও বলেছে দরকার হলে ডাক্তার ডেকে আনতে। ভয়ের কিছু নেই।”
পিয়ালের চোখে পানি চলে আসে। এত বড় বিপদের মধ্যে কেউ এমন পাশে দাঁড়াবে ভাবেনি সে।
মায়ের মুখে ওষুধ প্রয়োগ করতেই একটু স্বস্তি ফিরে আসে। ঝড়ের রাতটাও যেন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে।
পিয়াল বুঝে যায়—সবকিছু হারিয়ে গেলেও, মানুষের পাশে মানুষের এমন বন্ধনই সবচেয়ে বড় আশ্রয়। পিয়ালের মনে হলো টটুল ভাই যেন আজ ঝড়ের রাতের দেবদূত।
প্রশ্ন-৬: নিচের উদ্দীপক অবলম্বনে একটি খুদেগল্প রচনা কর:
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বাইক থামিয়ে টোল দিতে হাত বাড়ায় ইশতিয়াক সাহেব। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পিছন থেকে সজোরো ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে সে। জ্ঞান ফিরলে তার সাথে থাকা স্ত্রী ও শিশুপুত্রের কথা জানতে চায় উপস্থিত লোকজনের কাছে।....
উত্তর: নিচে প্রদত্ত উদ্দীপক অবলম্বনে 'সেতুর ওপারে' শিরোনামে একটি খুদে গল্প উপস্থাপন করা হলো:
শিরোনাম: সেতুর ওপারে
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বাইক থামিয়ে টোল দিতে হাত বাড়ালেন ইশতিয়াক সাহেব। হাওয়ায় তখন ভাসছে নদীর গন্ধ, মৃদু রোদে সেতুর ঝলমল ধাতব কাঠামো চোখে লাগে। মুহূর্তেই পিছন থেকে এক বিকট শব্দ—“ধাম!”—তারপর শরীর ছিটকে পড়ে যায় রাস্তায়। মনে হলো পৃথিবী ঘুরছে, কান ঝিমঝিম করছে। চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসছে সবকিছু।
জ্ঞান ফিরল হঠাৎ করেই। কপাল ও হাতে রক্তের উষ্ণতা টের পাচ্ছেন। আশপাশে কয়েকজন অপরিচিত মুখ; কেউ পানি দিচ্ছে, কেউ ফোনে অ্যাম্বুলেন্স ডাকছে। প্রথমেই তার মনে পড়ল—স্ত্রী সুমি আর কোলে বসা দুই বছরের ছেলে রাফি। গলা শুকিয়ে গেছে, কাঁপা কণ্ঠে বললেন,
—আমার স্ত্রী… আমার ছেলে… ওরা কোথায়? ঠিক আছে তো?
একজন যুবক বলল, “ভাই, আপনি শান্ত হন। আপনার স্ত্রী আর বাচ্চাকে আমরা হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ওদের অবস্থা তেমন খারাপ না, তবে চেকআপ লাগবে।”
ইশতিয়াক সাহেবের বুকের ভেতর এক ঝটকায় একটু স্বস্তি এলো, কিন্তু চিন্তা এখনো কাটেনি। মাথার ভেতর তখনো সেই ধাক্কার শব্দ বাজছে।
পরে জানা গেল, পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী প্রাইভেট কার টোল লাইনে গতি কমায়নি। চালকের অসতর্কতায় গাড়িটি সরাসরি তাদের বাইকে ধাক্কা মারে। ইশতিয়াক সাহেব মাটিতে ছিটকে পড়েন, স্ত্রী ও সন্তান সামনের দিকে পড়ে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা এড়িয়ে যায়, কিন্তু আঘাত পায় হাত ও হাঁটুতে।
হাসপাতালে পৌঁছে ইশতিয়াক সাহেব প্রথমেই রাফিকে বুকে টেনে নিলেন। ছেলের মুখে ভয় আর কান্নার ছাপ, আর সুমি চোখে জল নিয়ে বলল, “তুমি ভালো আছো তো?”
ইশতিয়াক সাহেব হাসতে চেষ্টা করলেন, “আমরা সবাই ভালো আছি—এটাই বড় কথা।”
পরদিন সংবাদপত্রে ছোট্ট করে খবর বের হয় “টোল প্লাজায় দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচল এক পরিবার।”
কিন্তু ইশতিয়াক সাহেবের কাছে এটি কেবল একটি দুর্ঘটনার খবর নয়; এটি ছিল জীবনের ভঙ্গুরতা আর পরিবারের গুরুত্বের নির্মম স্মরণ করিয়ে দেওয়া এক মুহূর্ত। তিনি জানলেন, কয়েক সেকেন্ডেই সবকিছু বদলে যেতে পারে, আর সেতুর ওপারে পা রাখার আগে জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা কতটা জরুরি।
সেদিন থেকে তিনি শুধু বাইকের গতি নয়, নিজের জীবনের গতি নিয়েও সচেতন হলেন। কারণ, পরিবারের হাত শক্ত করে ধরা থাকাই তার কাছে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
প্রশ্ন-৭: প্রদত্ত সংকেত অবলম্বনে 'লোভের পরিণাম' শীর্ষক একটি ক্ষুদে গল্প রচনা কর।
গল্প সংকেত: স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি ফলের বাগান করে শামীম …
উত্তর: নিচে 'লোভের পরিণাম' শিরোনামে একটি খুদে গল্প উপস্থাপন করা হলো:
শিরোনাম: লোভের পরিণাম
স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শামীম তার পৈতৃক জমিতে একটি ফলের বাগান গড়ে তোলে। প্রথমদিকে সে গাছপালার পরিচর্যা করত নিয়মিত, কীটনাশক ব্যবহারে সচেতন ছিল এবং জৈব সার প্রয়োগে গুরুত্ব দিত। দুই বছর পর বাগানে ফল ধরতে শুরু করে। আম, পেয়ারা, লিচু, কাঁঠাল—সবই হয়েছিল দারুণ। শামীমের পরিশ্রমে লোকজনও প্রশংসা করত, অনেকেই তার বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাও বাগান করতে শুরু করে।
এক মৌসুমে শামীমের ফল অনেক দাম পেয়েছিল। লাভ দেখে তার মনে লোভ জাগে—কীভাবে আরও বেশি ফল পাওয়া যায়, কীভাবে আরও দ্রুত গাছ বড় হয়। এই ভাবনায় সে ধীরে ধীরে রাসায়নিক সার আর কীটনাশকের ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়। কৃষি অফিসের পরামর্শ না নিয়েই শুরু করে মাটি-পরিবর্তন, অতি দ্রুত ফল ধরার জন্য অপ্রয়োজনীয় হরমোন প্রয়োগ।
শুরুর দিকে ফল বড় হলেও স্বাদ ও গুণমানে ঘাটতি পড়ে। বাজারে তার ফল বিক্রি কমে যায়। কিছু ফল খেয়ে কয়েকজন ক্রেতা অসুস্থ হলে স্থানীয় প্রশাসন তার বাগান পরীক্ষা করে এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পায়। কৃষি বিভাগ থেকে তার নামে সতর্কীকরণ নোটিশ জারি হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
পরিণামে শামীমের বাগান সরকারি নজরদারির আওতায় চলে যায় এবং তার সম্মান ও আয়ের প্রধান উৎসটি ধ্বংস হয়ে পড়ে।
একসময় পরিশ্রমী কৃষক হিসেবে পরিচিত শামীম আজ শুধুই উদাহরণ—লোভে পড়ে নিয়ম ভাঙার পরিণাম কত ভয়াবহ হতে পারে, তা সবার কাছে স্পষ্ট করে দেয়।
প্রশ্ন-৮: 'মানুষ মানুষের জন্য' শিরোনামে একটি খুদে গল্প লেখ।
উত্তর: নিচে 'মানুষ মানুষের জন্য' শিরোনামে একটি খুদে গল্প উপস্থাপন করা হলো:
শিরোনাম: মানুষ মানুষের জন্য
শীতের এক ভোরে গ্রামের কাঁচা রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছিল রহমান চাচা। বয়স হয়েছে অনেক, তবুও ভোরবেলা মসজিদে নামাজ পড়ে ফেরেন নিয়মিত। সেদিন রাস্তার ধারে হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ল এক অচেনা মানুষ। গায়ের চাদরটা ছেঁড়া, পায়ে জুতো নেই, মুখে ক্লান্তির ছাপ। রহমান চাচা থেমে দাঁড়ালেন। বললেন, “ভাই, কে আপনি? এখানে একা একা বসে আছেন কেন?”
অচেনা মানুষটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে জানালেন যে তিনি পাশের জেলার বাসিন্দা। কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাচ্ছিলেন, কিন্তু পথে টাকা-পয়সা, সবকিছুই চোরে নিয়ে গেছে। খাওয়ার মতো কিছু নেই, থাকার জায়গাও নেই। কথাগুলো বলতে বলতে লোকটির চোখে জল এসে গেল।
রহমান চাচা গভীরভাবে ভাবলেন। তাঁর নিজের অবস্থাও খুব ভালো নয়। সংসারে অভাব, ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু এই বিপদগ্রস্ত মানুষকে তিনি ফেলে যেতে পারলেন না। তিনি লোকটিকে বাড়িতে নিয়ে এলেন। গরম ভাত আর আলুভর্তা খাইয়ে দিলেন। স্ত্রী প্রথমে একটু দ্বিধা করলেও রহমান চাচার আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে তিনিও এগিয়ে এলেন।
কয়েকদিন লোকটি রহমান চাচার বাড়িতে রইল। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠল। এরপর রহমান চাচা গ্রামের এক দোকানে তাঁর জন্য কাজের ব্যবস্থা করে দিলেন। কাজ পেয়ে লোকটির চোখে আনন্দের অশ্রু ঝরল। তিনি বললেন, “চাচা, আমি আপনাদের কাছে জীবনভর ঋণী হয়ে রইলাম। আপনাদের জন্যই আমি আবার বাঁচতে পারলাম।”
রহমান চাচা হেসে উত্তর দিলেন, “ঋণী হওয়ার কিছু নেই ভাই। মানুষ মানুষকে সাহায্য না করলে কার জন্য বাঁচবে? আজ তুমি বিপদে আছ, কাল আমি বা আমার সন্তানও এমন বিপদে পড়তে পারি। তখন যদি আরেকজন হাত বাড়িয়ে দেয়, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
গ্রামের লোকজনও এই ঘটনার মাধ্যমে নতুন শিক্ষা পেল। তারা বুঝল, সামান্য সহযোগিতা একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। এভাবেই মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা সমাজকে সুন্দর করে তোলে।
এই ছোট্ট ঘটনায় সবাই উপলব্ধি করল যে, “মানুষ মানুষের জন্য”—এ শুধু কোনো স্লোগান নয়, বরং জীবনের এক অনন্য সত্য।
প্রশ্ন-৯: "রক্ত দেই জীবন বাঁচাই” শিরোনামে একটি খুদে গল্প লেখ।
উত্তর: নিচে "রক্ত দেই জীবন বাঁচাই” শিরোনামে একটি খুদে গল্প উপস্থাপন করা হলো:
শিরোনাম: রক্ত দেই, জীবন বাঁচাই
সকালের সূর্য তখনও পুরোপুরি উঠেনি। শহরের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তরুণ শিক্ষার্থী। হাতে ছোট্ট একটি ব্যানার— “রক্ত দেই, জীবন বাঁচাই”। সে ও তার বন্ধুরা আজ বিনা মূল্যে রক্তদানের আয়োজন করেছে।
এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তির ছুটে আসা। চেহারায় গভীর উৎকণ্ঠা।
— “আপনারা কি রক্ত দিচ্ছেন?”
— “জি ভাই, বলুন কী সমস্যা?”
লোকটি কাঁপা কণ্ঠে জানাল, তার ৮ বছরের মেয়ে রিয়া হাসপাতালে ভর্তি, হঠাৎ করেই অপারেশন জরুরি হয়ে পড়েছে। বি-পজিটিভ রক্ত না পেলে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু কোথাও মিলছে না।
নাহিদ ব্যাগ খুলে নিজের রক্ত গ্রুপ চেক করল— বি-পজিটিভ! এক মুহূর্ত দেরি না করে সে লোকটির সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে গেল।
রক্ত দেওয়ার পর ক্লান্ত হলেও নাহিদের মুখে শান্তির হাসি। ছোট্ট রিয়া বাঁচল। মেয়েটির বাবা অশ্রুসজল চোখে বলল, “তুমি শুধু রক্ত দাওনি ভাই, আমার মেয়ের জীবন ফিরিয়ে দিয়েছো।”
নাহিদের মনে তখন এক অদ্ভুত প্রশান্তি। সে বুঝল, সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে মানবিক রূপ হলো রক্তদান। মানুষ মানুষের জন্য—এ সত্য আজ বাস্তবে রূপ নিল।
সন্ধ্যাবেলায় ক্যাম্পে ফিরে নাহিদ তার বন্ধুদের বলল,
— “আমরা শুধু রক্ত দিচ্ছি না, আমরা জীবন বাঁচাচ্ছি।”
সেদিন থেকেই তাদের রক্তদাতা সংগঠনের নাম হয় “জীবনসাথী”।
ছোট একটি উদ্যোগ কীভাবে একটি প্রাণ বাঁচাতে পারে—এটাই ছিল নাহিদদের পথচলার প্রেরণা।
প্রশ্ন-১০: মানুষের স্বার্থপরতার উপর একটি ক্ষুদে গল্প লেখ।
উত্তর: নিচে মানুষের স্বার্থপরতার উপর " স্বার্থের বাঁধন ” শিরোনামে একটি খুদে গল্প উপস্থাপন করা হলো:
শিরোনাম: স্বার্থের বাঁধন
রফিক ও করিম শৈশবের দুই বন্ধু। একই গ্রামে বড় হওয়া, একসঙ্গে পড়াশোনা, খেলাধুলা—সবই ভাগাভাগি করত তারা। মানুষজন বলত, এ দু’জনকে আলাদা করা যায় না। সময়ের সঙ্গে রফিক শহরে চাকরি পেল, করিম রয়ে গেল গ্রামে। তবু বন্ধুত্বে ভাটা পড়েনি।
একদিন গ্রামের খালে ভয়াবহ বন্যা এলো। করিমের বাড়ি ভেসে গেল, জমি ডুবে গেল পানিতে। হতাশ করিম শহরে থাকা রফিকের কাছে সাহায্য চাইতে এল। ভরসার জায়গা তো সেই শৈশবের বন্ধু! করিম বলল, “বন্ধু, আমার মাথার উপর আর ছাদ নেই, তোমার সাহায্য দরকার।”
রফিক প্রথমে সহানুভূতি দেখালেও ভেতরে ভেতরে দ্বিধায় পড়ল। চাকরির টানাটানি, সংসারের খরচ, স্ত্রীর আপত্তি—সব মিলে করিমকে সাহায্য করতে সে অনীহা দেখাল। সে বলল, “করিম, আমি তো চাই তোমাকে সাহায্য করতে, কিন্তু এখন নিজেই সমস্যায় আছি। কিছু করতে পারছি না।”
করিম অবাক হয়ে তাকাল। যার সঙ্গে শৈশব কেটেছে, সেই বন্ধু আজ স্বার্থের কাছে পরাজিত। সে চুপচাপ ফিরে গেল গ্রামে। নিজের ভাঙা ঘরের পাশে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু ভাবল—বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, আত্মীয়তা সবই ম্লান হয়ে যায় যখন মানুষের ভেতর স্বার্থপ্রবণতা জেগে ওঠে।
কয়েক মাস পর রফিক নিজেই বিপদে পড়ল। চাকরি হারাল, সংসারে অভাব দেখা দিল। তখন মনে পড়ল সেই দিনের করিমের কথা। লজ্জা গোপন করে সে করিমের কাছে গেল। করিম যদিও অভাবী, তবু যেটুকু আছে, তা ভাগ করে নিল রফিকের সঙ্গে।
রফিক স্তব্ধ হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, করিমের মতো মানুষরা বিরল, যারা স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। নিজের স্বার্থপরতার জন্য সে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করে ফেলেছিল।
এই ঘটনার পর থেকে রফিক উপলব্ধি করল, মানুষের প্রকৃত শক্তি সম্পদ বা অবস্থানে নয়, বরং অন্যের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কিছু করার মধ্যেই।
<সমাপ্ত>
+88 01713 211 910