
#এইচএসসি, প্রতিবেদন : গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সমাধান
প্রতিবেদন : গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও সমাধান
সহজে এবং কম সময়ের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এবং
১০০% কমনের নিশ্চয়তায় সংগ্রহ করুন
মুসা স্যারের বাংলা ১ম ও দ্বিতীয় পত্র
সাজেশন ও সমাধান গ্রন্থসমূহ
প্রশ্ন ১: তোমার কলেজের গ্রন্থাগার সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রচনা কর। (দিবো ২০১২, কুবো ২০১২, সিবো ২০১৫, চবো-২০১৬, ঢাবো-১৯)
উত্তর: নিচে ‘ক’ সরকারি কলেজের গ্রন্থাগার সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলো:
‘ক সরকারি কলেজের গ্রন্থাগার: একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের অনন্য দৃষ্টান্ত’
জ্ঞানার্জনের সাথে জ্ঞানপীঠ তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মহিমা নির্ভর করে ভালো শিক্ষক এবং সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের উপর। কারণ, বই-এর মধ্যেই সকল কালের সকল জ্ঞান গ্রন্থিত থাকে। এ বইয়ের বিপুল সমাহার আর অবাধ ব্যবহার তথা পাঠের জন্য চাই গ্রন্থাগার বা পাঠাগার। সে জন্যই সাধ্য ও সামর্থ্যনুযায়ী গ্রন্থাগার চালুর ব্যবস্থা সব প্রতিষ্ঠানেই দেখা যায়। আমাদের কলেজে গ্রন্থাগারটি সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে অনন্য একটি গ্রন্থাগারের দৃষ্টান্ত।
আমাদের কলেজের গ্রন্থাগারের জন্য রয়েছে পৃথক একটি ত্রিতল ভবন। এখানে বিভিন্ন বিষয়ের এক লক্ষ বার হাজার পাঁচ শত আশিটি বই রয়েছে। এখানকার ব্যবস্থাপনাও বেশ সন্তোষজনক। বর্তমানে বাংলাদেশে বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে বলা যায়। কম্পিউটার কম্পোজ আর অফসেট প্রেস এর প্রচলনে বই প্রকাশনা এখন মামুলি ব্যাপার। তার ফলে বহু মান সম্পন্ন বই যেমন প্রকাশ পাচ্ছে তেমনি, যেনতেন বইয়ের উৎপাদনও কম নয়। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল যে, যেনতেন বইয়ের ধারক বাহক এখন অনেক গ্রন্থাগার। কিছু বিনামূল্যে, কিছু কম মূল্যে, কিছু কমিশনের লাভে সে সব বইয়ের বিপুল সমাহার ঘটেছে। কিন্তু আমাদের কলেজ গ্রন্থাগার সেরকম নয়। এখানে গ্রন্থ নির্বাচন ও ক্রয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ একটি কমিটি রয়েছে। যুগের চাহিদা অনুযায়ী এখানে বই কেনা হয়।
আমাদের কলেজের গ্রন্থাগারে গ্রন্থ পাঠের জন্য রয়েছে একটি অত্যাধুনিক পাঠকক্ষ। এতে আছে আধুনিক লাইটিং এবং শীততাপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এখানে কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও বাইরের পাঠক বিশেষ ব্যবস্থায় বই পড়তে পারেন। গ্রন্থাগারটি সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে খোলা থাকে। প্রতি দিন প্রায় তিন থেক চারশ পাঠক গ্রন্থাগারটি ব্যবহার করেন।
গ্রন্থাগারের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় বইয়ের মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতি বছরই এখানে নতুন নতুন বই কেনা হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে পৃথিবীর বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের বই ব্যবহার করারও ব্যবস্থা হয়েছে সম্প্রতি। ফ্রি ওয়াই ফাই থাকার কারণে যে কোনো বই পাঠক ডাউনলোড করে পড়ার সুবিধা পায়।
এই সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারটি ব্যবহার করে পাঠক নতুন নতুন জ্ঞানে সমৃদ্ধ হউক এটাই সবার প্রত্যাশা। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার যে ঘোষণা দিয়েছেন তাও এই ধরণের গ্রন্থাগারের মধ্য দিয়ে পুরণ হবে বলে অনেকে মনে করেন।
প্রতিবেদকের নাম : সামিরা হক
শিরোনাম : ‘ক সরকারি কলেজের গ্রন্থাগার: একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের অনন্য দৃষ্টান্ত’
প্রতিবেদন তৈরির সময় : বিকেল ৫ টা।
তারিখ : ঢাকা, ১৩/০৬/২০২৪ খ্রি.।
প্রশ্ন ২ : ‘খাদ্যে ভেজাল ও প্রতিকার’ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা কর। (যবো ২০১৩, দিবো ২০১৫, সিবো-২০১৬, যবো-১৯)
অথবা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যে সাম্প্রতিক ভেজাল মিশ্রণ প্রবণতা বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন রচনা কর। (যবো-১৯, সিবো-১৭)
অথবা, ‘খাদ্যে ভেজাল ও প্রতিকার’ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা কর। (ঢাবো-১৪, যবো-১৩, সিবো-১৬, দিবো-১৫)
অথবা, ‘বাজারে খাদ্যে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগ বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন রচনা কর। (কুবো-১৫)
DËi: wb‡P Ôখাদ্যে ভেজাল: হুমকীর মুখে সুস্থ্ জীবন’ kxl©K GKwU cÖwZ‡e`b iPbv Kiv n‡jv:
‘খাদ্যে ভেজাল: হুমকীর মুখে সুস্থ্ জীবন’
মানুষের সৃষ্টি করা যতগুলো সমস্যা বাংলাদেশে রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ সমস্যা হলো – খাদ্যে ভেজাল মেশানো। ভেজাল মিশ্রিত খাদ্যের কারণে মানুষের শরীরে নানা প্রকার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্ত দূষিত খাদ্যে থাকে নানা প্রকার ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদন। ক্ষতিকর এই সমস্ত উপাদান মানব শরীরে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করে। ফলে নতুন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনে দেখা দিচ্ছে নিত্যনতুন জটিলতা। রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধার বাজারগুলোতে ভেজাল মিশ্রিত খাদ্যের খোঁজ মিলেছে ব্যাপকভাবে। এমনকি বিভিন্ন গ্রামীণ বাজারেও ভেজাল মিশ্রিত খাদ্যের খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মধ্য দিয়ে এই সমস্যর ব্যাপকতাই ফুটে উঠেছে।
খাদ্য দ্রব্যে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর রাসায়নকি পদার্থ মেশানোকে খাদ্যে ভেজাল বলে অভিহিত করা হয়। দীর্ঘদিন টাটকা রাখার জন্য ফল ও সবজির রং উজ্জ্বল করার জন্য এগুলোতে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয়। আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের অতিলোভী কিছু ব্যক্তি লাভের আশায় প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন খাদ্যে ভেজালের অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে । বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য, ফরমালিন, রং ,পাথর, ইটের গুড়া, কৃত্রিম সুগন্ধি ইত্যাদি দ্বারা খাদ্যকে তারা ভেজাল খাদ্যে রূপান্তরিত করে । এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করে ভেজাল খাদ্যে পরিণত করা হয়।
মানুষের শরীর প্রকৃতির শুদ্ধ খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্ত। ভেজাল মিশ্রিত খাদ্য যখন শরীরে প্রবেশ করে তখন শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ভেজাল অংশ শরীরের রক্ত , পেশী কলা, যোজক কলা, তন্তু কলা, পরিপাকতন্ত্র, শ্বসন প্রক্রিয়া, রেচন প্রক্রিয়া , ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শরীরে শ্বেত রক্ত কণিকার ক্ষতি সাধনের মাধ্যমে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। নিত্যনতুন উপায় নতুন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্য মেশানোর ফলে মানুষের শরীরে নতুন ধরনের রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্ত বিষয়ে অজ্ঞ মানুষ নতুন নতুন রোগকে দৈবের অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কিন্তু এসবের জন্য মূলত খাদ্যে ভেজালের মিশ্রণই দায়ী।
আমাদের দেশবাসীকে বাঁচাতে হলে খাদ্যে ভেজাল নির্মূল করা একান্ত জরুরি । আর এ জন্য রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায় থেকে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। খাদ্যের মান যাচাইকরী প্রতিষ্ঠান তথা বিএসটিআই-কে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ঘন ঘন শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা, ফল ও কাঁচামালের আরতের পাশে পরীক্ষাগার তৈরি ইত্যাদি। তাছাড়া ভেজালের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে বিভিন্ন প্রচারপত্র প্রকাশ করতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। প্রচলিত আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে আরো কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। এই সমস্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ‘খাদ্যে ভেজাল’ নামক ক্ষতিকর প্রক্রিয়াটিকে চিরতরে রহিত করতে হবে।
প্রতিবেদকের নাম : আইমান রহমান
শিরোনাম : খাদ্যে ভেজাল: হুমকীর মুখে সুস্থ্ জীবন
প্রতিবেদন তৈরির সময় : সকাল ১০টা।
তারিখ : বগুড়া, ১৩/০৬/২০২৪ খ্রি.।
প্রশ্ন ৩: তোমার কলেজে অনুষ্ঠিত/উদযাপিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের/শহীদ দিবসের (২১ ফেব্রুয়ারি) বর্ণনা দিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা কর।
উত্তর: নিচে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস/শহিদ দিবস উপলক্ষে একটি প্রতিবেদন রচনা করা হলো:
‘র’ সরকারি কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত
গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে ‘র’ সরকারি কলেজে ‘মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির পালিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রভাতফেরি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, বিবিধ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং মিলাদ মাহফিল।
কর্মসূচির সূচনা হয় রাত ১২.০১ মি: এ কলেজ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোশাররফ হোসেন শিক্ষক-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কলেজের শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ।
দিবসের কর্মসূচি শুরু হয় প্রভাত ফেরির মাধ্যমে। শিক্ষক-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীরা খালি পায়ে প্রভাত ফেরিতে অংশগ্রহণ করে।
এর পর একে একে অনুষ্ঠিত হয় ভাষা বিষয়ক কুইজ, রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং দেশাত্মবোধক গানের প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার তিনটি বিষয়ে প্রথম হয়ে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলা বিভাগের এম এ শেষ বর্ষের ছাত্রী চামেলী রহমান।
সকাল ১০টায় শুরু হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ” আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কলেজের বেশ কয়েক জন সিনিয়র শিক্ষক। এছাড়া কলেজের শিক্ষার্থীরাও তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পায়।
আলোচনা অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোশাররফ হোসেন। এর পর শুরু হয় অমর একুশের উপর রচিত স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে কলেজের বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা। অতঃপর দুপুর ২টায় অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
প্রতিবেদকের নাম : সিফাত রহমান
শিরোনাম : ‘ক’ সরকারি কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত
প্রতিবেদন তৈরির সময় : বিকেল ৫ টা।
তারিখ : ক সরকারি কলেজ
২১/০২/২০২৪ খ্রি.।
প্রশ্ন ৪: মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কলেজে উদযাপিত অনুষ্ঠানমালার উপর একটি প্রতিবেদন রচনা কর। (ববো ২০১৩, রাবো ২০১৬)
উত্তর: নিচে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে একটি প্রতিবেদন রচনা করা হলো:
‘ক’ সরকারি কলেজে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত
গত ২৬ মার্চ ২০২৪ তারিখে ‘ক’ সরকারি কলেজে ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হয়। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, বিবিধ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং মিলাদ মাহফিল।
কর্মসূচির সূচনা হয় রাত ১২.০১ মি: এ কলেজ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর চিন্ময় বাড়ৈ শিক্ষক-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কলেজের শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ।
দিবসের কর্মসূচি শুরু হয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ২১ বার তপোধ্বনির মধ্য দিয়ে। কলেজের প্রায় সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক কর্মচারী এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে।
এর পর একে একে অনুষ্ঠিত হয় মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কুইজ, রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং দেশাত্মবোধক গানের প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার তিনটি বিষয়ে প্রথম হয়ে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করে দ্বাদশ বিজ্ঞানের ছাত্রী প্রাপ্তি ইসলাম।
সকাল ১০ টায় শুরু হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস : হাজার বছর সংগ্রামের পরিণতি’। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কলেজের বেশ কয়েক জন সিনিয়র শিক্ষক। এছাড়া কলেজের শিক্ষার্থীরাও তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পায়।
আলোচনা অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর চিন্ময় বাড়ৈ। এর পর শুরু হয় মহান স্বাধীনতার উপর রচিত স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে কলেজের বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা। অতঃপর দুপুর ২টায় অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
প্রতিবেদকের নাম : মারিতা রহমান
শিরোনাম : ‘ক’ সরকারি কলেজে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত
প্রতিবেদন তৈরির সময় : বিকেল ৫ টা।
তারিখ : ক সরকারি কলেজ
২৬/০৩/২০২৪ খ্রি.।
প্রশ্ন ৫ : বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রচনা কর।
অথবা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য একটি প্রতিবেদন লিখ।
অথবা, একটি জাতীয় পত্রিকার স্থানীয় সংবাদদাতা হিসেবে তোমার এলাকার দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি বিষয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত কর।
অথবা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণ ও এর প্রতিকার সম্বন্ধে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন রচনা কর।
উত্তর: নিচে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও তার প্রতিকার শীর্ষক একটি প্রতিবেদন রচনা করা হলো:
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও তার প্রতিকার
আধুনিকতার উৎকর্ষে প্রতিনিয়তই নিত্য নতুন জীবনোপকরণ বা দ্রব্যসামগ্রী বাজারে আসছে। সে সবের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে গেছে মানুষের চাহিদা। কিন্তু তার ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে না। কারণ আয় রোজগার, বেতনাদি থাকছে সীমাবদ্ধ। তার সাথ সরবরাহ যদি কমে যায় তবে দ্রব্য সামগ্রীর দাম অনিবার্যভাবেই বাড়বে। দেখা দিবে জীবন-সংকট। বর্তমান বাংলাদেশে বাজার-মূল্যে তেমন সংকট দেখা দিয়েছে। চাল, ডাল, তরকারি থেকে শুরু করে শিক্ষা ব্যয়, নির্মাণ ব্যয়, চিকিৎসা ব্যয়, যাতায়াত ভাড়া লাগামহীনভাবে বেড়ে যাচ্ছে। তাই হয় উৎপাদন বাড়াতে হবে নয়ত সংযমী হতে হবে। তা না হলে আয় রোজগার বাড়িয়ে বা বেতন বৃদ্ধি করেও কোন লাভ হবে না। কেবল টাকার বোঝাই বাড়বে।
আসলে ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও সরবরাহ অনেক কম বলেই দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। আবার একটি আশ্চর্যের ব্যাপার হল দাম যতই বাড়ছে এক শ্রেণীর মানুষ তাতেই কিনে নিচ্ছে। তা থেকে বলা যায় যে, বাংলাদেশে বর্তমানে ধনী দরিদ্রের বৈষম্য ব্যাপক পরিমাণে বেড়ে গেছে। ঘুষ, দুর্নীতি, অনৈতিক রাজনীতি, চোরাচালান, ঋণ খেলাপীর মাধ্যমে এক শ্রেণির মানুষ আজ প্রচুর টাকার মালিক। তাদের সন্তান, আত্মীয়, চাটুকারা দু’হাতে পয়সা খরচ করছে। তারই ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে দ্রব্যমূল্য। চালের মূল্য কিছুটা সহনীয় হলেও ডালের দাম দ্বিগুণ বেড়ে রকমভেদে ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের কেজি ১০০০ টাকার ওপর। এভাবে সব রকমের মাছ-মাংস, তরকারি, পেঁয়াজ, রসুন, তেল, সাবান আজ আকাশ ছোঁয়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হল ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ। শহর নগর বন্দরে বসবাসের সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণ। তারা সব জিনিসই কিনতে বাধ্য। গ্রামগঞ্জের মত ক্ষেতের ধান, পুকুরের মাছ, আঙ্গিনার তরকারি গাছের ফল তাদের নেই। সে সুযোগটাই নিচ্ছে উৎপাদক আর সরবরাহকারীরা। অবশ্য উৎপাদন আর পরিবহণ ব্যয়ও বহুগুণ বেড়েছে। আবার মাঝে মধ্যে বন্যা, খরা, হরতাল, যানজটের কারণেও সঙ্কট সৃষ্টি হয় ঈদ, নববর্ষ আর পূজার মত উৎসবের মৌসুমে তো অনেক দ্রব্যের দাম এমনিতেই বেড়ে যায়। তখন মানুষের হাতে বাড়তি পয়সা থাকে। প্রত্যেকেই সামর্থানুযায়ী কিছু না কিছু কেনার চেষ্টা করে। এসবের যুগপৎ সমীকরণেই দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে।
বস্তুত, যে হারে মানুষ বাড়ছে সে হারে কারখানা এবং জমি বাড়ছে না বলে উৎপাদনও বাড়ানো যাচ্ছে না। এ অসম সংকটই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অনিবার্য কারণ। তাই জনসংখ্যার সাথে উৎপাদনের ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরী। একই সাথে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আর সর্বাত্মক চেষ্টায় উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়াসেই কেবল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধ করা যেতে পারে। তার জন্য চাই সরকারি উদ্যোগ, নাগরিক প্রয়াস।
প্রতিবেদকের নাম : শাহরিয়ার রহমান
শিরোনাম : দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও তার প্রতিকার
প্রতিবেদন তৈরির সময় : সকাল ১০টা।
তারিখ : ঢাকা, ১৩/০৬/২০২৪ খ্রি.।
প্রশ্ন ৬ : ‘যানজট একটি ভয়াবহ সমস্যা’ এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন রচনা কর।
অথবা, তোমার শহরে যানজট সমস্যার উপরে একটি প্রতিবেদন রচনা কর।
উত্তর: নিচে ‘যানজট একটি ভয়াবহ সমস্যা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন রচনা করা হলো:
‘যানজট একটি ভয়াবহ সমস্যা’
অসহনীয় যানজটের কারণে বর্তমানে রাজধানীতে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্য যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখন নির্ধারিত সময়ে কোন ধরনের কাজই সম্পাদন সম্ভব হয়ে উঠছে না এ কারণে। বিশেষ করে ঢাকার নিউমার্কেট, কাকরাইল, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ি ও সায়েদাবাদ এলাকায় যানজটের কারণে মানুষ অসহ্য হয়ে পড়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা লেগে থাকছে এ জট অথচ এ যানজটের কারণে বিপুল পরিমাণ সময়ের ক্ষতি হচ্ছে আবার হারিয়ে যাচ্ছে অগণন শ্রমঘন্টা। এর অর্থমূল্য নির্ণয় করা গেলে দেখা যেত প্রতিদিন কি বিশাল অঙ্কের অর্থের ক্ষতি হচ্ছে। এলাকাগুলোতে সরোজমিন তদন্ত শেষে এ যানজটের জন্য যেসব কারণগুলো দায়ী মনে হয়েছে সেগুলো হল-
১. দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা খোঁড়াখড়ি করে রাখা। ২. অপরিকল্পিত ও যত্রতত্র উঁচু ভবন আর মার্কেট।
৩. ট্রাফিক পুলিশের অসহযোগিতা। ৪. পুলিশ সার্জনদের যেখানে সেখানে গাড়ি থামিয়ে ঘুষ আদায়।
৫. রাস্তার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ রিক্সা। ৬. রাস্তার দু পাশে যত্রতত্র বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী পড়ে থাকা।
৭. রাস্তার ফুটপাতগুলো হকারদের দোকান।
মূলত, এসব কারণেই যানজট কোনভাবেই কমছে না। তাছাড়া বর্ষার মৌসুমে এই সংকট আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায় এবং প্রায় হাঁটু পানি জমে যাওয়ায় প্রাইভেট কার, সিএনজি, তথা, ছোট চাকার গাড়িগুলোর সাইলেন্সার পাইপ দিয়ে পানি ঢুকে সেগুলো রাস্তাতেই বিকল হয়ে যায়। ফলে যানজট আরও বৃদ্ধি পায়।
যানজট নিরসনে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:
১. রাস্তা প্রশস্ত করতে হবে। ২. যানবাহনের সংখ্যা কমাতে হবে।
৩. ফুটপাত হকারমুক্ত করতে হবে। ৪. রিক্সা সম্পূর্ণ তুলে দিতে হবে।
৫. যত্রতত্র গাড়ি থামানো নিষিদ্ধ করতে হবে। ৬. রাস্তার উপর গাড়ি ও নির্মাণ সামগ্রী রাখা বন্ধ করতে হবে।
৭. নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। ৮. বড় বড় রাস্তায় ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে হবে।
৯. পাতাল রেল চালু করতে হবে। ১০. প্রাইভেট করা ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।
তাহলেই যানজট মুক্ত শহর নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদকের নাম : আইমান রহমান
শিরোনাম : ‘যানজট একটি ভয়াবহ সমস্যা’
প্রতিবেদন তৈরির সময় : সকাল ১০টা।
তারিখ : ঢাকা, ১৩/০৬/২০২৪ খ্রি.।
প্রশ্ন ৭: বন্যাদুর্গত এলাকার বিপর্যস্ত জনজীবনের বিবরণ দিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা কর।
অথবা, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় তোমার এলাকায় যে বিরাট ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা জানিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা কর।
উত্তর: নিচে ‘ক এলাকা বন্যাপ্লাবিত: ব্যাচক ক্ষতি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলো:
‘ক’ এলাকা বন্যাপ্লাবিত: ব্যাপক ক্ষতি
‘র’ জেলার ‘ক’ উপজেলা বিপুল দরিদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত একটি এলাকা। এই উপজেলার অন্তর্গত এলাকাসমূহ সাম্প্রতিককালের বন্যায় ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়, বিশেষ করে যমুনার করাল গ্রাসে এই থানার সম্পূর্ণ এলাকাই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া এবারের বন্যা স্মরণকালের দীর্ঘ-স্থায়ী হওয়ায় এ অঞ্চলের দরিদ্র মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হয়।
সর্বনাশা সর্বগ্রাসী বন্যায় এ অঞ্চলের যে সব ইউনিয়ন সর্বাপেক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘গ’ ও ‘ঘ’, । এসব ইউনিয়নের ৯৯% ঘর ধ্বংশ হয়। পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ কি. মি. এবং কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ কি.মি.। পানি প্লাবনে নষ্ট হয়েছে আরও ৫০০ একর জমির ফসল।
এলাকায় প্রায় ৪০০০ দরিদ্র পরিবার পানির বন্দী হয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছে। তাছাড়া বন্যার্তদের অনেকেই ঘরের চাল, উঁচু রাস্তা ও বড় বড় গাছে আশ্রয় নিয়েছে। এলাকার প্রায় ১৭০ টি ছোট ছোট বস্ত্র কারখানা পানিতে ডুবে গেছে। ফলে ১৭ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বন্যার স্থায়িত্ব দীর্ঘ হওয়ায় একদিকে যেমন দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে নানাবিধ পানিবাহিত রোগ যেমন- কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়- এ আক্রান্ত হয়ে দরিদ্র মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এদিকে পচা পানির কারণে চর্মরোগও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মত মানুষের বেশ অভাব। সরকারি সাহায্য সহযোগিতার নামে যে রিলিফ দেয়া হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ সাহায্য শুধু লোক দেখানো। বিভিন্ন বেসরকারি সাহায্য সংস্থা থেকে যে সাহায্য আসছে তাও অপ্রতুল।
এমতাবস্থায় ‘ক’ উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের দিকে সাহায্যের হাত এগিয়ে দেয়া খুব জরুরি। অনতিবিলম্বে এ এলাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, বিশুদ্ধ খাবার পানি, প্রয়োজনীয় শিশু খাদ্য এবং পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করা জরুরি। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি মেরামত করা দরকার। এ সকল ব্যবস্থা যত দ্রুত গৃহীত হবে মানুষের দুঃখ কষ্টও তত দ্রুত হ্রাস পাবে।
উল্লিখিত বিষয়াদির ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
প্রতিবেদকের নাম : ওয়াহিদুজ্জামান
শিরোনাম : ‘ক’ এলাকা বন্যাপ্লাবিত: ব্যাপক ক্ষতি
প্রতিবেদন তৈরির সময় : বিকেল ৫ টা।
তারিখ : ঢাকা, ১৩/০৬/২০২৪খ্রি.।
প্রশ্ন ৮: তোমার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্ণনা করে একটি প্রতিবেদন রচনা কর।
উত্তর: নিচে ‘ক শহরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন রচনা করা হলো:
‘ক’ শহরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি
উত্তরবঙ্গের প্রসিদ্ধ জেলা শহর ‘ক’। এক সময় এটি শান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। বিশেষ করে খ, গ, ঘ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। এহেন পরিস্থিতিতে একদল সুবিধাবাদী মানুষ তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে নানাবিধ সুযোগ গ্রহণ করছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে গত ১৫ দিনে রাজনৈতিক সন্ত্রাসে নিহত হয়েছে ৬ জন এবং আহত ৫০-এর অধিক। ইদানিং দুর্বৃত্ত চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যও যথেষ্টরূপে বৃদ্ধি পেয়েছে। যখন তখন তারা হামলা চালায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিংবা মালিকদের বাসায় চাঁদা দিতে কেউ গড়িমসি করলে তাদের সন্তানদের অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেয়া হয়। স্কুল শিক্ষার্থী মেয়েরাও বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে বখাটে ছেলেরা স্কুলগামী মেয়েদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করছে। ফলে অভিভাবকগণ তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে নিরাপদ বোধ করছে না।
প্রসিদ্ধ এই জেলা শহরের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এহেন অবনতির কারণে এলাকার অনেক পরিবারই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এমতাবস্থায় চলতি মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়। প্রথম দু-তিন দিন এর প্রভাবে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও গত সপ্তাহে সন্ত্রাসীদের গুলিতে এ কমিটির সভাপতি নিহত হন। এরপর থেকে সাধারণ জনগণ ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম স্থিমিত হয়ে পড়ছে। বর্তমানে এ এলাকা সন্ত্রাসী চক্রের অভয়ারণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি এলাকার লোকজন কামনা করছে। অনতিবিলম্বে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ এলাকায় সাধারণ মানুষের বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়বে।
প্রতিবেদকের নাম : আইমান রহমান
শিরোনাম : ‘ক’ শহরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি
প্রতিবেদন তৈরির সময় : বিকেল ৫ টা।
তারিখ : রাজশাহী. ১৩/০৬/২০২৪ খ্রি.।
প্রশ্ন ৯ : ‘বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।
উত্তর: নিচে ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন রচনা করা হলো:
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা। কেননা, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা খুবই করুণ। দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই অশিক্ষিত বা অক্ষরজ্ঞানহীন। তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা অন্যতম।
সরকার ১৯৯২ সালে শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে এবং ২০০০ সালে চালু হয় সবার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম। কিন্তু এর সুফল এখনো চোখে পড়ার মতো নয়। গত কয়েক বছর যাবৎ সরকার শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার হার বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু এতেও যে খুব একটা ভালো ফলাফল আসছে তা নয়।
অথচ জাতীয়ভিত্তিক জাগরণমূলক চেষ্টা নিয়ে আজ শ্রীলংকা ১০০%, রাশিয়া ১০০% ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ৯৮%-৯৯% লোক স্বাক্ষরতা অর্জন করেছে। তাই এ ব্যাপারে আমাদের জনগণকে সচেতন হতে হবে। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে এ কার্যক্রম সফল করার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।
তাহলেই বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচী ১০০% সফলতার মুখ দেখবে এবং এ দেশ মুক্ত হবে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে।
প্রতিবেদকের নাম : জারিফ আহমেদ
শিরোনাম : বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা
প্রতিবেদন তৈরির সময় : সকাল ১০টা।
তারিখ : ঢাকা, ১৩/০৬/২০২৪ খ্রি.।
প্রশ্ন ১০ : ‘পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য চাই বৃক্ষরোপণ’ এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন রচনা কর।
উত্তর: নিচে ‘পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় চাই বৃক্ষরোপণ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন রচনা করা হলো:
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় চাই বৃক্ষরোপণ
জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পরিবেষ্টিত পরিমণ্ডলেই আরেক নাম পরিবেশ। পরম স্রষ্টার অপার দানে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠে সে পরিবেশ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় এমনকি ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে সে পরিবেশ আজ দূষিত হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে পৃথিবী হচ্ছে বিপন্ন, জীবন হচ্ছে বিলুপ্ত। ইতোমধ্যে অনেক প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এমনকি মানুষের জীবন ধারাও হুমকির সম্মুখীন। তাই যে কোন মূল্যে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন। তার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃক্ষরোপণ করা।
স্থানীয় পরিবেশের প্রধান উপকরণই হল নির্মল বায়ু, পানি ও শস্য সম্পদ। কিন্তু যান্ত্রিক সভ্যতার অভিঘাতে কল কারখানা, যানবাহন, শহর-নগর বেড়ে গেছে বহু পরিমাণে। জ্বালানীর ব্যবহারও বেড়ে গেছে। কার্বন ডাই অক্সাইডসহ নানা বিষাক্ত গ্যাস ও ধূলিকণায় বাতাস দূষিত হচ্ছে। প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষনিধনের ফলেও উষ্ণতা বাড়ছে। দেখা দিচ্ছে মরুকরণ। বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে। ঝড় জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানছে। মাটির উর্বরা শক্তি কমে যাচ্ছে। এভাবে প্রতিনিয়ত নানা রোগ ব্যাধিও বেড়ে যাচ্ছে। জীবন ধারণে দেখা দিচ্ছে মারাত্মক সঙ্কট।
এসব বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষরোপণ করা চাই। কারণ বৃক্ষের সাথে জীবনের সম্পর্ক নিবিড়। বৃক্ষ পর্যাপ্ত অক্সিজেন উৎপাদন করে। মাটিকে উত্তপ্ত হওয়ার হাতে থেকে রক্ষা করে। বৃষ্টিপাত বাড়ায়। ভূমিক্ষয় রোধ করে। আসবাবপত্র তৈরির কাঠ ও জ্বালানী সরবরাহ করে। ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে বাঁচায়। এভাবে বৃক্ষ নানা প্রয়োজন মিটায় বলে পরিবেশগত ভারসাম্যও রক্ষা পায় অন্যান্য প্রাণীর জীবন ধারণও সহজ হয়, নিরাপদ হয়। তাই পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে বৃক্ষরোপণ প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
বৃক্ষ সম্পদ বিস্তার নিঃসন্দেহে জীব জগতের পরিবেশ রক্ষার সহায়ক। এমনকি বৃক্ষ সম্পদ বৃদ্ধি করা খুবই সহজ। তাই সরকার ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এমন আবেদন রাখা যায়-পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য চাই বৃক্ষরোপণ।
প্রতিবেদকের নাম : আবরার আহমেদ
শিরোনাম : পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় চাই বৃক্ষরোপণ
প্রতিবেদন তৈরির সময় : সকাল ১০টা।
তারিখ : ঢাকা, ১৩/০৬/২০২৪ খ্রি.।
প্রশ্ন ১১ : ‘আর্সেনিক দুষণ একটি ভয়াবহ সমস্যা’ শিরোনামে প্রতিবেদন লেখ।
উত্তর: নিচে ‘আর্সেনিক দূষণ একটি ভয়াবহ সমস্যা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলো:
‘আর্সেনিক দূষণ একটি ভয়াবহ সমস্যা’
আর্সেনিক একটি রাসায়নিক উপাদান। এটি অনেক খনি ও শিলা পাথরের সাধারণ উপাদান। তবে আর্সেনিকের মূল উৎস হচ্ছে- আর্সেনিক অক্সাইড, আর্সেনিক হলুদ সালফাই, আর্সেনিক সালফাইড, এবং আর্সেনাইড। মাটির অভ্যন্তরের ভূ-রাসায়নিক বিক্রিয়ায় আর্সেনিক নিজস্ব অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসে এবং পানিতে দ্রবীভূত হয়ে নলকূপ বা পাম্পের সাহায্যে পৃথিবীর উপরিভাগে উঠে আসে।
আর্সেনিক বিষক্রিয়ার লক্ষণ: মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক মিশ্রিত পানি দীর্ঘদিন যাবৎ পান করলে দু’বছর কিংবা তার অধিক সময়ে এর লক্ষণ দেখা যেতে পারে। আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে যেসব লক্ষণ দেখা যায় তা নিম্নরূপ-
ক. শরীরে বা হাতের তালুতে বাদামী চাপ পড়তে পারে।
খ. সাধারণত বুকে, পিঠে কিংবা বাহুতে স্পটেড গিমেনটেশন দেখা দিতে পারে।
গ. আক্রান্ত রোগীর শরীরের চামড়া ফেটে অসহনীয় যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়।
ঘ. পেট ব্যথা, কাশি ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি হয়।
ঙ. চোখের মণি সাদা হয়ে চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরে।
বাংলাদেশে ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই ঈশ্বরদীতে সর্বপ্রথম আর্সেনিকের প্রকোপ দেখা দেয়। তখন থেকেই এটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। পরবর্তীতে সরকারি ও বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হয় যে দেশের প্রায় আট কোটি মানুষ আর্সেনিক দুষণের আওতায় পড়ে। বর্তমানে ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, মেহেরপুর, মানিকগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, খুলনা, নঁওগা, নারায়ণগঞ্জ প্রভৃতি এলাকার নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ সহনীয় মাত্রার চাইতে বেশি। এমতাবস্থায় ১৯৯৮ সালের ৮-১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ৫ দিনব্যাপী যে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সেখানে ‘ঢাকা ঘোষণা’ নামে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। যার মধ্যে প্রতিকারের উপায়সমূহ উল্লেখ ছিল। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল-
ক. জনগণকে সচেতন করা।
খ. আর্সেনিক দূষণের সম্ভাব্য এলাকা চিহ্নিতকরণ।
গ. বিশুদ্ধ পানি প্লান্ট স্থাপন করা।
ঘ. আর্সেনিক দুষণ এলাকায় রবি ও খরিফ শস্যাদি চাষ করা।
ঙ. বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা।
উপর্যুক্ত সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করে এ সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আর তা না হলে অচিরেই দেশ মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে বাধ্য।
প্রতিবেদকের নাম : জারিফ আহমেদ
শিরোনাম : ‘আর্সেনিক দূষণ একটি ভয়াবহ সমস্যা’
প্রতিবেদন তৈরির সময় : বিকেল ৫ টা।
তারিখ : রাজশাহী, ১৩/০৬/২০২৪ খ্রি.।
-0-
এইচএসসি সকল বিষয়ের তথ্য পাওয়া যাবে আমার নিচের আইডিতে
Face book ID :ড. এ. আই. এম. মুসা
Face book page : onlinereadingroombd.com এবং Musa sir Bangla
Face book page গুলোতে যুক্ত হয়ে যে কোনো প্রশ্ন করতে পারো উত্তর পেয়ে যাবে।
+88 01713 211 910