
#এইচএসসি, সারমর্ম
এইচএসসি, গুরুত্বপূর্ণ সারমর্ম
১
আমার একার সুখ, সুখ নহে ভাই
আমার সুখ সখা, সুখ শুধু তাই।
আমার একার আলো সে যে অন্ধকার,
যদি না সবারে অংশ দিতে আমি পাই।
সকলের সাথে বন্ধু, সকলের সাথে,
যাইব কাহারে বলো, ফেলিয়া পশ্চাতে।
একসাথে বাঁচি আর একসাথে মরি,
এসো বন্ধু, এ জীবন সুমধুর করি।
সারমর্ম: ব্যক্তিগত সুখ নয়, সবাই মিলে সম্মিলিত সুখই প্রকৃত সুখ। তাই কোন প্রকার বিভেদ সৃষ্টি না করে সমষ্টিগতভাবে জীবন পরিচালনাই প্রকৃত বাঁচা, প্রকৃত সুখ। এতেই জীবন হয় মধুময়।
২
আসিতেছে শুভ দিন-
দিনে দিনে বহু বাড়িতেছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ ৷
হাতুড়ি, শাবল, গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দুপাশে পড়িয়া যাদের হাড়,
তোমাদের সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদের গান
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান ।
সারমর্ম: শ্রমজীবীদের কঠোর শ্রমের ওপর নির্ভর করেই দেশ, জাতি ও সভ্যতা সমৃদ্ধি সোপানে আরোহন করেছে। অথচ মুনাফালোভী ধনীদের শোষণ ও নিষ্পেষণেই শ্রমজীবীরা আজ নিঃস্ব। এখন সময় এসেছে এদের ঋণ শোধ করার।
৩
সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে,
সার্থক জনম মাগো তোমায় ভালবেসে।
জানি না তোর ধন-রতন আছে কিনা রাণীর মতন
শুধু জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে।
কোন্ বনেতে জানিনে ফুল গন্ধে এমন করে আকুল,
কোন্ গগনে উঠেরে চাঁদ এমন হাসি হেসে।
আঁখি মেলে তোমার আলো প্রথম আমার চোখ জুড়ালো,
ওই আলোতেই নয়ন রেখে মুদব নয়ন শেষে ।
সারমর্ম: মানুষের সবচেয়ে প্রিয় স্থান তার জন্মস্থান বা জন্মভূমি। প্রচুর সম্পদ না থাকলেও মাতৃভূমির সব অনির্বচনীয় সৌন্দর্য ও প্রীতিময় স্থান তার কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই জন্মভূমির বুকে মৃত্যুবরণ করাটাও আনন্দের, তৃপ্তির।
৪
পুণ্যে পাপে দুঃখে সুখে পতনে-উত্থানে
মানুষ হইতে দাও তোমার সন্তানে
হে স্নেহার্ত বঙ্গভূমি— তব গৃহক্রোড়ে
চিরশিশু ক'রে আর রাখিয়ো না ধরে।
দেশ-দেশান্তর মাঝে যার যেথা স্থান
খুঁজিয়া লইতে দাও করিয়া সন্ধান ।
পদে পদে ছোটো ছোটো নিষেধের ডোরে
বেঁধে রাখিয়ো না ভালো ছেলে করে।
প্রাণ দিয়ে, দুঃখ স'য়ে, আপনার হাতে
সংগ্রাম করিতে দাও ভালো-মন্দ-সাথে।
সারমর্ম: উত্থান-পতন আর সুখ-দুঃখের মধ্য দিয়ে যে শিশু বড় হয় সে-ই যথার্থ প্রতভিার বিকাশ ঘটাতে পারে। মাতৃস্নেহের আড়ালে যে শিশু বেড়ে উঠে সে প্রকৃত মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে পারে না। বিধি-নিষেধের শৃঙ্খল ভেঙ্গে এবং ভালো মন্দের সাথে অবিরত সংগ্রম করেই মানুষকে বড় হতে হয়।
৫
নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো,
যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো ।
সবাই মোরে ছাড়তে পারে বন্ধু যারা আছে,
নিন্দুক সে ছায়ার মতো থাকবে পাছে পাছে ।
বিশ্বজনে নিঃস্ব করে পবিত্রতা আনে,
সাধকজনে নিস্তারিতে তার মতো কে জানে?
বিনামূল্যে ময়লা ধুয়ে করে পরিষ্কার,
বিশ্ব মাঝে এমন দয়াল মিলবে কোথা আর?
নিন্দুক, সে বেঁচে থাকুক বিশ্বহিতের তরে,
আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে ।
সারমর্ম: নিন্দুক শত্রুর মতো দোষ-ত্রুটি ধরে বেড়ায় বটে কিন্তু সে-ই প্রকৃত বন্ধু। কেননা, দোষ-ত্রুটি ধরে সে সকল প্রকার অন্যায় পাপাচার থেকে মানুষকে রক্ষা করে। এবং তাকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বিকশিত হতে সাহায্য করে।
৬
'ধন-রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই সুখ নাই
সুখ পর-উপকারে, তারি মাঝে খোঁজ ভাই ৷
আমিত্বকে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ করো যদি
পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি।
নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা,
তবেই পাইরে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি।'
সারমর্ম: ধন-দৌলত, ঐশ্বর্য, ক্ষমতা কিংবা স্বার্থপরতার মধ্যে সুখ নেই। বরং পরের উপকারের মধ্যেই পরম সুখ। অন্য কথায় বলা যায়, পরের কল্যাণ কামনার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত।
৭
দৈন্য যদি আসে আসুক, লজ্জা কিবা তাহে?
মাথা উঁচু রাখিস ।
সুখের সাথী মুখের পানে যদি না চাহে
ধৈর্য ধরে থাকিস ।
রুদ্ররূপে তীব্র দুঃখ যদি আসে নেমে,
বুক ফুলিয়ে দাঁড়াস্ ।
আকাশ যদি বজ্র নিয়ে মাথায় পড়ে ভেঙে
ঊর্ধ্বে দু'হাত বাড়াস ।
সারমর্ম: দুরবস্থা ও বিপর্যয় মানুষের জীবন চলার পথে আসবেই। তাতে ধৈর্য হারানো চলবে না। সকল প্রতিকূলতাকে সাহস ও ধৈর্য দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে।
৮
ছোটো ছোটো বালু কণা, বিন্দু বিন্দু জল,
গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল ।
মুহূর্তে নিমেষ কাল, তুচ্ছ পরিমাণ,
গড়ে যুগ যুগান্তর-অনন্ত মহান ।
প্রত্যেক সামান্য ত্রুটি, ক্ষুদ্র অপরাধ,
ক্রমে টানে পাপপথে, ঘটায় প্রমাদ !
প্রীতি-করুণার দান, স্নেহপূর্ণ বাণী,
এ ধারায় স্বর্গসুখ নিত্য দেয় আনি ।
সারমর্ম: একটি বলুকণা কিংবা এক ফোটা জল যতই ক্ষুদ্র হউক তারাই গড়ে তোলে মহাদেশ কিংবা মহাসমুদ্র। তাই অন্যায় বা পাপ যতই ছোট হউক তা মহা পাপের জন্ম দেয়। বিপরীতক্রমে অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্নেহ মমতাই্ পৃথিবীকে সর্গে পরিণত করে।
৯
জলহারা মেঘখানি বরষার শেষে
পড়ে আছে গগনের এক কোণ ঘেষে।
বর্ষাপূর্ণ সরোবর তারি দশা দেখে
সারাদিন ঝিকিমিকি হাসে থেকে থেকে।
কহে, ওহে লক্ষ্মীছাড়া, চালচুলা হীন, .
নিজেরে নিঃশেষ করি, কোথায় বিলীন।
আমি দেখো চিরকাল থাকি জলভরা ।
সরোবর, সুগভীর নাই নড়াচড়া ৷
মেঘ কহে, ওহে বাপু, করো না গরব
তোমার পূর্ণতা সে যে আমারই গৌরব।
সারমর্ম: মেঘ স্বীয় জল অকাতরে বিলিয়ে দিয়েই সরোবরকে পূর্ণ করে। অথচ অকৃতজ্ঞ সরোবর বর্ষা শেষে মেঘকে নিঃস্ব বলে উপহাস করে। কিন্তু মেঘের মতো প্রকৃত পরোপকারী সরোবরের উপহাসে কখনও ক্ষান্ত হয় না বরং মানুষ ও প্রকৃতি জগতের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে গৌরব বোধ করে।
১০
কোথায় স্বৰ্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর?
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর।
রিপুর তাড়নে যখনই মোদের বিবেক পায় গো লয়,
আত্মগ্লানির নরক অনলে তখনই পুড়িতে হয় ।
প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরই কুঁড়েঘরে।
সারমর্ম: অনেকে মনে করেন স্বর্গ-নরক অনেক দূরে অবস্থিত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়। স্বর্গ নরক মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান রয়েছে। মানুষ যখন স্বীয় অপকর্মের জ্বালা ভোগ করে তখন তাই তার কাছে নরক। আর যখন সে সৎ কর্মের সুখ ভোগ করে তখন তাই তার কাছে স্বর্গ। অন্যদিকে পরস্পর হানাহানির পরিবর্তে যখন প্রীতি ও প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয় তখন স্বর্গ তার কুঁড়েঘরেই এস ধরা দেয়।
১১
একদা ছিল না জুতা চরণ যুগলে,
দহিল হৃদয় মন সেই ক্ষোভানলে ।
ধীরে ধীরে চুপি চুপি দুঃখাকুল মনে,
গেলাম ভজনালয়ে ভজন কারণে।
সেথা দেখি একজন পদ নাহি তার,
অমনি জুতার খেদ ঘুচিল আমার ।
পরের দুঃখের কথা করিলে চিন্তন,
আপনার মনে দুঃখ থাকে কতক্ষণ?
সারমর্ম: মানব জীবনে অনেক অপূর্ণতা আছে সত্যি। তবে আমরা যদি অন্যের অপূর্ণতার দিকে তাকাই তবে নিজের অপূর্ণতা ভুলে থাকতে পারি। যার পায়ে দেওয়ার মতো এক জোড়া জুতা নেই সেটি অবশ্যই কষ্টের কিন্তু যার পা-ই নেই তার কষ্ট তো সীমাহীন। তাই আমাদের উচিত যা আছে তা নিয়ে শুকরিয়া আদায় করা এবং অন্যের কষ্ট দেখে নিজের কষ্ট ভুলে থাকা
১২
এই সব মূঢ় স্লান মূক মুখে
দিতে হবে ভাষা; এই-সব শ্রান্ত শুঙ্ক ভগ্ন বুকে
ধ্বনিয়া তুলিতে হবে আশা; ডাকিয়া বলিতে হবে-
‘মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি সবে;
যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা-চেয়ে,
যখনি জাগিবে তুমি তখনি সে পলাইবে ধেয়ে।
যখনি দাঁড়াবে তুমি সামনে তাহা তখনি সে
পথকুক্কুরের মতো সংকোচে সন্ত্রাসে যাবে মিশে।
দেবতা বিমুখ তারে, কেহ নাহি সহায় তাহার;
মুখে করে আস্ফালন, জানে যে হীনতার আপনার
মনে মনে
সারমর্মঃ দারিদ্রের নিষ্পেষণে জর্জরিত, হতাশাগ্রস্ত দুঃখী মানুষের দুঃখ ও অগৌরব দূর করার জন্য চাই নতুন শক্তি ও প্রেরণা। তাহলেই অপশক্তির বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যবদ্ধ, সংগঠিত ও অনুপ্রাণিত করা সম্ভব হবে। ঐক্যবদ্ধ জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের সম্মুখে অত্যাচারীর পরাজয় অনিবার্য।
১৩
শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?
সময় ছাড়িয়া দিয়া করে পণ্ডশ্রম,
ফল কহে সেও অতি নির্বোধ অধম।
খেয়াতরী চলে গেলে বসে থাকে তীরে,
কিসে পার হবে তারা না আসিলে ফিরে
সারমর্মঃ জীবনে সার্থকতা অর্জনের জন্য ছেলেবেলা থেকেই নৈতিক সততার শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। সময়ের কাজ সময়ে করতে না পারলে তার জন্য জীবনে মূল্য দিতে হয় প্রচুর। কারণ, সুযোগ চলে গেলে তা হয়ত আর ফিরে আসে না।
১৪
আমি যে দেখেছি গোপন হিংসা কপটরাত্রি-ছায়ে
হেনেছে নিঃসহায়ে।
আমার যে দেখেছি-প্রতিকারহীন, শক্তের অপরাধে
বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।
আমি যে দেখিনু তরুণ বালক উন্মাদ হয়ে ছুটে
কী যন্ত্রণায় মরেছে পাথরে নিষ্ফল মাথা কুটে
কণ্ঠ আমার রুদ্ধ আজিকে, বাঁশি সংগীতহারা,
অমাবস্যার কারা
লুপ্ত করেছে আমার ভুবন দুঃস্পনের তলে।
তাই তো তোমায় শুধাই অশ্রুজলে-
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?
সারমর্মঃ কবি অবলোকন করেন, হিংস্রাশ্রয়ীর চক্রান্ত ও শক্তির দাপটের কাছে মানবতা ভূলুণ্ঠিত। অন্যায়ের প্রতিকারে অগণিত তরুণ-প্রাণের আত্মদানেও জাগ্রত হয়নি বিশ্ববিবেক। তবু কবির স্থির বিশ্বাস বিবেক-বর্জিত অত্যাচারীর দল একদিন নিশ্চয় ঈশ্বরের ক্ষমাহীন বিচারের চরম দণ্ড লাভ করবে।
১৫
জোটে যদি মোটে একটি পয়সা
খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি।
দুটি যদি জোটে তবে অর্ধেকে
ফুল কিনে নিও,হে অনুরাগী।
বাজারে বিকায় ফল ও তন্দুল;
সে শুধু মিটায় দেহের ক্ষুধা
হৃদয় প্রাণের ক্ষুধা নাশে ফুল
দুনিয়ার মাঝে সে-ই তো সুধা!
সারমর্ম: মানবজীবনে দৈহিক চাহিদার পাশাপাশি আত্মিক চাহিদার গুরুত্বও অপরিহার্য। কেবল ক্ষুৎপিপাসার নিবৃত্তিই জীবনের মোক্ষম নয়। সৌন্দর্যচর্চা মানবজীবনেরই একটি অংশ। তাই দৈহিক চাহিদার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী আত্মিক চাহিদাও পূরণ করা উচিত।
১৬
অদ্ভুদ আঁধার এক এসছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোন প্রেম নেই-প্রাতী নেই-করুণার
আলোড়ন নেই অচল তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে মানুষের প্রতি
এখানো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য ও রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।
সারমর্মঃ বর্তমান পৃথিবী নানা জটিলতা ও বিশৃঙ্খলায় পরিপূর্ণ। প্রেম-দয়াহীন, নিষ্ঠুর ও জ্ঞানহীন লোকেরা পৃথিবীর নিয়ন্তা হয়ে উঠেছে। প্রজ্ঞাবান, সৌন্দর্যপিপাসু, মানবপ্রেমিক, দয়ালু ও ন্যায়বান লোকেরা আজ লাঞ্ছিত অবহেলিত।
+88 01713 211 910