
#এইচএসসি, ভাবসম্প্রসারণ :বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছেন নারী, অর্ধেক তার নর
#বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছেন নারী, অর্ধেক তার নর।
নারী-পুরুষের সমান চেষ্টা ছাড়া পৃথিবীতে বড় কিছু সৃষ্টি হয়নি। পৃথিবীর যাবতীয় কল্যাণের পেছনে নারী-পুরুষের একত্র প্রয়াস সমানভাবে কার্যকর।
সৃষ্টিকর্তা নারী জাতিকে পুরুষ জাতির পরিপূরক রূপে সৃষ্টি করেছেন। কিংবা অন্যভাবে বলা যায় পুরুষকে নারীর পরিপূরক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তাই যথার্থ সাফল্যের জন্য প্রত্যেক নারী-পুরুষ পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। উভয়ের সম্মিলিত প্রয়াসের ফলেই এ পৃথিবীর সভ্যতা ও প্রগতি বেগবান হয়েছে। এই ধ্রুব সত্যকে যখনই যে সভ্যতা অস্বীকার করতে চেয়েছে তখনই তাদের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। পুরুষ যখনই নারীর অধিকারের উপর খড়গহস্ত হয়েছে তখনই পৃথিবীতে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। মানবতার অভাবে পৃথিবীতে বিরাজ করেছে মরুময় শূন্যতা। একই ভাবে নারী যখন তার কল্যাণব্রতের ভূমিকা থেকে চ্যুত হয়েছে তখনই সভ্যতায় এসছে স্থবিরতা। সভ্যতার ইতিহাস এসব ঘটনার নীরব সাক্ষী। তাই আধুনিক সভ্যতা ও প্রগতির জন্য নারী কিংবা পুরুষ জাতি একক কৃতিত্বের দাবি করতে পারে না। আর কেউ যদি তা করে তবে সে দাবি গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হবে।
আদিকাল মানুষ জাতি বড় অসহায়ভাবে জীবনযাপন করত। সময়ের বিবর্তনে মানব জাতি যাবতীয় প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নতুন নতুন সভ্যতা জন্ম দিয়েছে। মানুষ তার মেধা আর কায়িক পরিশ্রম দিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলছে বর্তমান সভ্যতার তিলোত্তমা মুর্তি। এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসের ফলে পুরুষের পরিশ্রম আর সংগ্রামের পেছনে নারীর সেবা আর সভ্যতার অগ্রগতি যদি একটি গাড়ি হয় তবে নারী-পুরুষ হল সেই গাড়ির দুই চাকা। এই দুই চাকা যদি সমান না হয় তবে গাড়ি সমান তালে এগিয়ে যেতে পারবে না। এই সত্যকে গভীরভাবে উপলব্ধি করলে এবং সেই অনুযায়ী এগোতে পারলেই মহান কিছুকে লাভ করা সম্ভব।
সম্মিলিত এই প্রয়াসের কথা আমরা মাঝে মধ্যেই ভুলে যাই, ফলে সভ্যতার অগ্রগতি হয় ব্যাহত। যাবতীয় সংকীর্ণতাকে ঝেড়ে ফেলে, কল্যাণের পথে অগ্রসর হবার প্রয়োজনে আমাদের তাই সম্মিলিত ভাবে কাজ করা উচিত।
+88 01713 211 910