
এইচএসসি, নহে আশরাফ যার আছে শুধু বংশ পরিচয়/সেই আশরাফ জীবন যাহার পুণ্য কর্মময়।অথবা, জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভাল
নহে আশরাফ যার আছে শুধু বংশ পরিচয়
সেই আশরাফ জীবন যাহার পুণ্য কর্মময়।
অথবা, জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভাল
জন্মের ওপর মানুষের কোন হাত নেই। তার অধিকার আছে কর্মে। কর্মের মধ্য দিয়েই মানুষ তার প্রকৃত পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। কাজেই কোন ব্যক্তি কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন সেটা মূল ব্যাপার নয়, তার সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব পুণ্য কর্মের ওপরই নির্ভরশীল।
আভিজাত্য সকল যুগের মানুষের কাছেই আকাঙ্ক্ষিত। এ মর্যাদা তাদের শিরেই শোভা পায় যাঁরা কৃতকর্মের জন্য সমাজ ও দেশের সম্মানিত ছিলেন। ব্যক্তি বিশেষের সৎ কাজই তাকে শরাফতি বা কৌলিণ্য দেয়। সমাজ বা দেশের চোখে তিনি হন আশরাফ বা কুলীন বা অভিজাত। এর ফলে তিনি সমাজের বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা কাজ না করে বংশানুক্রমিকভাবেই সে ফল ভোগ করতে চায়। বাপ-দাদার উপাধি ও বংশ মর্যাদার বলে তারা সমাজে উচ্চ আসন ও সম্মান দাবি করে। অথচ মানুষের সম্মান ও শ্রদ্ধা লাভ করার মত গুণ ও কর্মদক্ষতা তাদের নেই। পূর্ব পুরুষদের ভাগ্যের ও কর্মের গুণে যে অর্থ প্রতিপত্তি পেয়েছে তার দৌলতে নিজেদেরকে তারা গণ্যমান্য ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি মনে করে। কিন্তু মানবতার মাপকাঠিতে তারা আশরাফ বা অভিজাত ব্যক্তি নন। সত্যিকার অর্থে আভিজাত্যের মাপকাঠি হবে পুণ্যকর্ম। যে ব্যক্তি ন্যায় ও সত্যকে অনুসরণ করে অন্যায় ও অবিচার থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে তিনিই যথার্থ আশরাফ ব্যক্তি। সে ব্যক্তির যদি টাকা পয়সা নাও থাকে তবু তিনি মহান, অনুসরণীয় এবং মান্য ব্যক্তি। মিথ্যা ভণ্ডামির ওপর দাঁড়িয়ে যারা আভিজাত্যের আস্ফালন করে তারা কপট; তাদের পতন আবশ্যম্ভাবী। মানুষ জন্মগত অধিকারের জন্য যতই কাড়াকাড়ি করবে তার ব্যক্তিগত শৌর্য ততই দূর্বল ও হীন হয়ে পড়বে। তিনি প্রকৃতপক্ষে বীর্যবান ও কর্মশক্তির অধিকারী যিনি কখনই পরমুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন না। স্বীয় কর্মবলে তিনি সাফল্যের চুড়ায় আরোহণ করেন। তথাকথিত নীচু পেশাজীবীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেও অনেক মহাপুরুষ জগৎকে ধন্য করেছেন। জর্জ ওয়াশিংটন একজন সামান্য কৃষকের ঘরে জন্ম গ্রহণ করে স্বীয় কর্মবলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, শেরশাহ প্রমুখ ব্যক্তিনিতান্তই সাধারণ ঘরের সন্তান ছিলেন। ইতিহাসের পাতায় পাতায় এরূপ শতসহস্র মহাপুরষের উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যাবে। প্রকৃতির পুষ্পজগতে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন পদ্মের জন্মও পঙ্কে। সুতরাং মানুষের উচিত স্বীয় কর্মবলে সামনে অগ্রসর হবার চেষ্ট করা। প্রাচীন সভ্যতায় মানুষের কর্মের অধিকারও ছিল না। গোড়া সামন্তবাদী সমাজে এক শ্রণির মানুষকে ছোট করে রাখা হত বিভিন্ন কৌশলে। আজ সে বর্বর সভ্যতার প্রায় অবসান ঘটেছে। মানুষ এখন স্বীয় কর্মবলে বংশগত গ্লানি দূর করতে সক্ষম। পক্ষান্তরে অনেকে অভিজাত বংশে জন্মগ্রহণ করেও আপন কুকর্মের জন্য সমাজে নিন্দিত ও ধিকৃত হয়েছে। আভিজাত্য হারিয়েছে, বংশগৌরব তাকে রক্ষা করতে পারে নি।
মানুষের বল, গৌরব, সম্মান, প্রতিপত্তি সকল কিছু নির্ভর করে তার কর্মের উপর , জন্মের উপর নয়। তাই মিথ্যা অহংকার এবং কপটতায় আশ্রয় না নিয়ে আভিজাত্য অর্জন করার জন্য পুণ্যময় কাজ করা উচিত। তবেই অর্জিত হবে সত্যিকারের সাফল্য।
+88 01713 211 910