
NTRCA বাংলা ছন্দ ও ছন্দের প্রকারভেদ
প্রশ্ন : ছন্দ কাকে বলে? বাংলা ছন্দ কতপ্রকার ও কী কী? প্রত্যেক প্রকার ছন্দের উদাহরণ দাও।
উত্তর: সংস্কৃত ভাষায় ‘ছন্দ’ শব্দের দুটি অর্থ আছে; এর একটি হলো-‘কাব্যের মাত্রা’ এবং অন্যটি হলো-‘ইচ্ছা’। সুতরাং এই দিক বিবেচনায় বলা যায়, মাত্রা নিয়মের যে বিচিত্রতায় কাব্যের ইচ্ছাটি বিশেষভাবে ধ্বনি-রূপময় হয়ে উঠে, তাই ছন্দ।
তবে ছন্দের সংজ্ঞা প্রদানে বিভিন্ন পন্ডিত বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। ছান্দসিক প্রবোধচন্দ্র সেন ছন্দের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন-
‘শিল্পিত বাকরীতির নামই ছন্দ।’
অমূল্যধন মুখোপাধ্যায় ছন্দের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন-
‘যে ভাবে পদ বিন্যাস করিলে বাক্য শ্রুতিমধুর হয় এবং
মনে রসের সঞ্চার হয়; তাহাকে ছন্দ বলে।’
তারাপদ ভট্টাচার্যের মতে-
‘ভাষার অন্তর্গত প্রবহমাণ ধ্বনি-সৌন্দর্যই ছন্দ।’
আবদুল কাদির ছন্দের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন-
‘শব্দের সুমতি ও সুনিয়ন্ত্রিত বাণীবিন্যাসকে বলা হয় ছন্দ।’
সুতরাং বলা যায় যে, যে সুনিয়ন্ত্রিত পদবিন্যাস বাক্যকে সৌন্দর্য ও শ্রুতিমাধুর্য দান করে তাকেই ছন্দ বলে।
ছন্দের প্রকার ভেদ
বাংলা ছন্দ প্রধানত তিন প্রকার। যথা:
১। স্বরবৃত্ত ছন্দ
২। মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
৩। অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
নিচে এদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেয়া হলো-
১। স্বরবৃত্ত ছন্দ : যে ছন্দে যুগ্মধ্বনি সবসময় এক মাত্রা গণনা করা হয় এবং প্রত্যেক পর্বের প্রথম শব্দের আদিতে শ্বাসাঘাত পড়ে তাকে স্বরবৃত্ত ছন্দ বলে। যেমন-
বাঁশ বাগানের /মাথার উপর/চাঁদ উঠেছে/ওই (৪+৪+৪+১)
মাগো আমার /শোলক বলা/ কাজলা দিদি/কই।(৪+৪+৪+১)
২। মাত্রাবৃত্ত ছন্দ : যে ছন্দে যুগ্মধ্বনি সবসময় দুই মাত্রা গণনা করা হয় এবং বিশিষ্ট ভঙ্গীতে উচ্চারিত হয়, তাকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলে। যেমন-
এইখানে তোর/দাদির কবর/ডালিম গাছের/তলে(৬+৬+৬+২)
তিরিশ বছর/ভিজিয়ে রেখেছি/দুই নয়নের জলে।(৬+৬+৬+২)
৩। অক্ষরবৃত্ত ছন্দ : যে ছন্দে শব্দের আদিতে ও মধ্যে যুগ্মধ্বনি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট উচ্চারণে এক-মাত্রা এবং শেষে যুগ্মধ্বনি থাকলে বিশিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রা ধরা হয়, সে ছন্দকে অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বলা হয়। যেমন-
মরিতে চাহিনা আমি/সুন্দর ভুবনে, (৮+৬)
মানবের মাঝে আমি/বাঁচিবারে চাই।(৮+৬)
ড. এ. আই. এম. মুসা
অধ্যাপক-বাংলা
+88 01713 211 910