
NTRCA School: বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায়) ভাষণ: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
NTRCA School: বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায়)
ভাষণ: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: কোনো প্রতিষ্ঠানে ’১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রধান অতিথির একটি মঞ্চ ভাষণ তৈরি করুন।
উত্তর : জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, এবং সুপ্রিয় সুধী, সবাইকে আমার আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা।
সম্মানিত সুধীবৃন্দ, আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। আজকের এই শোক সমগ্র বাঙালি জাতির। এ দিনেই আমরা হারিয়েছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমরা এমন এক মহান নেতাকে হারিয়েছি যা কখনো কোনো কিছুর মধ্য দিয়ে পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। যে মহান নেতার আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে বাংলার আকাশে স্বাধীনতার বাণী ধ্বনিত হয়েছিল। এই নেতাই শোষিত-বঞ্চিত মানুষকে জীবনের মুক্তির গান শুনিয়েছেন। অথচ এই নেতাকেই আমরা হারিয়েছি কতিপয় ক্ষমতা লোলুপ মানুষের ঘৃণ্য চক্রান্তের মাধ্যমে। এর চেয়ে দুঃখজনক, বেদনাদায়ক আর কি হতে পারে। জাতীর জীবনে এর চেয়ে শোকোময় ঘটনা দ্বিতীয়টি নেই।
সুধী, আজ সমগ্র জাতির জন্যে একটি কান্নাভরা বেদনার দিন। আপনারা জানেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এক অভিন্ন ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ পাকিস্তানী স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জীবনবাজী রেখে যুদ্ধ করে। ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়। জীবনের বিনিময়ে বাঙালিরা স্বাধীনতা অর্জন করে।
সমবেত সুধী, আপনারা জানেন যে, এ মহান নেতার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। এটি ছিল একটি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। যার মধ্যে একটি রাজনৈতিক দর্শনকে নিশ্চিহ্ন করবার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল। এটি ছিল একাত্তরের পরাজিত রাজাকার, আলবদর, পরাজিত পাকিস্তান এবং সাম্রাজ্যবাদের নীল নকশায় ইতিহাসের একটি জঘন্যতম নৃশংস হত্যাকান্ড। এই ঘটনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বিরোধী রাষ্ট্র কায়েম হয়।
সুধী, আপনারা অবগত আছেন যে, মানবতা বিরোধী ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিষিদ্ধ করে দেয়া হলে দীর্ঘদিন জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্ভব হয়নি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ওই কালো আইন বাতিল করে বিচারের পথ খুলে দেয়। হত্যাকান্ডের ২১ বছর পর মামলা করা সম্ভব হয়। তেরো বছর মামলা চলে। আদালত ১৫ জনের ফাঁসির আদেশ দেয়। চৌত্রিশ বছর পর জাতির জনক হত্যাকান্ডের বিচারের রায়ে প্রমাণিত হয় এটি ছিল জঘন্যতম অপরাধ। এ বিচারের মধ্য দিয়ে জাতি তার কলঙ্কের দাগ মুছল। এখন আমাদের উপরে এক মহান দায়িত্ব হলো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়া। তবেই তার বিদেহী আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।
সুধী, এ-কথা আমরা সকলেই জানি যে, বিশ্বের এমন কিছু দেশ আছে যাদের স্বাধীনতার জন্যে এক একজন মহীরুহ সদৃশ নেতার আবির্ভাব ঘটেছে। যেমন : রাশিয়ার ভ্লাদিমিরি ইলিচ লেনিন। আমেরিকার আব্রাহাম লিংকন। ভিয়েতনামের হোচিমিন। চিনে মাওসেতুঙ। তুরস্কে কামাল আতাতুর্ক। যুগোশ্লাভিয়ায় মার্শাল টিটো। ভারতবর্ষে মহাত্মা গান্ধী। দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলা। কিউবায় ফিদেল ক্যাস্ট্রো, ফিলিস্তিনে ইয়াসির আরাফাত প্রমুখ। মহাকালের হাত ধরে বাঙালি তথা বাংলাদেশের মানুষও একজন অবিসংবাদিত নেতাকে পেয়েছে, যিনি আমাদের বন্ধু- বঙ্গবন্ধু, যিনি আমাদের জাতির পিতা, যার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। চক্রান্তমূলক হত্যাকাণ্ডের পরও বাঙালির প্রাণে বাজতে থাকবে:
যতদিন রবে পদ্মা-মেঘনা
গৌরী-যমুনা বহমান
ততদিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান
- সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
(প্রতিবেদন বিষয়ে পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:
প্রশ্ন ২: মাদকাসক্তির কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি ভাষণ তৈরি কর।
অথবা, ‘মাদকের অপর নাম মৃত্যু’- শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থাপনের উপযোগী একটি ভাষণ রচনা কর।
উত্তর: নিচে ‘মাদকের অপর নাম মৃত্যু' শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থাপনের জন্য একটি মঞ্চভাষণ উপস্থাপন করা হলো :
'মাদকের অপর নাম মৃত্যু' শীর্ষক আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, এবং সুপ্রিয় সুধী, সবাইকে আমার আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা।
বহু সমস্যায় দীর্ণ-বিদীর্ণ বাংলার ধমনীর শোণিত ধারায় আজ প্রবেশ করেছে মৃত্যু কুটিল কালনাগিনী। সুচিন্তিত পরিকল্পনা, সমবেত শুভপ্রয়াস এবং সদিচ্ছার মধ্যস্থতায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহের যদিও বা সমাধান সম্ভব, কিন্তু নবাগত এ কালকেউটের আক্রমণ থেকে সমাজকে বিশেষত যুব সমাজকে রক্ষা করা যাবে কিরূপে? বাংলার লৌহ বাসরের দুর্নীতির রন্ধ্রপথে যে ভয়ংকরী কালনাগিনীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে তার মৃত্যুময় বিষদংশন থেকে আমাদের জাতির লখিনদরদের বাঁচার উপায় যদি অবিলম্বে উদ্ভাবিত বা গৃহীত না হয়, তবে এ হতভাগ্য জাতির পুনরুত্থানের স্বপ্ন অচিরেই ধুলিসাৎ হয়ে যাবে। এই ভয়ংকরী কালনাগিনী আর কেউ নয়, সে হলো মাদকাসক্তি।
প্রিয় সুধী,
প্রথমেই আমরা জেনে নেই কী কী দ্রব্যের মধ্য দিয়ে আমাদের দেহের যুবসমাজ আসক্তিতে লিপ্ত হয়। প্রধানত প্রাকৃতিক কিছু দ্রব্য তথা তাড়ি আফিম, গাজা, ভাঙ, চরশ, হাশিশ, মারিজুয়ানা ইত্যাদির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়ত রাসায়নিক কিছু দ্রব্যের মাধ্যমে হেরোইন, মরফিন, কোকেন, প্যাথোড্রিন, সঞ্জীবনী সুরা, ইয়াবা, বিভিন্ন প্রকার অ্যালকোহল ইত্যাদির মাধ্যমে। বাংলাদেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এই মরণ নেশায় আসক্ত।
প্রিয় সুধী,
এখন আমরা মাদকাসক্তির কারণগুলো এবং এ থেকে উত্তরণের পথ জেনে নেই।
১. বেকারত্ব, হত্যাশা, বন্ধু-বান্ধবের প্ররোচনা,
২. সৌখিনতা ও কৌতূহল,
৩. পারিবারিক অশান্তি,
৪. প্রেমে ব্যর্থতা,
৫. মাদক ব্যবসায়ীদের প্ররোচনা,
৬. পাশ্চাত্য জীবনের অন্ধ অনুকরণ ও
৭. দেশের বিশেষ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা।
এই কারণগুলো দূর করে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আমাদের যা করতে হবে, তা হলো:
১। প্রস্তুত কারক ও সরবরাহকারীদের প্রতিরোধ,
২। সন্তানদের প্রতি পরিবার থেকে আরো মনোযোগী হওয়া,
৩। ইমাম ও আলেম সমাজের ধর্মীয় দিক থেকে এর ক্ষতিকর দিক ব্যাখ্যা করা,
৪। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়া ইত্যাদি।
তবে সর্বোপরি জনসচেতনতা সৃষ্টি করেই শুধু মাদকাসক্তি স্থায়ীভাবে নির্মূল করা সম্ভব।
পরিশেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
গুরুত্বপূর্ণ পত্রের উত্তর জানতে ও নমুনা প্রশ্ন দেখতে ক্লিক করুন:
প্রশ্ন ৩ : ‘জাতি গঠনে নারী সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থাপনের জন্য একটি মঞ্চ ভাষণ তৈরি করুন।
‘জাতি গঠনে নারী সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, প্রধান আলোচক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুপ্রিয় সুধী, সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা।
সম্মানিত সুধীবৃন্দ,
আমরা জানি, যে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের অর্ধেক অংশ নারী। তাই নারীকে বাদ দিয়ে কোনো উন্নয়নই সম্ভব নয়। নারীকে বাদ দিয়ে যে উন্নয়ন তা পূর্ণ নয়, অর্ধেক।
বন্ধুগণ,
পৃথিবী আজ বদলে গেছে বহুভাবে। আজ পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। একসময় নারী অবহেলিত ছিল, নারী শিক্ষা ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু এখন নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমাজ যোগ্যতায় এগিয়ে চলছে। আমাদের জাতীয় কবির ভাষায়
“সে যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল নাকো,
নারীরা আছিল দাসী।”
সুপ্রিয় সুধীবৃন্দ,
আমাদের অগ্রগতির জন্য নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা একান্ত প্রয়োজন। শিক্ষাই পারে যুগ যুগ ধরে বন্দি নারীকে মুক্তি দিতে। আমাদেরকে বুঝতে হবে নারীর মাঝেও আছে অপরিমেয় কর্মশক্তি, মেধা, মনন আর সৃজনক্ষমতা। কিন্তু সেগুলো বিকাশের জন্য চাই অনুকূল পরিবেশ। সমাজ যদি নারীর জন্য সে বিকাশ লাভের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে তাহলে সমাজেরই সবচেয়ে বেশি উপকার হবে। আর সমাজ উন্নত হলেই দেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হবে।
বন্ধুগণ,
শত প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়েও সমাজের আদর্শবান নারীরা আমাদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আমরা স্মরণ করতে পারি বেগম রোকেয়া, শামসুন্নাহার মাহমুদ, সুফিয়া কামাল, প্রীতিলতা, তারামন বিবি- এরকম অসংখ্য মহিয়সী নারীদের, যাঁরা তাঁদের সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছেন সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সমাজকে কিছু দেওয়ার জন্য। আজ একথা আর কারো অজানা নয় যে, নারীকে পেছনে রেখে সমাজের উন্নতি অসম্ভব। জাতীয় কবি কাজী নজরুল তাই বলেছেন-
“বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”
সবাইকে আবারো সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানে শেষ করছি।
প্রশ্ন ৪ : ‘জাতি গঠনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থাপনের জন্য সুধীবৃন্দের উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ প্রস্তুত করুন।
উত্তর : নিচে ‘জাতি গঠনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থাপনের জন্য সুধীবৃন্দের উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ প্রস্তুত করা হলো:
‘জাতি গঠনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, প্রধান আলোচক এবং সুপ্রিয় সুধী, সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা।
মানব জীবনের যে সময়টুকু শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা এবং জ্ঞান লাভের জন্য অতিবাহিত করে, সেই সময়কেই ছাত্রজীবন বলে। এই ছাত্রদের নিয়ে যে সমাজ গঠিত তাকে ছাত্র সমাজ বলে। ছাত্র জীবন মানব জীবনের উৎকৃষ্ট সময়। ছাত্র জীবনকে ভবিষ্যৎ জীবনের বীজ বপনের সময় বলা হয়ে থাকে।
প্রিয় সুধী,
আমরা জানি ছাত্রদের উপরই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। কেননা, আজ যে ছাত্র সেই আগামী দিনে দেশ ও জাতির কর্ণধার। তাই জাতি গঠনে ছাত্রদের প্রথম এবং প্রধান ভূমিকা হলো নিজেদের গঠন করা। বিনয়ী, সুশীল, সত্যবাদী, কর্তব্যপরায়ণ আর জ্ঞান পিপাসু হিসেবে ছাত্ররা যদি নিজেদের তৈরি করে তবেই সমস্ত জাতি গঠিত হয়ে যাবে। এ ছাড়াও জাতি গঠনে ছাত্রদের যে বাহ্যিক ভূমিকা আছে তাও আমরা আলোচনা করব।
প্রথমত, নিরক্ষরতা দূরীকরণের মাধ্যমে ছাত্র সমাজ জাতি গঠনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা জানি একটি জাতির উন্নয়নের প্রথম শর্ত হচ্ছে শিক্ষা। ছাত্ররা নিজেরা শিক্ষিত হয়ে নিরক্ষর মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে পারে। এই কাজটি তারা করতে পারে নৈশ স্কুল প্রতিষ্ঠা করে বিনা পারিশ্রমিকে নিরক্ষর ব্যক্তিদের অক্ষর জ্ঞান দানের মাধ্যমে।
দ্বিতীয়ত, পল্লী উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ করে তারা জাতি গঠনে ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা জানি আমাদের দেশ গ্রাম প্রধান দেশ। এখানকার বেশির ভাগ মানুষই গ্রামে বসবাস করে। গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন নয়। ছাত্ররা গ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে পারে। আবার বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, ডোবা-পুকুর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে গ্রামের মানুষকে অনেক প্রকার রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে পারে।
তৃতীয়ত, চিকিৎসাক্ষেত্রেও ছাত্র সমাজ অবদান রাখতে পারে। তারা গ্রামের সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করতে পারে এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে ঔষধপত্র নিয়ে চিকিৎসকের সহায়তায় গ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারে।
চতুর্থত, আমরা জানি আমাদের দেশ বন্যাপ্রবণ দেশ। এদেশে প্রতিবছরই কোনো না কোনো অঞ্চলে বন্যা হয়। বন্যার কারণে অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পরে। তাদের ফসল নষ্ট হয়। ছাত্র সমাজ সরকার ও জনগণের কাছ থেকে ত্রাণ গ্রহণ করে তা বন্যার্তদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে পারে।
পঞ্চমত, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন করে আমাদের ছাত্র সমাজ অতীতের ন্যায় বর্তমানেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা কে না জানি যে, বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনে, ছিষট্টির ছয় দফা আন্দোলনে, ঊনসত্তরের গণঅভূত্থানে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং নব্বই-এর গণআন্দোলনে ছাত্র সমাজের রয়েছে ঐতিহাসিক ভূমিকা। বর্তমানেও দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে ছাত্র সমাজ একই রকম ভূমিকা পালন করতে পারে।
মোটকথা, আমাদের দেশ ও জাতি গঠনে ছাত্র সমাজের অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। ছাত্ররা যদি আন্তরিকতার সাথে সেই দায়িত্ব পালন করে তবে আমাদের দেশ একদিন প্রকৃত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠবে।
সবাইকে আবারও শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
প্রশ্ন ৫: ‘জাতীয় জীবনে একুশের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থাপনের জন্য একটি মঞ্চ ভাষণ তৈরি কর।
উত্তর: নিচে ‘জাতীয় জীবনে একুশের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থাপনের জন্য একটি মঞ্চভাষণ উপস্থাপন করা হলো :
‘জাতীয় জীবনে একুশের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, এবং সুপ্রিয় সুধী, সবাইকে আমার আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা।
আমি আমার বক্তব্যের শুরুতেই সেই মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই যাঁদের আত্মত্যাগের কারণে আমি আমার প্রিয় মাতৃভাষায় আজকের এই বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারছি।
প্রিয় সুধী,
মানুষ হিসেবে তার একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো ভাষার মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদান। মেধার বিকাশ, মনের আকুলতা, কল্পনা, অনুভূতি সবকিছু প্রেরণা পায় ও রূপায়িত হয় ভাষা তথা মাতৃভাষার মাধ্যমেই। এজন্যই মাতৃভাষার দাবি জীবনের দাবি, মনুষ্যত্বের দাবি। অপ্রতিরোধ্য বাঙালি, জীবন দিয়ে এ জীবন-সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন জাতির মানসভূমিতে উপ্ত স্বাধিকারের যে বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল, আজ তা স্বচ্ছলতায় শিকড় গাড়া সশাখ বৃক্ষ। সেদিনের চারপ্রহরে আটকে আছে বাঙালির অনন্ত মহাকাল, অখন্ড সময়। সে চেতনার পরিমণ্ডলে গরবিণী জাতির ইতিহাসে সংযোজিত হয়েছে আরও অনেক অধ্যায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে, যুগ থেকে যুগান্তরে সত্যভাষণ প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার, একুশ তার অমিয় শক্তির উৎস।
সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের দোসর প্রতিক্রিয়াশীলতার দানবীয় নিষ্পেষণে বাঙালির অর্থনৈতিক জীবন যখন পঙ্গু, শিক্ষার অধিকার যখন ভুলুণ্ঠিত, ভাষা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা যখন বিপর্যস্ত, গণতন্ত্র যখন নির্বাসিত এবং শোষণের শানিত খড়গ যখন উল্লসিত, নিঃসীম অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জনতার জীবন যখন গভীর হতাশায় আচ্ছন্ন আর তখনই এক ঝলক আশীর্বাদের আলোর মত এল একুশে ফেব্রুয়ারি।
একুশ আমাদের জীবনে এমনি এমনি আসে নি। এর পিছনে রয়েছে সংগ্রাম ও ত্যাগের রক্তাক্ত ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে স্মরণ করতে গিয়েই আমরা প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপন করি। কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য কেবল শহীদ দিবস পালনের মধ্যে, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি। তা বাঙালির জীবনের সর্বত্র প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনাই বাঙালিকে স্বাধিকার আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে এবং এর মাধ্যমে বাঙালি আত্মসচেতন হয়ে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়।
একুশের চেতনা থেকেই ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান ঘটে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বাঙালির সংগ্রামী চেতনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। মাতৃভাষার মর্যাদা আদায়ের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়। ফলে বাঙালি জাতির মধ্যে জাতীয়তাবোধের বিকাশ ঘটে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ জাতীয়তাবোধ বিশেষভাবে কার্যকর ছিল। তাই বলা চলে, একুশে ফেব্রুয়ারির সংগ্রামের পথ ধরেই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা সম্ভবপর হয়েছে।
সম্মানিত সুধিবৃন্দ, এখানেই একুশে ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব শেষ নয়, আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, চিন্তা-চেতনার ইতিবাচক বিকাশেও একুশের রয়েছে অপরিসীম গুরুত্ব। আজ বাঙালির চিন্তা ও মননে যে পরিবর্তন এসেছে তার পিছনেও রয়েছে একুশের অবদান। তবে এও সত্য যে, যে মহান ব্রত নিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারিতে ছাত্র-জনতা আত্মত্যাগ করেছিল তার পূর্ণ বাস্তবায়ন আমাদের জীবনে এখন সম্ভব হয় নি। কেননা, আমাদের জাতীয় জীবনে সর্বত্র এখন মাতৃভাষার প্রচলন সম্ভব হয় নি। তাই আমরা আশা করব অচিরেই আমাদের জাতীয় জীবনের সর্বত্র বাংলা ভাষার প্রচলন হবে।
পরিশেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
প্রশ্ন ৬ : ইন্টারনেটের গুরুত্ব বর্ণনা করে একটি মঞ্চভাষণ রচনা করুন।
উত্তর: ‘ইন্টারনেটের গুরুত্ব’ বিষয়ক আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুপ্রিয় সুধী, সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা।
সুধীবৃন্দ,
আজকের যুগ, বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞান ব্যতীত জীবনের কোনো বিষয়ই আজ চিন্তা করা যায় না। বিভিন্ন আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞান মানুষকে প্রকৃতির নিষ্ঠুর বন্ধন থেকে মুক্তি দিয়েছে। বিজ্ঞানের যত আবিষ্কার আছে ইন্টারনেট তার মধ্যে এক অভিনব আবিষ্কার। বর্তমান বিশ্বে গতির এক পাগলা ঘোড়া ইন্টারনেট। এর উৎকর্ষ ও ব্যবহার বিস্ময়কর যাদুকেও হার মানায়। এই যাদুর কাঠি বিশ্বকে আজ একটি গ্রামে নয়, পরিবারে পরিণত করেছে। এই যাদুর কাঠি ইন্টারনেট আমাদের দেশে ১৯৯৩ সালের ১১ই নভেম্বরে চালু হয়। আমাদের জাতীয় জীবনে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে।
সুপ্রিয় সুধীবৃন্দ,
ইন্টারনেট ব্যতীত আধুনিক জীবন আজ কল্পনাই করা যায় না। কেননা, এর রয়েছে ব্যাপক ও বিস্তৃত সুযোগ-সুবিধা। তাই এর গুরুত্ব বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। জীবনের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে ইন্টারনেটের সুবিধা নেয়া যাবে না। শিক্ষা, ব্যবসায়, কৃষি, স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত যোগাযোগ প্রভৃতি সবক্ষেত্রেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে অপরিসীম সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। একজন শিক্ষার্থী ইন্টারনেট থেকে যে কোনো সুবিধা নিতে পারে। সে ঘরে বসেই পৃথিবীর যে কোনো লাইব্রেরির বই পড়তে পারে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। যে কোনো অজানা তথ্য সে জেনে নিতে পারে এক সেকেন্ডের মধ্যে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই যে কেউ বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাতে পারে। বাণিজ্যিক যোগাযোগ, চুক্তি সম্পাদন, পণ্যের প্রচার এবং কোম্পানির প্রোফাইল সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে যে কেউ সফল ব্যবসায়ী হতে পারে। তাছাড়াও মুদ্রা বাজার, শেয়ার বাজার সম্পর্কেও তথ্য নেয়া যায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে। ঘরে বসেই যে কেউ ব্যাংকের হিসাব পরিচালনা, কাজের ফরমায়েশ দান কিংবা যে কোনো পণ্য সরবরাহ করতে পারে। যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটি অভিনব সুবিধা দিয়েছে। টেলিকনফারেন্স-এর মাধ্যমে যে কেউ পৃথিবীর যে কারও সাথে সেকেন্ডের মধ্যে আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কৃষি সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যও জানা যায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে। ঘরে বসে যে কেউ আজ সিঙ্গাপুর, আমেরিকা বা বৃটেনের ডাক্তারের সেবা নিতে পারে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। বস্তুত, এর গুরুত্ব বলে শেষ করা যায় না।
সুধী,
পশ্চিমা বিশ্ব শিল্প বিপ্লবের সুবিধা ব্যবহার করে গত শতাব্দী সারা বিশ্ব শাসন করেছে। আর বর্তমান ও আগামী শতাব্দী শাসন করবে সেই সমস্ত জাতি যারা তথ্য প্রযুক্তির উপর দখল নিতে পারবে। আর তথ্য প্রযুক্তির অন্যতম বাহন হলো ইন্টারনেট। তাই আমাদের উচিত জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করা। আর এই জন্য বর্তমান প্রজন্মকে ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে হবে। তাই আসুন ইন্টারনেটের সুবিধা নেয়ার জন্য আমরা সবাই ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠি।
সবাইকে আবারও শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। সবাইকে ধন্যবাদ।
প্রশ্ন ৭ : তোমার কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থাপনের জন্য একটি মঞ্চভাষণ তৈরি কর।
উত্তর : নিচে নবীন বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থাপনের জন্য একটি মঞ্চভাষণ তৈরি করা হলো :
’ক’ কলেজের একাদশ শ্রেণীর নবাগত ছাত্র/ছাত্রীদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুপ্রিয় ছাত্র/ছাত্রীবৃন্দ এবং সর্বোপরি নবাগত স্নেহভাজন ছাত্র/ছাত্রী ভাই ও বোনেরা, সবাইকে আমার আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা।
সুদীর্ঘকালের ঐতিহ্যে লালিত আমাদের এই প্রিয় প্রতিষ্ঠান তোমাদের মতো নবীনদের পদচারণায় মুখরিত। হাঁটি হাঁটি পা পা করে নবাগত শিক্ষার্থী বন্ধুরা স্কুলের শিক্ষাজীবন শেষ করে কলেজের আঙ্গিনায় পা রেখেছ। ক্ষুদ্র গণ্ডি অতিক্রম করে বৃহত্তর পরিসরে উচ্চশিক্ষার প্রথম পর্বে তোমাদের অভিযাত্রা শুরু হলো এই বিদ্যানিকেতনে। তোমাদের এই শুভাগমন আমাদের বিদ্যানিকেতনে সফল হউক।
নবীন ভাই ও বোনেরা, তোমরা শুনে আনন্দিত হবে যে, আমাদের এই কলেজ উত্তর অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এই অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞান বিজ্ঞান বিকাশের ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক জ্ঞানীগুণী, শিক্ষাবিদ, প্রশাসক, গবেষক, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক বের হয়েছেন। যাঁরা দেশ ও জাতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন। শুধু তাই নয়, আমাদের কলেজের ছাত্র/ছাত্রীরা স্বদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। নবাগত বন্ধুরা আজ থেকে এই সমস্ত সুনামের অংশীদার তোমরাও।
নবাগত ভাই ও বোনেরা, তোমরা এক বুক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে এবং জ্ঞান অর্জনের মহান ব্রত নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেছ। এখানে শিক্ষার আদর্শ পরিবেশ সংরক্ষণে ছাত্র/শিক্ষকসহ সকলেই তৎপর। একঝাঁক গুণী, প্রতিভাবান, তীক্ষè মেধা শক্তির অধিকারী শিক্ষক এ কলেজে পাঠদানে নিয়োজিত। সৎ, নিষ্ঠাবান ও আদর্শ শিক্ষকমণ্ডলী ছাত্র/ছাত্রীদের সাহায্য করার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। এখানে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ, যা শিক্ষার আদর্শ পরিবেশ গঠনে সহায়ক হয়েছে।
নবাগত বন্ধুরা, তোমরা যে প্রতিষ্ঠানে পদার্পণ করেছ সে প্রতিষ্ঠান শুধু শিক্ষকের প্রশ্নেই নয়, গর্ব করতে পারে এর বিশাল গ্রন্থাগার নিয়েও । কেননা, এখানে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, যেখানে প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও রয়েছে, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ নানা বিষয়ে গবেষণা করবার মতো বহু মূল্যবান বই। এখানকার ছাত্র/ছাত্রীদের প্রধান এবং একমাত্র ব্রতই হলো জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানানুশীলন। তাই আমরা আশা করব তোমরা আমাদের মতো জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানানুশীলনে ব্রতী হবে। উদার ও নৈতিক মনোভাব, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, উচ্চতর মানবিক বোধসম্পন্ন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবে। এ কলেজের মুক্ত চিন্তার ধারক শিক্ষক ও ছাত্র/ছাত্রী সকলেই তোমাদের সাহায্য করবে।
নবীন বন্ধুরা, প্রথম জীবনের একটি দীর্ঘ সাধনার পর্ব সম্পন্ন করে তোমরা এসেছ উচ্চ শিক্ষার অঙ্গনে। এখানে সব রকম সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে তোমরা। তবে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি কিছু কর্তব্য আছে তোমাদের। এই কর্তব্য কখনও বিস্মৃত হবে না। এর সব কিছু প্রাণ দিয়ে রক্ষা করার দায়িত্ব তোমাদের। এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম-দুর্নাম সবই আজ থেকে তোমার। সুতরাং তুমি এমন কোনো আচরণ করবে না, যার দ্বারা এ প্রতিষ্ঠান দুর্নামের মধ্যে পতিত হয়।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ এক গভীর সংকট কাল অতিক্রম করছে। স্বাধীনতা অর্জনের ৩৭ বছর অতিক্রম করলেও স্বাধীনতার সব রকম সুযোগ সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত। তার পিছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে। নতুন প্রজন্ম হিসেবে আমাদেরকেই সেই কারণ খোঁজে বের করে তার সমাধান করতে হবে। সমস্ত জাতি আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। জাতির এই প্রত্যাশাকে যেন আমরা অসম্মান না করি।
সবশেষে, তোমাদের জীবনের সকল স্বপ্ন সফল হউক-এই আশাবাদ ব্যক্ত করে এবং সবাইকে আবারও সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।|
প্রশ্ন ৮: “খাদ্যে ভেজাল : কারণ ও প্রতিকার” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে একটি ভাষণ তৈরি করুন।
‘খাদ্যে ভেজাল : কারণ ও প্রতিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুপ্রিয় সুধী, সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা।
সুধীবৃন্দ,
এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য একান্ত প্রয়োজন খাদ্য। মানুষ খাওয়ার জন্য বাঁচে না- একথা সত্য হলেও বেঁচে থাকতে হলে খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। খাদ্য মানুষের পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজনের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু বেঁচে থাকার অপরিহার্য এ উপাদান আজ ভেজালেপূর্ণ। ফলে তা বেঁচে থাকার উপাদান না হয়ে, হয়ে উঠেছে জীবন সংহারক।
আমাদের এ সমাজে অসৎ মানুষের সংখ্যা এবং তাদের দৌরাত্ম্য এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তাদের প্রচণ্ড প্রতাপে সমাজব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতি। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, তা হলো খাদ্যে ভেজাল সমস্যা। এক শ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ী তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে, অধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে সেই খাদ্যকে অখাদ্যে পরিণত করছে। মানুষ এসব ভেজালযুক্ত খাদ্য খেয়ে কখনো তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অনেক সময় দীর্ঘদিন ভেজাল খাবার প্রহণ করায় শরীরে বিষক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। কখনো বা হার্ট অ্যাটাকের মতো মারত্মক ঝুঁকিপূর্ণ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
প্রিয় সুধীবৃন্দ,
ভেজালমুক্ত খাবার পাওয়া আজ দুষ্কর। কাঁচা সবজি, ফল আর মাছে মেশানো হয় বিষাক্ত ফরমালিন। মিষ্টিতে ব্যবহার করা হয় গাড়িতে ব্যবহারের জ্বালানি। এমনকি জীবন রক্ষায় যে ওষুধ তাও ভেজালের ঊর্ধ্বে নয়। এখন থেকেই আমাদের সচেতন হওয়া দরকার এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার। সে লক্ষ্যে কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে-
প্রথমত, সরকারি ব্যবস্থাপনায় বড় বড় হাটবাজারে ফরমালিনসহ অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অপরাধীদের তাৎক্ষণিক সাজার ব্যবস্থা করতে হবে।
তৃতীয়ত, বাণিজ্যিকভাবে খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআইয়ের নজরদারি বাড়াতে হবে।
চতুর্থত, ভেজাল প্রমাণের সাথে সাথে প্রশাসনিকভাবে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
পঞ্চমত, খাদ্যে ভেজালের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
প্রিয় সুধীবৃন্দ,
এ মরণঘাতী ভেজালের বিরুদ্ধে আমাদের সংগঠিত ও সচেতন হতে হবে। শুধু দু’একটি সভায়-সেমিনারে বক্তব্য দিয়েই আমাদের দায়িত্ব শেষ হবার নয়। রাষ্ট্রীয়ভাবেও এর বিরুদ্ধে যথাযথা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর এভাবেই এ ভয়াবহ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
সবাইকে আবারো সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানে শেষ করছি।
প্রশ্ন ৯ : ‘নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থাপনের জন্য একটি মঞ্চ ভাষণ তৈরি করুন ।
উত্তর : নিচে ‘নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থাপনের জন্য একটি মঞ্চ ভাষণ তৈরি করা হলো :
‘নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, প্রধান আলোচক এবং সুপ্রিয় সুধী, সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা।
যে কোনো জাতি-গোষ্ঠী বা সমাজের অর্ধেক অংশ নারী। ফলে নারীর উন্নয়ন ব্যতীত কোনো জাতি বা সমাজ যথাযথ উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারে না। নারীর উন্নয়ন ব্যতীত সমাজ হয় গতিহীন, স্থবির। তাছাড়া নারী হচ্ছে পুরুষের সকল কর্ম-প্রেরণার উৎস। এই দিকে লক্ষ রেখেই হয়তো কবি উচ্চারণ করেছেন-
‘কোনকালে একা হয় নি ক জয়ী পুরুষের তরবারী
প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয় লক্ষ্মী নারী।
পরিবর্তিত সময় ও সমাজে আজ চারিদিকে নারী প্রগতির জয়ধ্বনি বিঘোষিত হচ্ছে। নারী এতকালে ছিল পুরুষের ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল; নারীর কোনো স্বতন্ত্র সত্তা স্বীকৃত ছিল না। নারীর পরিচয় ছিল কখনো কন্যারূপে, কখনো ভগিনীরূপে, কখনো পত্নীরূপে, কখনো মাতারূপে। সর্বত্রই ছিল তার নিঃসহায় গলগ্রহতার প্রকটিত রূপ। সুখের বিষয়, নারী আজ আর সেই বিগত শতাব্দীর অন্ধকারাচ্ছন্ন অন্তঃপুরে মৌনমান মুখে বসে নেই। সে সেই আলোহীন, প্রাণহীন দুর্ভেদ্য অন্তরাল থেকে বের হয়ে আজ আলোকিত জগতের উদার প্রাঙ্গণে এসে দাঁড়িয়েছে। আজ আমরা বুঝতে পেরেছি, নারী ও পুরুষ সমাজজীবনের দুটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ । সমাজ ও জাতি গঠনে উভয়েই সমান ভূমিকা রয়েছে । দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের জন্যে নারী পুরুষ উভয়কে সমান পদক্ষেপ অগ্রসর হতে হবে। তাই পুরুষের পশাপাশি নারীশিক্ষারও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
জাতির সামগ্রিক কল্যাণের জন্যে নারীর ভূমিকার গরুত্ব সম্পর্কে দ্বিমতের অবকাশ নেই। বিশেষ সীমবদ্ধ ক্ষেত্রে নারীর পদচারণা এখন আর চিহ্নিত নয়। জীবনের সর্বক্ষেত্রে নারী তার কল্যাণকর ভূমিকা পালন করছে।
একজন সুশিক্ষিত মাতা তার সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে নিজ আদর্শে গড়ে তুলতে পারে। কারণ ছেলে-মেয়েদের ওপর মায়ের প্রভাবই বেশি পড়ে। মায়ের কাছ থেকে তারা আচার-আচরণ, আদব-কায়দা ইত্যাদি শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের প্রভাব সম্বন্ধে বলতে গিয়ে নেপোলিয়ান বলেছিলেন- “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদিগকে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব’
স্বাবলম্বী হবার ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম । প্রাচীনকালে নারীরা সবকিছুর জন্যে তাদের স্বামীদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তারা ছিল অবহেলিত ও নির্যাতিত । গৃহের মধ্যেই তাদের কার্যাদি সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু আজ নারীরা শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষিকা, পুলিশ অফিসার, বিমান চালক, এমনকি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীও নারী । সুতরাং আজ আর নারীকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। তাই কবিকন্ঠের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে হয়-
“সে যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল নাকো, নারীরা আছিল দাসী।”
অতীতে দেশ গঠনে নারীদের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। বর্তমানেও দেশ গঠনে নারীরা যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। ভাষা আন্দোলন থেকে এ পর্যন্ত যতটি আন্দোলন হয়েছে তার প্রত্যেকটিতে নারীদের কিছু না কিছু অবদান রয়েছে। আর এই অবদান রেখেছে শুধু শিক্ষিত নারীরাই। তাই দেশ গঠনে নারী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
আমরা চাই, শিক্ষায়-দীক্ষায়, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে উজ্জ্বল পরিবার এবং সেই সুখি, সন্তুষ্ট ও আদর্শ পরিবার রচনায় নারী ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । কাজেই সেক্ষেত্রে নারী শিক্ষা প্রসারের গুরুত্ব সন্দেহাতীত । মোটকথা, আমাদের সমাজে আমরা চাই আদর্শ জননী, চাই আদর্শ পত্নী, চাই আদর্শ কন্যা- আদর্শ জীবন ও সমাজ গঠনে চাই উপযুক্ত নারীশিক্ষা । নারীকে আর অবেহেলা নয়, বরং কবি নজরুলের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে সবাই বলি-
“ বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।'
মোটকথা, একটি জাতির উন্নয়নের জন্য চাই নারীর উন্নয়ন। আর নারীর যথার্থ উন্নয়ন হবে তাকে যথার্থ শিক্ষা দানের মাধ্যমে। এ কারণেই আমাদের সমাজে নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলনাহীন।
পরিশেষে, সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
প্রশ্ন ১০ : ‘পরিবেশ দূষণ ও প্রতিকার’- শীর্ষক একটি ভাষণ তৈরি কর।
উত্তর : নিচে ‘পরিবেশ দূষণ ও প্রতিকার’- শীর্ষক একটি ভাষণ তৈরি করা হলো :
‘পরিবেশ দূষণ ও প্রতিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, প্রধান আলোচক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুপ্রিয় সুধী, সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা।
মানব জীবনের অপরিহার্য অংশ হলো পরিবেশ। তাই মানুষের সামগ্রিক জীবনে পরিবেশের প্রভাব ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই মানুষ ক্রমে ক্রমে তার পরিবেশকে নির্মাণ করেছে। মানুষের নির্মিত পরিবেশ তারই সভ্যতার বিবর্তনের ফল। পরিবেশ প্রাণের রক্ষক ও ধারক। এ কারণেই পরিবেশ বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার উপরই নির্ভর করে প্রাণীকূলের অস্তিত্ব। পরিবেশ বিরুদ্ধ হয়ে উঠলে প্রাণীর ধ্বংস অনিবার্য। আর পরিবেশ অনুকূল থাকলে মানুষের জীবন হয় সুখকর, শান্তিময়। কিন্তু দুঃখের বিষয় মানুষ আজ নিজেই নিজের পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলেছে। ফলে তার জীবনের অস্তিত্ব আজ হুমকীর সম্মুখীন।
মানুষের অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশের যে নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে তাই পরিবেশ দূষণ। আমাদের পরিবেশ হলো- আমাদের চার পাশে যা কিছু আছে তথা-মাটি, পানি, বাতাস, গাছপালা, নদী, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ প্রভৃতির সমষ্টি। কোন কারণে এই সমস্ত প্রাকৃতিক উপাদানের সামঞ্জস্য বিনষ্ট হলে পরিবেশ বিপন্ন হয়, হয় দুষিত। পরিবেশের এই বিপন্ন বা বিনষ্টির পিছনে মানুষের ভূমিকাই মুখ্য।
পৃথিবীর সামগ্রিক পরিবেশের অতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। সেই সাথে বাংলাদেশের পরিবেশেরও অবনতি ঘটছে দ্রুত। গত কয়েক দশকে এ অবস্থা চরম আকার ধারণ করেছে। জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, বনাঞ্চলের অবক্ষয় ও ঘাটতি এবং শিল্প ও পরিবহণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবের কারণে দেশের পরিবেশ এক জটিল অবস্থার দিকে পৌঁছতে যাচ্ছে। তাছাড়া আমাদের অবিবেকী আচরণ এবং পরিকল্পনাবিহীন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিবেশকে এক নাজুক অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
মানুষ নিজের প্রয়োজনে প্রকৃতিকে যেমন কাজে লাগাচ্ছে বা প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করছে, প্রকৃতিও তেমনি ছিন্ন-ভিন্ন -আহত রূপ নিয়ে মানুষের তথা সমগ্র প্রাণপুঞ্জের ঠিক সমপরিমাণ বিরোধিতা করতে তৎপর। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের বিজয়গৌরবে মোহান্ধ মানুষ পৃথিবীর পরিবেশকে বিষাক্ত করেছে। আজও করছে। ছড়িয়ে দিয়েছে ক্ষতিকর সব আবর্জনা। তার ফল হয়েছে বিষময়। পরিবেশ দূষিত হয়েছে। আর দুষিত পরিবেশ প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। তাই গোটা জীবজগতের অস্তিত্বই আজ বিপন্ন।
আমাদের এই সুন্দর পরিবেশ এমনিতেই দুষিত হয় নি। এর পিছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে।
স্থুল দাগে পরিবেশ দূষণের কারণগুলো হলো : দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার, বনভূমি উজাড়, ওজোন স্তরের ক্রমাবনতি পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, কলকারখানার ক্ষতিকর বর্জ্য, এসিড বৃষ্টি, ক্ষতিকর প্রসাধন সামগ্রী, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়া, অপরিকল্পিত আবাস নির্মাণ, বিভিন্ন প্লাস্টিক দ্রব্য ইত্যাদি।
প্ৰিয় সুধী,
পরিবেশ দূষণ থেকে বাঁচতে হলে আমাদের যে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে তা হলো :
দেশের মোট আয়তনের শতকরা পঁচিশভাগ বনায়ন করতে হবে, পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে, যে কোনো প্রকার গাছ কাটা নিষিদ্ধ করতে হবে, পেট্রোলিয়ামের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌর ও পানি বিদ্যুতের মতো উৎস আবিষ্কার করতে হবে, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, কৃষিতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে, কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার রোধ করতে হবে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে হবে, পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যাপক গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।
প্রিয় সুধী,
একসময় মানুষ মনে করত পরিবেশের উপর যে কোনো প্রকারে আধিপত্য বিস্তার করতে পারলেই হলো। কিন্তু আজ সেই ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। পরিবেশকে রক্ষা করেই সকল প্রকার উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। এর অন্যথা হলে আমাদের এই সুন্দর সবুজ পৃথিবী একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। মানুষ হিসেবে আমরা নিশ্চয় এটি চাই না। তাই আমাদের একটা মাত্র পৃথিবীকে সকলেরই রক্ষা করতে এগিয়ে আসা উচিৎ।
পরিশেষে, সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
প্রশ্ন ১১ : যুব সমাজের অবক্ষয় সম্পর্কে একটি মঞ্চ ভাষণ তৈরি কর।
উত্তর: ‘যুব সমাজের অবক্ষয়: কারণ ও প্রতিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অথিতি, প্রধান আলোচক এবং সুপ্রিয় সুধী সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা।
যুব সমাজই একটি জাতির প্রাণ, একটি দেশের হৃদস্পন্দন। যে সমাজে যুব সমাজ আদর্শ ও কর্মের আকাঙ্ক্ষায় বলীয়ান সে সমাজের উত্থান অবিসম্ভাবী। কিন্তু যে সমাজে যুব সমাজ বিপদগামী, সে সমাজে নিরন্তর অন্ধকার অত্যাসন্ন। এ কারণেই নজরুল তার ‘যৌবনের গান' প্রবন্ধে বিশ্বাসের সাথে উচ্চারণ করেছেন-
‘তরুণ অরুণের মতই যে তারুণ্য তিমিরবিদারী, সে যে আলোর দেবতা।
রঙের খেলা খেলিতে খেলিতে তাহার উদয়, রং ছড়াইতে ছড়াইতে তাহার অস্ত।
যৌবনসূর্য যেথায় অস্তমিত, দুঃখের তিমিরকুন্তলা নিশীথিনীর সেই তো লীলাভূমি।
তাই যুগে যুগে যৌবন-দূত তরুণের দলই জরাগ্রস্ত পৃথিবীর বুকে এনছে নবজীবনের ঢল। তিমির রাত্রির অবসানে রক্ত রাঙা প্রভাতের বন্দনা করেছে। তরুণদের কণ্ঠেই উদগীত হয় নতুন দিনের গান।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমাদের যুব সমাজ আজ বিপদগামী। নানা কারণে আজ তারা নানাবিধ অবক্ষয়ের স্বীকার।
প্রথমেই আসা যাক অবক্ষয় বলতে কী বুঝি। অবক্ষয় শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ক্ষয়প্রাপ্তি’ অর্থাৎ জীবনকে সুন্দর এবং কল্যাণের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে মানবজীবনে যে সমস্ত গুণ থাকা প্রয়োজন, তা যখন লোপ পায় বা নষ্ট হয়ে যায় তখনই জীবনের অবক্ষয় আসে।
বর্তমানে আমাদের সমাজজীবনে চরম অবক্ষয়ের চিত্র জীবন্ত হয়ে আছে। এ অবক্ষয় যুবসমাজকেও প্রভাবিত করছে, দোলা দিচ্ছে তাদের মন- মানসিকতাকে। আমাদের যুবসমাজের সামনে আজ কোন আদর্শ নেই। নেই অনুপ্রাণিত করার মতন কোনো মহৎ-প্রাণ মানুষ। ঘরে-বাইরে সর্বত্রই আজ মনুষ্যত্বের দীনতার চিত্র। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় বড়দের কাছ থেকে ভালো কিছু শেখার আশা করা যায় না। বড়রা শিক্ষা বলতে বোঝেন পরীক্ষা ও ডিগ্রি এবং জীবনে উন্নতি বলতে বোঝেন টাকা ও প্রতিপত্তি।
ফলে শিক্ষার মধ্যে তরুন সমাজ খুঁজে পায় না মহত্তর কোনো জীবন-বোধ। যুব সমাজকে নতুন চেতনায় উদ্দীপ্ত করার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই, ফলে তারা প্রতিনিয়ত অবক্ষয়ের দিকে অগ্রসরমান। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ই আমাদের যুবসমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও যুবসমাজের অবক্ষয়ের আর একটি কারণ। একদিকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-কলহ, অপরদিকে অর্থনৈতিক দুর্দশা, ফলে শিক্ষাজগতে নৈরাজ্য, সমাজসেবার নামে নিজের স্বার্থ হাসিল এবং স্বেচ্ছাচারিতা যুবসমাজকে বিপথগামী করছে। তরুণসমাজ অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করে, সমাজে সমাজ-বিরোধীর যে সম্মান, যে প্রতিপত্তি, সেখানে একজন জ্ঞানী, সৎ মানুষের মূল্য তুচ্ছ। সততা সেখানে লাঞ্ছিত অসহায়। বিবেক সেখানে বিবর্জিত। জ্ঞানী-গুণীরাও তাদের খাতির করে।
রাজনৈতিক নেতাদের তারা ডান হাত। জঘন্য, নিষ্ঠুর কাজকর্ম করেও তারা আইনের চোখে নিরাপদ। প্রশাসন প্রয়োজন মতো ওদের ব্যবহার করে। কি তাদের মূলধন? তারা অনায়াসে মানুষ খুন করে, ডাকাতি করে, জনজীবনে ত্রাসের সৃষ্টি করে। এই মূলধন নিয়েই ওরা সমাজের বিশিষ্ট মানুষ। আজ তাই মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধও গৌণ হয়ে ওঠেছে। বস্তুত সমাজের সর্বস্তরে আজ যে মূল্যবোধের অভাব, তার মারাত্মক প্রতিক্রিয়া যুবকদের মাঝে প্রতিনিয়ত বিস্তৃতি ঘটছে।
কিন্তু যুব সমাজকে এই অবস্থা থেকে রক্ষা করতে হবে। এই জন্য নিতে হবে বেশ কিছু পদক্ষেপ ।
প্রথমত, যুবকদের সুসংগঠিত করে সত্য এবং ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে হলে তাদের মধ্যে নীতিজ্ঞান ও সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে হবে। তারা সচেতন হলে কোন রকম অন্যায় কুমন্ত্রণা তাদেরকে বশীভূত করতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, ধর্ম ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে তাদের সামনে থেকে অন্ধকার দুর করতে হবে। রীতিমত শরীরচর্চা এবং নানারকম খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে।
দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যা দূর করতে হবে। তাছাড়া যারাই সমাজে অপরাধ কর্মে লিপ্ত হয় তাদের জন্যে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যুবকরাই দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং জাতির কর্ণধার। তাদের মনে এ চেতনাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।
আমি আমার বক্তব্য আর দীর্ঘ করতে চাই না। যুব সমাজের অবারিত সুন্দর জীবন কামনা করে এবং সবাইকে আবারও সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ।
প্রশ্ন ১২ : “সর্বস্তরে মাতৃভাষা চর্চা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার ভাষণ রচনা করুন।
উত্তর: ‘সর্বস্তরে মাতৃভাষা চর্চা’ শীর্ষক সেমিনারের সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুপ্রিয় সুধী, সবাইকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা।
বাংলা আমাদের প্রাণের ভাষা, মায়ের ভাষা; তথা মাতৃ-ভাষা। পৃথিবীতে বাংলাই একমাত্র ভাষা যার জন্য এর ব্যবহারকারীরা প্রাণ দিয়েছে। তাই পৃথিবীতে যে কোনো ভাষার চেয়ে এর মর্যাদা সবার উপরে। এই ভাষাতেই আমরা চিন্তা করি, কথা বলি, এই ভাষাতেই আমরা স্বপ্ন দেখি। এই ভাষার সাথে আমাদের যে গভীর সম্পর্ক তা কেবল মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্কের সাথেই তুলনীয়। এই ভাষা আমাদের প্রাণের সাথে, রক্তপ্রবাহের সাথে মিশে আছে।
প্রিয় সুধীবৃন্দ,
আমরা সবাই জানি ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। নব্য উপনিবেশবাদী পাকিস্তানি শাসকরা এই ভাষাকে এবং এর ব্যবহারকারীকে তথা বাঙালিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে গুলি চালিয়েছিল। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সফল হয় নি। বাঙালিরা প্রাণের বিনিময়ে মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছিল।
সুধীবৃন্দ,
কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীন বাংলাদেশে আজ বাংলা ভাষা বিভিন্নভাবে অবহেলার শিকার। ইংরেজি ভাষার প্রতি অতি ভক্তির কারণে বাংলা ভাষা তার গৌরব হারাতে বসেছে। ইংরেজ নেই, পাকিস্তানি নেই তবুও অনেক অফিস আদালতে এখনও অহেতুক ইংরেজি ভাষার ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। যে ভাষার জন্য জীবন দিতে হয়েছিল সে ভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা অনেকেই উদাসীন। একথা আজ দিবালোকের মত সত্য যে ইংরেজি, এবং অন্যান্য ভাষা আমাদের কাছে কখনো কখনো অধিক মর্যাদা পায়। বাংলা ভাষা দেশের অর্ধশিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত মানুষের বোধগম্য হলেও কেন জানি না বিভিন্ন বিজ্ঞাপন অথবা প্রচার মাধ্যমগুলোতে অযাচিতভাবে ইংরেজিকে প্রধান্য দেওয়া হয়। তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তিদের অনেকেই কথা বলার সময় বাংলার সাথে ইংরেজি না মিশিয়ে বলতে পারেন না বা বলতে চান না। এমনকি প্রচার মাধ্যম গুলোতেও বাংলা-ইংরেজির মিশেলে জগাখিচুরি ধরনের এক ভাষার সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। বাংলা ভাষার প্রতি এই অবহেলা শুধু আজকের নয়, চিরকালের। কবি তাই দুঃখ করে উচ্চারণ করেছিলেন:
যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।
সুধীবৃন্দ,
বাংলা ভাষা আজ আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ ভাষা। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ আজ আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদা পাচ্ছে। কিন্তু সেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত ভাষাকে আমরাই যদি যথোপযুক্ত মর্যাদা দিতে না পারি তাহলে বিশ্বের দরবারে আমরা নিজেদেরকেই ছোট করব। তাই সকল প্রকার হীনমন্যতা ঝেড়ে ফেলে আসুন আমরা সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর জন্য সচেষ্ট হই। সবাই হৃদয়ের গহীন প্রান্তর থেকে উচ্চারণ করি:
‘মোদের গর্ব মোদের আশা
আমরি বাংলা ভাষা’
সবাইকে আবারও শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। সবাইকে ধন্যবাদ।
*************************
ড. এ. আই. এম. মুসা
অধ্যাপক-বাংলা
www.onlinereadingroombd.com
+88 01713 211 910