
NTRCA School: ১৮তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা: স্কুল পর্যায় অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা : প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা: প্রবন্ধ
NTRCA School: বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা: স্কুল পর্যায়
অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা : প্রবন্ধ
১ নং ব্যাখ্যা: আমি রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি নাই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছি।
অথবা, দোষ আমারও নয়, আমার বীণারও নয়; দোষ তাঁর যিনি আমার কণ্ঠে বীণা বাজান।
উত্তর : ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেতনায় দীপ্ত, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবির বিদ্রোহ সকল প্রকার অন্যায়, অসত্য ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে এবং স্রষ্টার নির্দেশেই যে এই বিদ্রোহ সে কথাই আলোচ্য অংশে বলতে চেয়েছেন।
ব্রিটিশ রাজশক্তির চোখে কবি অপরাধী। এই অপরাধ রাজদ্রোহিতার। তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছে আদালতে আসামির কাঠগড়ায়। কিন্তু কবি নিজেকে অপরাধী ভাবেন না। তিনি নিজেকে সত্যের বার্তাবাহক মনে করেন। স্রষ্টা এ সত্যের ধারক ও বাহক। সত্যের সেবক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা। তাইতো কবি উৎপীড়িত আর্ত মানবতার পক্ষে স্রষ্টা কর্তৃক নির্দেশিত সত্যের তরবারি স্বরূপ। ব্রিটিশদের শাসন এবং শোষণে এদেশের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। পরাধীন ভারত জননী বেদনায় দিশেহারা। তাই স্বদেশ ও স্বজাতির মুক্তির লক্ষেই ধ্বনিত হয়ে উঠল কবির বিদ্রোহের অগ্নি-বীণা। আর সে বিদ্রোহ কোনো রাজার বিরুদ্ধে নয়; অন্যায়ের বিরুদ্ধে; কোনো শাসকের বিরুদ্ধে নয়, শোষণের বিরুদ্ধে। কবি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে যে বীণা বাজান এর সুর আসলে তার নিজের নয়, সে সুর স্রষ্টার। তাই কবি বলেছেন- দোষ আমারও নয়, আমার বীণারও নয়; দোষ তাঁর যিনি আমার কণ্ঠে বীণা বাজান।
বস্তুত, আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে অসত্য, অসুন্দর আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কবির বিদ্রোহর স্বরূপ অত্যন্ত সুন্দর ভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
২ নং ব্যাখ্যা : ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার, আর কালচার শিক্ষিত, মার্জিত লোকের ধর্ম।
উত্তর : ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু মুক্তবুদ্ধি চর্চার ধারক ও বাহক, যুক্তিবাদী প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী বিরচিত ‘সংস্কৃতি কথা’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।
সাধারণ লোক ও সংস্কৃতিবান শিক্ষিত মানুষের মধ্যে পার্থক্য এবং উভয়ের সংস্কৃতি ও ধর্ম চর্চার স্বরূপ নির্ণয় করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক আলোচ্য উক্তি করেন।
ধর্মের মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষ উন্নততর জীবনের সাধনা করে থাকে। তাদের কাছে ধর্মই হলো কালচার। অপরদিকে শিক্ষিত মার্জিত লোকের উন্নততর জীবন সাধনা হলো ধর্ম। তারা জানে নিজেকে বিকশিত করাই হলো কালচারের ধর্ম। তাই তারা নিজের মধে ঈশ্বর সৃষ্টি করে থাকে। ধর্মই সাধারণ লোককে অন্যায় থেকে, পাপ থেকে, পতন থেকে রক্ষা করে থাকে। আর কালচার্ড মানুষ নিজেই নিজের নবী। তার অন্তরের সূ² চেতনা তাকে কল্যাণের পথে টেনে নিয়ে যায়। কালচার ব্যক্তিকেন্দ্রিক। ধর্ম সমাজ কেন্দ্রিক। কালচার্ড বা সংস্কৃতিবান ব্যক্তি তাই নিজেকে সুন্দর কর, মহৎ কর, বিচিত্র কর এই আদর্শে লালিত। আর এটিই তাদের ধর্ম। সাধারণ লোক ধর্মের মধ্য দিয়ে সংযমী হতে শেখে। পরলোকে স্বর্গের স্বপ্নের তারা ধর্মকেই অবলম্বন করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত, মার্জিত, আলোকিত মানুষেরা সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। ব্যক্তির ভিতরের ‘আমি’ কে সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলাই তাদের কাজ। শিক্ষিত মার্জিত লোক তাই সংস্কৃতিকে সঙ্গী করেই ধর্মের অন্তর্ভূক্ত হয়। আর সাধারণ মানুষ করে তার উল্টোটা তারা ধর্মকে আয়ত্ত করেই সংস্কৃতির অঙ্গ হতে চায়।
বস্তুত, আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে লেখক সাধারণ লোক ও সংস্কৃতিবান শিক্ষিত মানুষের মধ্যে পার্থক্য এবং উভয়ের সংস্কৃতি ও ধর্ম চর্চার স্বরূপ অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
৩ নং ব্যাখ্যা : সংস্কৃতি মানে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে বাঁচা।
উত্তর : ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু মুক্তবুদ্ধি চর্চার ধারক ও বাহক, যুক্তিবাদী প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী বিরচিত ‘সংস্কৃতি কথা’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।
সংস্কৃতির যথার্থ স্বরূপ তুলে ধরতে গিয়ে লেখক আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেন।
সংস্কৃতির স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেখক অত্যন্ত যুক্তিনিষ্ঠ ভাষায় সংস্কৃতির প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করেছেন। সংস্কতির সাধনা করা মানে ripe হওয়ার সাধনা করা। সংস্কৃতিবান মানুষ একান্তই ব্যক্তিকেন্দ্রিক। জীবনের শ্রেষ্ঠ ও বহু বঙ্কিম প্রকাশ ঘটিয়ে সে দশের মধ্যে এগোরো হতে চায়। সে সমাজের বাধা ডিঙিয়ে নিজেকে সর্বাঙ্গ সুন্দররূপে গড়ে তোলে। শিক্ষাদীক্ষা ও সৌন্দর্য সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখে কালচার্ড মানুষ। সে পরম বেদনায় অসংখ্য দুঃখের কাঁটায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে অন্তরে গোলাপ ফুটিয়ে থাকে। সত্যকে ভালোবেসে,সৌন্দর্যকে ভালবেসে, ভালবাসাকে ভালবেসে, বিনা লাভের আশায় ভালোবেসে, নিজের ক্ষতি স্বীকার করে ভালবাসার নামই সংস্কৃতি। নিজের চিন্তা, নিজের ভাবনা, নিজের কল্পনার বিকাশ সাধনের মধ্য দিয়ে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে বাঁচা সম্ভব। সংস্কৃতিবান মানুষ নিজের দিকে তাকিয়েই জীবনের শ্রেষ্ঠ ও বহুভঙ্কিম প্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন। আর যার জন্যেই সে সমাজের আর দশজনের মধ্যে এগারো হয়ে থাকে। তাই যেখানে সংস্কৃতি যত উন্নত সেখানে জীবন তত উন্নত। নিজেকে বাঁচাও, নিজেকে মহান করো , বিচিত্র করো- এই হলো সংস্কৃতির আদেশ। তাই লেখক বলেছেন- সংস্কৃতি মানে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে বাঁচা।
বস্তুত, আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে লেখক সংস্কৃতির যথার্থ স্বরূপকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
৪ নং ব্যাখ্যা : যেখানে ফ্রি থিংকিং নেই সেখানে কালচার নেই।
উত্তর : ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু মুক্তবুদ্ধি চর্চার ধারক ও বাহক, যুক্তিবাদী প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী বিরচিত ‘সংস্কৃতি কথা’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।
সংস্কৃতি বিকাশের প্রকৃত পরিবেশের স্বরূপ নির্দেশ করতে গিয়ে লেখক আলোচ্য উক্তি করেছেন।
মুক্ত চিন্তার বিকাশই মানুষকে স্বাধীনতার পথে উন্মুখ করে তোলে। আর এই মুক্ত চিন্তা বা ফ্রি থিংকিং সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোনো বড় কিছু পেতে হলে নিজেকে কোনো মতবাদের খাঁচায় আটকালে চলবে না। কুসংস্কারকে দুপায়ে দলে সমানের দিকে এগিয়ে চলাই সংস্কৃতির কাজ। সংস্কৃতিবান মানুষ প্রেমের মধ্য দিয়েই স্বাধীন চিন্তার পথে মানব সভ্যতার বিকাশে সহায়ক হয়ে থাকে। কারণ সংস্কৃতিবান বা কালচার্ড মানুষের জন্যেই যুগে যুগে দেশে দেশে মানব সভ্যতার বিকাশ লাভ করেছে। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা স্বাধীন চিন্তার বিরোধিতা করে থাকে। যারা নীতিবাদের গণ্ডিকে জীবনের নিরাপত্তা বলে মনে করে। তাদের কাছে ফ্রি থিংকিংও নেই, সংস্কৃতিও নেই। কিন্তু যারা তাদের নীতিকথাকে উপেক্ষা করে মুক্তচিন্তার মধ্য দিয়ে নিজেদের আত্মাকে পূর্ণ, করে এবং নতুন পথে চলে তারাই সফলকাম হয়। নীতিবাদী ও ধার্মিকের যেখানে মোটা বন্ধন, কালচার্ড মানুষের সেখানে অসংখ্য সূক্ষ্মচিন্তার বন্ধন। কারণ ধার্মিক ও নীতিবাদী প্রয়োজনে নিষ্ঠুর ,অপরদিকে কালচার্ড মানুষ পরের মঙ্গল ছাড়া এতটুকু পরের ক্ষতির কারণ হতে পারে না। সে মুক্ত চিন্তার মধ্য দিয়ে সমাজের উপকারে লেগে থাকে। তাই লেখক বলেছেন, যেখানে ফ্রি থিংকিং নেই, সেখানে কালচার নেই।
বস্তুত, আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে লেখক, সংস্কৃতি বিকাশের প্রকৃত পরিবেশের স্বরূপকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
৫ নং ব্যাখ্যা: রচনার প্রধান গুণ এবং প্রথম প্রয়োজন সরলতা ও স্পষ্টতা।
অথবা, বিষয় অনুসারেই রচনার ভাষার উচ্চতা বা সামান্যতা নির্ধারিত হওয়া উচিৎ।
অথবা, যে রচনা সকলেই বুঝিতে পারে পড়িবা মাত্র যাহার অর্থ বুঝা যায়, অর্থ গৌরব থাকিলে তাহাই সর্বোৎকৃষ্ট রচনা।
উত্তর : ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু ‘সাহিত্য সম্রাট’ অভিধায় ভূষিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বাঙ্গালা ভাষা’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে গৃহীত হয়েছে।
সরলতা, স্পষ্টতা বিষয় অনুযায়ী ভাষা ব্যবহারই উৎকৃষ্ট রচনার বৈশিষ্ট্য- এ সত্য প্রকাশ করতে গিয়েই লেখক আলোচ্য মন্তব্য করেন।
গদ্য সাহিত্যের সূচনা থেকেই ভাষারীতি নিয়ে সংস্কৃতানুসারী প্রাচীনপন্থী এবং সংস্কৃতবিরোধী কথ্যরীতির নব্যপন্থীদের মধ্যে সাংঘাতিক মতানৈক্য দেখা যায়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করে ভাষারীতি সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেন। তিনি রক্ষণশীল প্রাচীনপন্থীদের দুরূহ ভাষারীতির যেমন সমালোচনা করেছেন তেমনি নব্যপন্থীদের সংস্কৃত বিরোধিতাকেও নিন্দা করেছেন। উভয় পক্ষেও মতকে গ্রহণ বর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি বলতে চেয়েছেন, বিষয় অনুসারেই রচনার ভাষা নির্ধারিত হওয়া উচিত। রচনার প্রথম এবং প্রধান গুণ সরলতা ও স্পষ্টতা। যে রচনা সকলেই বুঝতে পারে এবং পড়ামাত্র যার অর্থ বোঝা যায়, অর্থ-গৌরব থাকলে তাই উৎকৃষ্ট রচনা। এক্ষেত্রে রচনার ভাষা সংস্কৃত বা কথ্যরীতির তা বিবেচ্য নয়। কারণ, দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে মানুষের কাছে যে ভাষা অধিক গ্রহণযোগ্য হয়ে আসছে সেটিই প্রয়োগ করার উচিত।
বস্তুত, কোনো রচনার ভাষা কেমন হওয়া উচিত তার যুক্তিকে আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে লেখক অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
৬ নং ব্যাখ্যা : টেকচাঁদ ঠাকুর প্রথমে এই বিষবৃক্ষের মূলে কুঠারাঘাত করিলেন।
অথবা, সেইদিন হইতে বাঙ্গালা ভাষার শ্রীবৃদ্ধি।
অথবা, সেইদিন হইতে শুষ্ক তরুর মূলে জীবনাবারি নিষিক্ত হইল।
উত্তর : ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু ‘সাহিত্য সম্রাট’ অভিধায় ভূষিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বাঙ্গালা ভাষা’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে গৃহীত হয়েছে।
সংস্কৃত ভাষার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে টেকচাঁদ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা ভাষা যখন স্বাধীনভাবে পথ চলতে শুরু করল, তখনকার অভিযাত্রা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে লেখক আলোচ্য উক্তি করেন।
বাংলা গদ্যের সূচনাপর্বে সংস্কৃত পন্ডিতেরা সংস্কৃত ও সাধু ভাষায় গদ্য রচনা করেন। তাদের অভিমত একমাত্র সংস্কৃত ও সাধু ভাষাতেই সাহিত্য রচিত হতে পারে, মুখের ভাষা কখনো সাহিত্যের ভাষা হতে পারে না। সংস্কৃত পণ্ডিতদের এই সংস্কৃতপ্রিয়তায় বাংলা সাহিত্য একদিন নীরস, শ্রীহীন ও দুর্বোধ্য ভাষায় পরিণত হয়। ঠিক সেই সময় প্যারিচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুর কথ্য ভাষায় ‘আলালের ঘরের দুলাল’ রচনা করে বিষবৃক্ষের মূলে কুঠারাঘাত করেন। সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা নিয়ে যে সাহিত্য রচিত হতে পারে এবং সেই সাহিত্যই যে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে টেকচাঁদ ঠাকুরই তা প্রথম দেখালেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার শ্রীবৃদ্ধি ঘটল। যুগান্তকারী এই বিপ্লবকে বঙ্কিমচন্দ্র সাধুবাদ জানালেন। তাঁর অভিমত, যে ভাষা সহজ-সরল ও সবার বোধগম্য নয় সে ভাষা শুষ্ক তরুর মত। তাইতো বঙ্কিমচন্দ্র এই আলালী ভাষার আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন,“সেইদিন হইতে বাঙ্গালা ভাষার শ্রীবৃদ্ধি, সেইদিন হইতে শুষ্ক তরুর মূলে জীবনবারি নিষিক্ত হইল।”
বস্তুত, সংস্কৃত ভাষার বিপরীতে টেকচাঁদ ঠাকুরের আলালী ভাষা ব্যবহারের সাফল্যকে বঙ্কিমচন্দ্র আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
ব্যাখ্যা ৭ : সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
ব্যাখ্যা : ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক মননশীল প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬) রচতি ‘প্রবন্ধসংগ্রহ' গ্রন্থের অন্তর্গত ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও আদর্শ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেন।
প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্যের যথার্থ স্বরপ নির্ণয়ের প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা কারও মনোরঞ্জন করা নয়। সাধারণভাবে ‘আনন্দ' ও 'মনোরঞ্জন’ একই অর্থে ব্যবহৃত হলেও, এ দুটির মধ্যে সূক্ষ্মতর পার্থক্য রয়েছে। মনোরঞ্জন শব্দটির সাথে হীন স্বার্থ বা বিশেষ উদ্দেশ্য জড়িত থাকে। বিশেষ ব্যক্তি বা বিশেষ শ্রেণির জন্যই আয়োজন হয় মনোরঞ্জনের। অন্যদিকে ‘আনন্দ’ বিশেষ ব্যক্তি বা শ্ৰেণি কেন্দ্রিক নয়, এটি সার্বজনীন। এর পিছনে কোন হীন স্বার্থচিন্তা বা অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করে না। তাছাড়া আনন্দ দেয়ার ব্যাপারটিতে কোন জোর বা কৌশলও কাজ করে না, এটি স্বয়ংক্রিয় এবং স্বতঃস্ফূর্ত।
সুতরাং সাহিত্য আনন্দ দানের জন্য রচিত হবে, পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য নয়। মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচিত হলে তা হয়ে পড়বে স্বধর্মচ্যুত। পাঠক আনন্দের পরিবর্তে লাভ করবে বিবিধ খেলনা। তথা কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল ইত্যাদি। এই সমস্ত খেলনা পেয়ে পাঠকের মনস্তুষ্টি হতে পারে কিন্তু লেখকের পারে না। কারণ, পাঠক সমাজ আজ যে খেলনাকে আদর করে কাল তা ভেঙে ফেলে। সে খেলনা যতই মূল্যবান হউক না কেন। তাই পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য খেলনা জাতীয় সাহিত্য রচিত হওয়া উচিত নয়। সাহিত্য রচিত হবে পাঠকের আনন্দ বিধানের জন্য; যা স্বতঃস্ফূর্ত, চিরায়ত ও শাশ্বত। আর এ সত্য বিবেচনা করেই লেখক উচ্চারণ করেছেন- ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
বস্তুত, ‘আনন্দ’ ও ‘মনোরঞ্জন' শব্দদুটি প্রয়োগের মধ্য দিয়ে লেখক সাহিত্যের প্রকৃত আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
ব্যাখ্যা ৮ : শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।
ব্যাখ্যা : ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক মননশীল প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬) রচতি ‘প্রবন্ধসংগ্রহ' গ্রন্থের অন্তর্গত ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্যের পার্থক্য নিরূপণ করতে গিয়ে লেখক আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেন।
প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা” শীর্ষক প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্যের যথার্থ স্বরপ নির্ণয়ের প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর মতে সাহিত্য আনন্দ দানের জন্য রচিত হবে, পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য নয়। মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচিত হলে তা হয়ে পড়বে স্বধর্মচ্যুত৷ পাঠক আনন্দের পরিবর্তে লাভ করবে বিবিধ খেলনা। তথা কব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল ইত্যাদি। এই সমস্ত খেলনা পেয়ে পাঠকের মনস্তুষ্টি হতে পারে কিন্তু লেখকের হয় না। কারণ, পাঠক সমাজ আজ যে খেলনাকে আদর করে কাল তা ভেঙে ফেলে। সে খেলনা যতই মূল্যবান হউক না কেন। তাই পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য খেলনা জাতীয় সাহিত্য রচিত হওয়া উচিত নয়। সাহিত্য রচিত হবে পাঠকের আনন্দ বিধানের জন্য ; যা স্বতঃস্ফুর্ত, চিরায়ত ও শাশ্বত।
কারো কারো মতে সাহিত্য রচিত হবে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে। তবে লেখক এর সাথে একমত নন৷ কারণ, কবির মতিগতি এবং শিক্ষকের মতিগতি এক নয়। সাহিত্য রচনা যে আত্মার লীলা এ কথা সাহিত্যিকরা স্বীকার করলেও শিক্ষকরা স্বীকার করতে চান না। তবে শিক্ষকরা স্বীকার না করলেও শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্মকর্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমত, শিক্ষা হচ্ছে সেই বস্তু যা মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। অন্য দিকে কাব্য রস হচ্ছে সেই বস্তু যা মানুষ মনের আনন্দে পান করে। কারণ, শাস্ত্র মতে সে রস হচ্ছে অমৃত। দ্বিতীয়ত, অপরের মনের অভাব পুরণের ইচ্ছা থেকেই শিক্ষকের হাতে শিক্ষার জন্মলাভ। অন্যদিকে নিজের মনের পরিপূর্ণতার উদ্দেশ্যেই কবির হাতে সাহিত্যের জন্ম। তাই সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দ দান করা এবং আনন্দের মধ্য দিয়ে মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলা, শিক্ষা দান করা নয়। আর এ জন্যই লেখক উচ্চারণ করেছেন- ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।’
বস্তুত, আলোচ্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে লেখক সাহিত্য ও শিক্ষার পার্থক্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
ব্যাখ্যা ৯: সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে।
ব্যাখ্যা : ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক মননশীল প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬) রচতি ‘প্রবন্ধসংগ্রহ' গ্রন্থের অন্তর্গত ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রকৃত সাহিত্যের স্বরূপ তুলে ধরতে গিয়েই লেখক আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেছেন।
প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্যের যথার্থ স্বরপ নির্ণয়ের প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা কারও মনোরঞ্জন করা নয়। সাধারণভাবে ‘আনন্দ’ ও ‘মনোরঞ্জন’ একই অর্থে ব্যবহৃত হলেও, এ দুটির মধ্যে সূক্ষ্মতর পার্থক্য রয়েছে। মনোরঞ্জন শব্দটির সাথে হীন স্বার্থ বা বিশেষ উদ্দেশ্য জড়িত থাকে। বিশেষ ব্যক্তি বা বিশেষ শ্রেণির জন্যই আয়োজন হয় মনোরঞ্জনের। অন্যদিকে ‘আনন্দ’ বিশেষ ব্যক্তি বা শ্রেণি কেন্দ্রিক নয়, এটি সার্বজনীন। এর পিছনে কোন হীন স্বার্থচিন্তা বা অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করে না। তাছাড়া আনন্দ দেয়ার ব্যাপারটিতে কোন জোর বা কৌশলও কাজ করে না, এটি স্বয়ংক্রিয় এবং স্বতঃস্ফূর্ত।
সুতরাং সাহিত্য আনন্দ দানের জন্য রচিত হবে, পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য নয়। মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচিত হলে তা হয়ে পড়বে স্বধর্মচ্যুত৷ পাঠক আনন্দের পরিবর্তে লাভ করবে বিবিধ খেলনা। তথা কব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল ইত্যাদি। এই সমস্ত খেলনা পেয়ে পাঠকের মনস্তুষ্টি হতে পারে কিন্তু লেখকের পারে না। কারণ, পাঠক সমাজ আজ যে খেলনাকে আদর করে কাল তা ভেঙে ফেলে। সে খেলনা যতই মূল্যবান হউক না কেন। তাই পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য খেলনা জাতীয় সাহিত্য রচিত হওয়া উচিত নয়। সাহিত্য রচিত হবে পাঠকের আনন্দ বিধানের জন্য; যা স্বতঃস্ফূর্ত, চিরায়ত ও শাশ্বত। আর এই জাতীয় সাহিত্যেই মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে।
বস্তুত, আলোচ্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে লেখক প্রকৃত সাহিত্যের স্বরূপকেই অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
ব্যাখ্যা ১০ : সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়।
ব্যাখ্যা : ব্যাখ্যার জন্য নির্বাচিত অংশটুকু আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক মননশীল প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬) রচতি ‘প্রবন্ধসংগ্রহ” গ্রন্থের অন্তর্গত ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।
প্রকৃত সাহিত্যের স্বরূপ তুলে করতে গিয়ে লেখক আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেন।
প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্যের যথার্থ স্বরপ নির্ণয়ের প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর মতে সাহিত্য আনন্দ দানের জন্য রচিত হবে, পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য নয়। কারও কারও মতে সাহিত্য রচিত হবে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে । তবে লেখক এর সাথে একমত নন। কারণ, কবির মতিগতি এবং শিক্ষকের মতিগতি এক নয়। সাহিত্য রচনা যে আত্মার লীলা এ কথা সাহিত্যিকরা স্বীকার করলেও শিক্ষকরা স্বীকার করতে চান না। তবে শিক্ষকরা স্বীকার না করলেও শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্মকর্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমত, শিক্ষা হচ্ছে সেই বস্তু যা মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। অন্য দিকে কাব্য রস হচ্ছে সেই বস্তু যা মানুষ মনের আনন্দে পান করে। কারণ, শাস্ত্র মতে সে রস হচ্ছে অমৃত। দ্বিতীয়ত, অপরের মনের অভাব পুরণের ইচ্ছা থেকেই শিক্ষকের হাতে শিক্ষার জন্মলাভ। অন্যদিকে নিজের মনের পরিপূর্ণতার উদ্দেশ্যেই কবির হাতে সাহিত্যের জন্ম। তাই সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দ দান করা এবং আনন্দের মধ্য দিয়ে মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলা, শিক্ষা দান করা নয়। শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।
তাছাড়া সাহিত্য শিক্ষার ভার নেয় না, কেননা, মনোজগতে শিক্ষকের কাজ হচ্ছে সাহিত্যিকের কাজের বিপরীত। কারণ, সাহিত্যিকের কাজ হচ্ছে সাহিত্য সৃষ্টি করা, আর শিক্ষকের কাজ হচ্ছে প্রথমে তা বধ করা, তারপর তার শবচ্ছেদ করা এবং ঐ উপায়ে তত্ত্ব আবিষ্কার করা এবং তা প্রচার করা। তাই সাহিত্যের কাজ কারো মনোরঞ্জন করাও নয়, কাউকে শিক্ষা দেয়াও নয়। আর এ দিক লক্ষ করেই লেখক উচ্চারণ করেছেন-
‘সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়।
বস্তুত, আলোচ্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে লেখক সাহিত্যের প্রকৃত স্বরূপকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
******************************
ড. এ. আাই. এম. মুসা
অধ্যাপক-বাংলা
www.onlinereadingroombd.com
+88 01713 211 910