
NTRCA School: ১৮তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা: স্কুল পর্যায় বাংলা বিষয়ের অতিগুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন : প্রবন্ধ
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন : প্রবন্ধ
১ নং প্রশ্ন: ‘আমি রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি নাই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছি।’-উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
অথবা, দোষ আমারও নয়, আমার বীণারও নয়; দোষ তাঁর যিনি আমার কণ্ঠে বীণা বাজান।
উত্তর : প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটুকু ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেতনায় দীপ্ত, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবির বিদ্রোহ সকল প্রকার অন্যায়, অসত্য ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে এবং স্রষ্টার নির্দেশেই যে এই বিদ্রোহ সে কথাই আলোচ্য অংশে বলতে চেয়েছেন।
ব্রিটিশ রাজশক্তির চোখে কবি অপরাধী। এই অপরাধ রাজদ্রোহিতার। তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছে আদালতে আসামির কাঠগড়ায়। কিন্তু কবি নিজেকে অপরাধী ভাবেন না। তিনি নিজেকে সত্যের বার্তাবাহক মনে করেন। স্রষ্টা এ সত্যের ধারক ও বাহক। সত্যের সেবক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা। তাইতো কবি উৎপীড়িত আর্ত মানবতার পক্ষে স্রষ্টা কর্তৃক নির্দেশিত সত্যের তরবারি স্বরূপ। ব্রিটিশদের শাসন এবং শোষণে এদেশের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। পরাধীন ভারত জননী বেদনায় দিশেহারা। তাই স্বদেশ ও স্বজাতির মুক্তির লক্ষেই ধ্বনিত হয়ে উঠল কবির বিদ্রোহের অগ্নি-বীণা। আর সে বিদ্রোহ কোনো রাজার বিরুদ্ধে নয়; অন্যায়ের বিরুদ্ধে; কোনো শাসকের বিরুদ্ধে নয়, শোষণের বিরুদ্ধে। কবি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে যে বীণা বাজান এর সুর আসলে তার নিজের নয়, সে সুর স্রষ্টার। তাই কবি বলেছেন- দোষ আমারও নয়, আমার বীণারও নয়; দোষ তাঁর যিনি আমার কণ্ঠে বীণা বাজান।
বস্তুত, আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে অসত্য, অসুন্দর আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কবির বিদ্রোহর স্বরূপ অত্যন্ত সুন্দর ভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
২ নং প্রশ্ন : ‘ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার, আর কালচার শিক্ষিত, মার্জিত লোকের ধর্ম।’- উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করুন।
উত্তর : প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটুকু মুক্তবুদ্ধি চর্চার ধারক ও বাহক, যুক্তিবাদী প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী বিরচিত ‘সংস্কৃতি কথা’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।
সাধারণ লোক ও সংস্কৃতিবান শিক্ষিত মানুষের মধ্যে পার্থক্য এবং উভয়ের সংস্কৃতি ও ধর্ম চর্চার স্বরূপ নির্ণয় করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক আলোচ্য উক্তি করেন।
ধর্মের মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষ উন্নততর জীবনের সাধনা করে থাকে। তাদের কাছে ধর্মই হলো কালচার। অপরদিকে শিক্ষিত মার্জিত লোকের উন্নততর জীবন সাধনা হলো ধর্ম। তারা জানে নিজেকে বিকশিত করাই হলো কালচারের ধর্ম। তাই তারা নিজের মধে ঈশ্বর সৃষ্টি করে থাকে। ধর্মই সাধারণ লোককে অন্যায় থেকে, পাপ থেকে, পতন থেকে রক্ষা করে থাকে। আর কালচার্ড মানুষ নিজেই নিজের নবী। তার অন্তরের সূ² চেতনা তাকে কল্যাণের পথে টেনে নিয়ে যায়। কালচার ব্যক্তিকেন্দ্রিক। ধর্ম সমাজ কেন্দ্রিক। কালচার্ড বা সংস্কৃতিবান ব্যক্তি তাই নিজেকে সুন্দর কর, মহৎ কর, বিচিত্র কর এই আদর্শে লালিত। আর এটিই তাদের ধর্ম। সাধারণ লোক ধর্মের মধ্য দিয়ে সংযমী হতে শেখে। পরলোকে স্বর্গের স্বপ্নের তারা ধর্মকেই অবলম্বন করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত, মার্জিত, আলোকিত মানুষেরা সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। ব্যক্তির ভিতরের ‘আমি’ কে সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলাই তাদের কাজ। শিক্ষিত মার্জিত লোক তাই সংস্কৃতিকে সঙ্গী করেই ধর্মের অন্তর্ভূক্ত হয়। আর সাধারণ মানুষ করে তার উল্টোটা তারা ধর্মকে আয়ত্ত করেই সংস্কৃতির অঙ্গ হতে চায়।
বস্তুত, আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে লেখক সাধারণ লোক ও সংস্কৃতিবান শিক্ষিত মানুষের মধ্যে পার্থক্য এবং উভয়ের সংস্কৃতি ও ধর্ম চর্চার স্বরূপ অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
৩ নং প্রশ্ন : ‘সংস্কৃতি মানে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে বাঁচা।’- উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করুন।
উত্তর : প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটুকু মুক্তবুদ্ধি চর্চার ধারক ও বাহক, যুক্তিবাদী প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী বিরচিত ‘সংস্কৃতি কথা’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।
সংস্কৃতির যথার্থ স্বরূপ তুলে ধরতে গিয়ে লেখক আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেন।
সংস্কৃতির স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেখক অত্যন্ত যুক্তিনিষ্ঠ ভাষায় সংস্কৃতির প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করেছেন। সংস্কতির সাধনা করা মানে ripe হওয়ার সাধনা করা। সংস্কৃতিবান মানুষ একান্তই ব্যক্তিকেন্দ্রিক। জীবনের শ্রেষ্ঠ ও বহু বঙ্কিম প্রকাশ ঘটিয়ে সে দশের মধ্যে এগোরো হতে চায়। সে সমাজের বাধা ডিঙিয়ে নিজেকে সর্বাঙ্গ সুন্দররূপে গড়ে তোলে। শিক্ষাদীক্ষা ও সৌন্দর্য সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখে কালচার্ড মানুষ। সে পরম বেদনায় অসংখ্য দুঃখের কাঁটায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে অন্তরে গোলাপ ফুটিয়ে থাকে। সত্যকে ভালোবেসে,সৌন্দর্যকে ভালবেসে, ভালবাসাকে ভালবেসে, বিনা লাভের আশায় ভালোবেসে, নিজের ক্ষতি স্বীকার করে ভালবাসার নামই সংস্কৃতি। নিজের চিন্তা, নিজের ভাবনা, নিজের কল্পনার বিকাশ সাধনের মধ্য দিয়ে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে বাঁচা সম্ভব। সংস্কৃতিবান মানুষ নিজের দিকে তাকিয়েই জীবনের শ্রেষ্ঠ ও বহুভঙ্কিম প্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন। আর যার জন্যেই সে সমাজের আর দশজনের মধ্যে এগারো হয়ে থাকে। তাই যেখানে সংস্কৃতি যত উন্নত সেখানে জীবন তত উন্নত। নিজেকে বাঁচাও, নিজেকে মহান করো , বিচিত্র করো- এই হলো সংস্কৃতির আদেশ। তাই লেখক বলেছেন- সংস্কৃতি মানে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে বাঁচা।
বস্তুত, আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে লেখক সংস্কৃতির যথার্থ স্বরূপকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
৪ নং প্রশ্ন : ‘যেখানে ফ্রি থিংকিং নেই সেখানে কালচার নেই।’ -বলতে কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর : প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটুকু মুক্তবুদ্ধি চর্চার ধারক ও বাহক, যুক্তিবাদী প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী বিরচিত ‘সংস্কৃতি কথা’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।
সংস্কৃতি বিকাশের প্রকৃত পরিবেশের স্বরূপ নির্দেশ করতে গিয়ে লেখক আলোচ্য উক্তি করেছেন।
মুক্ত চিন্তার বিকাশই মানুষকে স্বাধীনতার পথে উন্মুখ করে তোলে। আর এই মুক্ত চিন্তা বা ফ্রি থিংকিং সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোনো বড় কিছু পেতে হলে নিজেকে কোনো মতবাদের খাঁচায় আটকালে চলবে না। কুসংস্কারকে দুপায়ে দলে সমানের দিকে এগিয়ে চলাই সংস্কৃতির কাজ। সংস্কৃতিবান মানুষ প্রেমের মধ্য দিয়েই স্বাধীন চিন্তার পথে মানব সভ্যতার বিকাশে সহায়ক হয়ে থাকে। কারণ সংস্কৃতিবান বা কালচার্ড মানুষের জন্যেই যুগে যুগে দেশে দেশে মানব সভ্যতার বিকাশ লাভ করেছে। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা স্বাধীন চিন্তার বিরোধিতা করে থাকে। যারা নীতিবাদের গণ্ডিকে জীবনের নিরাপত্তা বলে মনে করে। তাদের কাছে ফ্রি থিংকিংও নেই, সংস্কৃতিও নেই। কিন্তু যারা তাদের নীতিকথাকে উপেক্ষা করে মুক্তচিন্তার মধ্য দিয়ে নিজেদের আত্মাকে পূর্ণ, করে এবং নতুন পথে চলে তারাই সফলকাম হয়। নীতিবাদী ও ধার্মিকের যেখানে মোটা বন্ধন, কালচার্ড মানুষের সেখানে অসংখ্য সূক্ষ্মচিন্তার বন্ধন। কারণ ধার্মিক ও নীতিবাদী প্রয়োজনে নিষ্ঠুর ,অপরদিকে কালচার্ড মানুষ পরের মঙ্গল ছাড়া এতটুকু পরের ক্ষতির কারণ হতে পারে না। সে মুক্ত চিন্তার মধ্য দিয়ে সমাজের উপকারে লেগে থাকে। তাই লেখক বলেছেন, যেখানে ফ্রি থিংকিং নেই, সেখানে কালচার নেই।
বস্তুত, আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে লেখক, সংস্কৃতি বিকাশের প্রকৃত পরিবেশের স্বরূপকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
৫ নং প্রশ্ন : ‘রচনার প্রধান গুণ এবং প্রথম প্রয়োজন সরলতা ও স্পষ্টতা।’ উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করুন।
অথবা, ‘বিষয় অনুসারেই রচনার ভাষার উচ্চতা বা সামান্যতা নির্ধারিত হওয়া উচিৎ।’ - উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করুন।
অথবা, ‘যে রচনা সকলেই বুঝিতে পারে পড়িবা মাত্র যাহার অর্থ বুঝা যায়, অর্থ গৌরব থাকিলে তাহাই সর্বোৎকৃষ্ট রচনা।’-উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করুন।
উত্তর : প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটুকু ‘সাহিত্য সম্রাট’ অভিধায় ভূষিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বাঙ্গালা ভাষা’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে গৃহীত হয়েছে।
সরলতা, স্পষ্টতা বিষয় অনুযায়ী ভাষা ব্যবহারই উৎকৃষ্ট রচনার বৈশিষ্ট্য- এ সত্য প্রকাশ করতে গিয়েই লেখক আলোচ্য মন্তব্য করেন।
গদ্য সাহিত্যের সূচনা থেকেই ভাষারীতি নিয়ে সংস্কৃতানুসারী প্রাচীনপন্থী এবং সংস্কৃতবিরোধী কথ্যরীতির নব্যপন্থীদের মধ্যে সাংঘাতিক মতানৈক্য দেখা যায়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করে ভাষারীতি সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেন। তিনি রক্ষণশীল প্রাচীনপন্থীদের দুরূহ ভাষারীতির যেমন সমালোচনা করেছেন তেমনি নব্যপন্থীদের সংস্কৃত বিরোধিতাকেও নিন্দা করেছেন। উভয় পক্ষেও মতকে গ্রহণ বর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি বলতে চেয়েছেন, বিষয় অনুসারেই রচনার ভাষা নির্ধারিত হওয়া উচিত। রচনার প্রথম এবং প্রধান গুণ সরলতা ও স্পষ্টতা। যে রচনা সকলেই বুঝতে পারে এবং পড়ামাত্র যার অর্থ বোঝা যায়, অর্থ-গৌরব থাকলে তাই উৎকৃষ্ট রচনা। এক্ষেত্রে রচনার ভাষা সংস্কৃত বা কথ্যরীতির তা বিবেচ্য নয়। কারণ, দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে মানুষের কাছে যে ভাষা অধিক গ্রহণযোগ্য হয়ে আসছে সেটিই প্রয়োগ করার উচিত।
বস্তুত, কোনো রচনার ভাষা কেমন হওয়া উচিত তার যুক্তিকে আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে লেখক অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
৬ নং প্রশ্ন : ‘টেকচাঁদ ঠাকুর প্রথমে এই বিষবৃক্ষের মূলে কুঠারাঘাত করিলেন।’-উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করুন।
অথবা, ‘সেইদিন হইতে বাঙ্গালা ভাষার শ্রীবৃদ্ধি।’- কোন দিন হতে কীভাবে বাঙ্গালা ভাষার শ্রীবৃদ্ধি হলো?
অথবা, ‘সেইদিন হইতে শুষ্ক তরুর মূলে জীবনাবারি নিষিক্ত হইল।’- কোন দিন হতে কীভাবে শুষ্ক তরুর মূলে জীবনবারি নিষিক্ত হলো?
উত্তর : প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটুকু ‘সাহিত্য সম্রাট’ অভিধায় ভূষিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বাঙ্গালা ভাষা’ শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে গৃহীত হয়েছে।
সংস্কৃত ভাষার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে টেকচাঁদ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা ভাষা যখন স্বাধীনভাবে পথ চলতে শুরু করল, তখনকার অভিযাত্রা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে লেখক আলোচ্য উক্তি করেন।
বাংলা গদ্যের সূচনাপর্বে সংস্কৃত পন্ডিতেরা সংস্কৃত ও সাধু ভাষায় গদ্য রচনা করেন। তাদের অভিমত একমাত্র সংস্কৃত ও সাধু ভাষাতেই সাহিত্য রচিত হতে পারে, মুখের ভাষা কখনো সাহিত্যের ভাষা হতে পারে না। সংস্কৃত পণ্ডিতদের এই সংস্কৃতপ্রিয়তায় বাংলা সাহিত্য একদিন নীরস, শ্রীহীন ও দুর্বোধ্য ভাষায় পরিণত হয়। ঠিক সেই সময় প্যারিচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুর কথ্য ভাষায় ‘আলালের ঘরের দুলাল’ রচনা করে বিষবৃক্ষের মূলে কুঠারাঘাত করেন। সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা নিয়ে যে সাহিত্য রচিত হতে পারে এবং সেই সাহিত্যই যে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে টেকচাঁদ ঠাকুরই তা প্রথম দেখালেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার শ্রীবৃদ্ধি ঘটল। যুগান্তকারী এই বিপ্লবকে বঙ্কিমচন্দ্র সাধুবাদ জানালেন। তাঁর অভিমত, যে ভাষা সহজ-সরল ও সবার বোধগম্য নয় সে ভাষা শুষ্ক তরুর মত। তাইতো বঙ্কিমচন্দ্র এই আলালী ভাষার আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন,“সেইদিন হইতে বাঙ্গালা ভাষার শ্রীবৃদ্ধি, সেইদিন হইতে শুষ্ক তরুর মূলে জীবনবারি নিষিক্ত হইল।”
বস্তুত, সংস্কৃত ভাষার বিপরীতে টেকচাঁদ ঠাকুরের আলালী ভাষা ব্যবহারের সাফল্যকে বঙ্কিমচন্দ্র আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রশ্ন নং –৭ : শিক্ষার উদ্দেশ্য ও সাহিত্যের উদ্দেশ্যের মধ্যেকার পার্থক্য সম্বন্ধে লেখকের অভিমত কী ?
উত্তর: প্রধানত একজন মননশীল প্রাবন্ধিক হিসেবেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)-র আসন সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁর বিভিন্ন প্রবন্ধের মধ্যে আমাদের আলোচ্য ‘সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ অন্যতম। আলোচ্য প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মুখ্যত সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিৎ তা নির্ণয়ের প্রয়াস পেয়েছেন। তবে একই সাথে তিনি শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আলোকপাত করেছেন এবং সাহিত্য ও শিক্ষার উদ্দেশ্যের মধ্যকার পার্থক্যকেও তুলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছেন।
লেখকের মতে সাহিতের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেয়া কারও মনোরঞ্জন করা নয়। আবার সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষা দান করাও নয়। কারণ, শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্মকর্ম এক নয়। শিক্ষক ও কবির মতিগতিও এক নয। তাছাড়া পাঠ্যবিষয় মানুষ পড়ে অনিচ্ছায় এবং বাধ্য হয়ে । পক্ষান্তরে সাহিত্যের রসাস্বাদন করে মানুষ স্বেচ্ছায় ও আনন্দে । শিক্ষা হচ্ছে সেই বস্তু যা মানুষ নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়-জীবন, জীবিকা, জ্ঞান আহরণ ও উপার্জনের প্রয়োজনে । অপরদিকে - কাব্যরস লোকে শুধু স্বেচ্ছায় নয় সানন্দে পান করে অমৃত মনে করে ।’
তাছাড়া সাহিত্য ও শিক্ষার প্রক্রিয়াগত প্রভেদও প্রবল এবং সুস্পষ্ট। লেখক এই পার্থক্যকে স্পষ্ট করতে গিয়ে উচ্চারণ করেন-
“শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর
জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো’
সমকালীন বিশ্ব-বাস্তবতায় টিকে থাকার প্রয়োজনে বিশ্বের পূর্বাপর তথ্যাবলী এবং চলমান খবরাখবর জেনে রাখা আবশ্যক। অপরদিকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য টিকে থাকার সাথে সম্পর্কিত নয়। বরং, মানুষের অন্তরাত্মার স্বতঃস্ফূর্তিকেই সাহিত্য জাগ্রত করে তোলে। সাহিত্য পাঠের অভিজ্ঞাতায় মানুষ প্রতিনিয়ত বিস্ময়কর আত্ম-আবিষ্কারে অভিভূত হয়। তার এ অনির্বচনীয় আনন্দ শিক্ষার মাধ্যমে লাভ করা সম্ভব নয় ।
অভাব বোধ থেকে শিক্ষার উৎপত্তি। কিন্তু সাহিত্যের উদ্ভব কবি মনের পরিপূর্ণতা থেকে। কিন্তু আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা পাঠক এবং লেখকের মাঝে শিক্ষককে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে । তাই পাঠককুল সাহিত্যের রসাস্বাদনে পূর্ণ সুযোগ পচ্ছেন না। এ কারণেই প্রবন্ধকার লেখক এবং পাঠকের মাঝে শিক্ষকের উপস্থিতি বাঞ্ছনীয় নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন।
বস্তুত, লেখক অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্য ও শিক্ষার উদ্দেশ্যের মধ্যকার পার্থক্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন নং –৮ : ‘সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয।’উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটুকু আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক, মননশীল প্রাবন্ধিক, প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬) রচতি ‘প্রবন্ধসংগ্রহ’ গ্রন্থের অন্তর্গত ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধের অন্তর্গত।
প্রকৃত সাহিত্যের স্বরূপ তুলে ধরতে গিয়ে লেখক আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেন।
প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্যের যথার্থ স্বরপ নির্ণয়ের প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর মতে সাহিত্য আনন্দ দানের জন্য রচিত হবে, পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য নয়। কারো কারো মতে সাহিত্য রচিত হবে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে । তবে লেখক এর সাথে একমত নন। কারণ, কবির মতিগতি এবং শিক্ষকের মতিগতি এক নয়। সাহিত্য রচনা যে আত্মার লীলা এ কথা সাহিত্যিকরা স্বীকার করলেও শিক্ষকরা স্বীকার করতে চান না। তবে শিক্ষকরা স্বীকার না করলেও শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্মকর্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমত, শিক্ষা হচ্ছে সেই বস্তু যা মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। অন্য দিকে কাব্য রস হচ্ছে সেই বস্তু যা মানুষ মনের আনন্দে পান করে। কারণ, শাস্ত্র মতে সে রস হচ্ছে অমৃত। দ্বিতীয়ত, অপরের মনের অভাব পুরণের ইচ্ছা থেকেই শিক্ষকের হাতে শিক্ষার জন্মলাভ। অন্যদিকে নিজের মনের পরিপুর্ণতার উদ্দেশ্যেই কবির হাতে সাহিত্যের জন্ম। তাই সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দ দান করা এবং আনন্দের মধ্য দিয়ে মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলা, শিক্ষা দান করা নয়। শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।
তাছাড়া সাহিত্য শিক্ষার ভার নেয় না, কেননা, মনোজগতে শিক্ষকের কাজ হচ্ছে সাহিত্যিকের কাজের বিপরীত। কারণ, সাহিত্যিকের কাজ হচ্ছে সাহিত্য সৃষ্টি করা, আর শিক্ষকের কাজ হচ্ছে প্রথমে তা বধ করা, তারপর তার শবচ্ছেদ করা এবং ঐ উপায়ে তত্ত্ব আবিষ্কার করা এবং তা প্রচার করা। তাই সাহিত্যের কাজ কারও মনোরঞ্জন করাও নয়, কাউকে শিক্ষা দেয়াও নয়। আর এ দিক লক্ষ করেই লেখক উচ্চারণ করেছেন- ‘সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়।”
বস্তুত, আলোচ্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে লেখক সাহিত্যের প্রকৃত স্বরূপকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তোলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রশ্ন নং- ৯ : ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।’-উক্তিটিার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করুন।
উত্তর : প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটুকু আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক মননশীল প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬) রচতি ‘প্রবন্ধসংগ্রহ' গ্রন্থের অন্তর্গত ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও আদর্শ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেন।
প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্যের যথার্থ স্বরপ নির্ণয়ের প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা কারও মনোরঞ্জন করা নয়। সাধারণভাবে ‘আনন্দ' ও 'মনোরঞ্জন’ একই অর্থে ব্যবহৃত হলেও, এ দুটির মধ্যে সূক্ষ্মতর পার্থক্য রয়েছে। মনোরঞ্জন শব্দটির সাথে হীন স্বার্থ বা বিশেষ উদ্দেশ্য জড়িত থাকে। বিশেষ ব্যক্তি বা বিশেষ শ্রেণির জন্যই আয়োজন হয় মনোরঞ্জনের। অন্যদিকে ‘আনন্দ’ বিশেষ ব্যক্তি বা শ্ৰেণি কেন্দ্রিক নয়, এটি সার্বজনীন। এর পিছনে কোন হীন স্বার্থচিন্তা বা অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করে না। তাছাড়া আনন্দ দেয়ার ব্যাপারটিতে কোন জোর বা কৌশলও কাজ করে না, এটি স্বয়ংক্রিয় এবং স্বতঃস্ফূর্ত।
সুতরাং সাহিত্য আনন্দ দানের জন্য রচিত হবে, পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য নয়। মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচিত হলে তা হয়ে পড়বে স্বধর্মচ্যুত। পাঠক আনন্দের পরিবর্তে লাভ করবে বিবিধ খেলনা। তথা কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল ইত্যাদি। এই সমস্ত খেলনা পেয়ে পাঠকের মনস্তুষ্টি হতে পারে কিন্তু লেখকের পারে না। কারণ, পাঠক সমাজ আজ যে খেলনাকে আদর করে কাল তা ভেঙে ফেলে। সে খেলনা যতই মূল্যবান হউক না কেন। তাই পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য খেলনা জাতীয় সাহিত্য রচিত হওয়া উচিত নয়। সাহিত্য রচিত হবে পাঠকের আনন্দ বিধানের জন্য; যা স্বতঃস্ফূর্ত, চিরায়ত ও শাশ্বত। আর এ সত্য বিবেচনা করেই লেখক উচ্চারণ করেছেন- ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
বস্তুত, ‘আনন্দ’ ও ‘মনোরঞ্জন' শব্দদুটি প্রয়োগের মধ্য দিয়ে লেখক সাহিত্যের প্রকৃত আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রশ্ন নং-১০ : ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।’- উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর : প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটুকু আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক মননশীল প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬) রচতি ‘প্রবন্ধসংগ্রহ' গ্রন্থের অন্তর্গত ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্যের পার্থক্য নিরূপণ করতে গিয়ে লেখক আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেন।
প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা” শীর্ষক প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্যের যথার্থ স্বরপ নির্ণয়ের প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর মতে সাহিত্য আনন্দ দানের জন্য রচিত হবে, পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য নয়। মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচিত হলে তা হয়ে পড়বে স্বধর্মচ্যুত৷ পাঠক আনন্দের পরিবর্তে লাভ করবে বিবিধ খেলনা। তথা কব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল ইত্যাদি। এই সমস্ত খেলনা পেয়ে পাঠকের মনস্তুষ্টি হতে পারে কিন্তু লেখকের হয় না। কারণ, পাঠক সমাজ আজ যে খেলনাকে আদর করে কাল তা ভেঙে ফেলে। সে খেলনা যতই মূল্যবান হউক না কেন। তাই পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য খেলনা জাতীয় সাহিত্য রচিত হওয়া উচিত নয়। সাহিত্য রচিত হবে পাঠকের আনন্দ বিধানের জন্য ; যা স্বতঃস্ফুর্ত, চিরায়ত ও শাশ্বত।
কারো কারো মতে সাহিত্য রচিত হবে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে। তবে লেখক এর সাথে একমত নন৷ কারণ, কবির মতিগতি এবং শিক্ষকের মতিগতি এক নয়। সাহিত্য রচনা যে আত্মার লীলা এ কথা সাহিত্যিকরা স্বীকার করলেও শিক্ষকরা স্বীকার করতে চান না। তবে শিক্ষকরা স্বীকার না করলেও শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্মকর্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথমত, শিক্ষা হচ্ছে সেই বস্তু যা মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। অন্য দিকে কাব্য রস হচ্ছে সেই বস্তু যা মানুষ মনের আনন্দে পান করে। কারণ, শাস্ত্র মতে সে রস হচ্ছে অমৃত। দ্বিতীয়ত, অপরের মনের অভাব পুরণের ইচ্ছা থেকেই শিক্ষকের হাতে শিক্ষার জন্মলাভ। অন্যদিকে নিজের মনের পরিপূর্ণতার উদ্দেশ্যেই কবির হাতে সাহিত্যের জন্ম। তাই সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দ দান করা এবং আনন্দের মধ্য দিয়ে মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলা, শিক্ষা দান করা নয়। আর এ জন্যই লেখক উচ্চারণ করেছেন- ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।’
বস্তুত, আলোচ্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে লেখক সাহিত্য ও শিক্ষার পার্থক্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রশ্ন নং -১১: ‘সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে।’-উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর : প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটুকু আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক মননশীল প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬) রচতি ‘প্রবন্ধসংগ্রহ' গ্রন্থের অন্তর্গত ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রকৃত সাহিত্যের স্বরূপ তুলে ধরতে গিয়েই লেখক আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেছেন।
প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা' শীর্ষক প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্যের যথার্থ স্বরপ নির্ণয়ের প্রয়াস পেয়েছেন। তাঁর মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা কারও মনোরঞ্জন করা নয়। সাধারণভাবে ‘আনন্দ’ ও ‘মনোরঞ্জন’ একই অর্থে ব্যবহৃত হলেও, এ দুটির মধ্যে সূক্ষ্মতর পার্থক্য রয়েছে। মনোরঞ্জন শব্দটির সাথে হীন স্বার্থ বা বিশেষ উদ্দেশ্য জড়িত থাকে। বিশেষ ব্যক্তি বা বিশেষ শ্রেণির জন্যই আয়োজন হয় মনোরঞ্জনের। অন্যদিকে ‘আনন্দ’ বিশেষ ব্যক্তি বা শ্রেণি কেন্দ্রিক নয়, এটি সার্বজনীন। এর পিছনে কোন হীন স্বার্থচিন্তা বা অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করে না। তাছাড়া আনন্দ দেয়ার ব্যাপারটিতে কোন জোর বা কৌশলও কাজ করে না, এটি স্বয়ংক্রিয় এবং স্বতঃস্ফূর্ত।
সুতরাং সাহিত্য আনন্দ দানের জন্য রচিত হবে, পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য নয়। মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচিত হলে তা হয়ে পড়বে স্বধর্মচ্যুত৷ পাঠক আনন্দের পরিবর্তে লাভ করবে বিবিধ খেলনা। তথা কব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল ইত্যাদি। এই সমস্ত খেলনা পেয়ে পাঠকের মনস্তুষ্টি হতে পারে কিন্তু লেখকের পারে না। কারণ, পাঠক সমাজ আজ যে খেলনাকে আদর করে কাল তা ভেঙে ফেলে। সে খেলনা যতই মূল্যবান হউক না কেন। তাই পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য খেলনা জাতীয় সাহিত্য রচিত হওয়া উচিত নয়। সাহিত্য রচিত হবে পাঠকের আনন্দ বিধানের জন্য; যা স্বতঃস্ফূর্ত, চিরায়ত ও শাশ্বত। আর এই জাতীয় সাহিত্যেই মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে।
বস্তুত, আলোচ্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে লেখক প্রকৃত সাহিত্যের স্বরূপকেই অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
প্রশ্ন নং-১২: নারী সমাজের অগ্রগতির স্বার্থে রোকেয়া কী ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছিলেন ?
উত্তর: শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র ভারত উপমহাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজতাত্ত্বিক বিকাশের ইতিহাসে বেগম রোকেয় সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) ছিলেন এক অনন্য সাধারণ শিল্পী ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে ছিলেন সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। সাহিত্য সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি পশ্চাৎপদ নারী সমাজের মুক্তির স্বপ্নই দেখে ছিলেন। আমাদের আলোচ্য ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধ এই স্বপ্নেরই শাব্দিক রূপায়ণ। আলোচ্য প্রবন্ধে নারী সমাজের অগ্রগতির স্বার্থে বেগম রোকেয়া কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। এই মতামতগুলো নিম্নে উপস্থাপিত হলো:
১। শিক্ষাবিস্তার: নারী সমাজের অগ্রগতির জন্য বেগম রোকেয়া সর্বাগ্রে জোর দিয়েছেন শিক্ষার ক্ষেত্রে। কেননা, অশিক্ষার কারণেই নারী সমাজ আজ পাশ্চাৎপদ।
২। পুরুষদের মনোভাব: নারী সমাজের অগ্রগতির জন্য পুরুষদের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। নারীদের জড় পদার্থ না ভেবে জীবিত সত্ত্বা হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।
৩। পুত্র কন্যার সমান গুরুত্ব: সমাজের অগ্রগতির জন্য শুধু পত্রকে নয়, কন্যাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাসহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে পুত্র ও কন্যাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
৪। মানসিক দাসত্ব: নারী সমাজের অগ্রগাতির জন্য নারী সমাজকে মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে হবে। তাদেরকেও সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে ভাবতে হবে। পুরুষদেরকে প্রভু না ভেবে অর্ধাঙ্গ ভাবতে হবে।
৫। শারীরিক শিক্ষা: সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি নারীদেরকে শারীরিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত হতে ববে। তাঁদেরকে শরীর চর্চায় ব্রতী হতে হবে। অন্যথায় তারা পুরুষদের সমকক্ষতা অর্জন করতে ব্যর্থ হবে।
বস্তুত, নারী সমাজের যথার্থ উন্নয়নে বেগম রোকেয়া উল্লিখিত পদক্ষেপ সমুহের পক্ষেই মতামত দিয়েছেন।
প্রশ্ন নং-১৩ : মানসিক দাসত্ব বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন ? বিশদভাবে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র ভারত উপমহাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজতাত্ত্বিক বিকাশের ইতিহাসে বেগম রোকেয় সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) ছিলেন এক অনন্য সাধারণ শিল্পী ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে ছিলেন সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। সাহিত্য সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি পশ্চাৎপদ নারী সমাজের মুক্তির স্বপ্নই দেখে ছিলেন। আমাদের আলোচ্য ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধ এই স্বপ্নেরই শাব্দিক রূপায়ণ। এখানে তিনি নারী সমাজের পশ্চাৎপদতার জন্য বিভিন্ন কারণের মধ্যে নারীদের মানসিক দাসত্বকেও দায়ী করেছেন।
মানসিক দাসত্ব হচ্ছে মানুষের মনগত হীনমন্যতা। কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা না নিয়ে তার শ্রেষ্ঠত্বকে মেনে নেয়া এবং সে সম্পর্কে নিজেকে হীন মনে করাই ‘মানসিক দাসত্ব৷’ আমাদের নারী সমাজে পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থার শিকার। ফলে তারা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তারা ধর্মান্ধ এবং পুরুষের উপর নির্ভরশীল। এই পরনির্ভরশীলতার কারণে তারা ব্যক্তিত্বহীন৷ তাছাড়া এই পরনির্ভরশীলতার কারণেই তাদের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধ জাগ্রত হয় না, মানসিক মুক্তি ঘটে না, তারা মুক্ত চিন্তা করতে সক্ষম হয় না, স্বাধীন মতামত দিতে পারে না, সব বিষয়ে হীনমন্যতার পরিচয় দেয়, স্বামীর নির্দেশমত চলাকেই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করে। নারীর এই হীন প্রবৃত্তি এবং পরনির্ভশীলতাকেই লেখিকা মানসিক দাসত্ব বলেছেন।
বেগম রোকেয়া পার্সি নারীদের উদাহরণ দিয়ে মানসিক দাসত্বের স্বারূপ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। ইংরেজদের অনুকরণে পার্সি পুরুষেরা নারীদের বাইরে এনেছেন বটে, কিন্তু তাদের স্বাধীন চিত্ত বিকাশ হয়নি। কারণ, তাদের এই পর্দামুক্তি তাদের নিজেদের অর্জন নয় ; তারা ভেতর থেকে এর যথার্থতা উপলব্ধি করেনি। ফলে তারা চিন্তা ও জীবনবোধে স্বাধীন হয়ে উঠতে পারেনি। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধও তাদের মধ্যে জাগ্রত হয়নি। এরই কারণে তাদের মানসিক দাসত্বও ঘোচেনি। মানসিক দাসত্ব ঘোচাতে চাই স্বাধীন চিন্তা ও চিত্তের স্বাধীন বিকাশ।
প্রশ্ন নং-১৪ : শিক্ষা ও কর্মজীবনে নারীর পশ্চাৎপদতার সমস্যা বেগম রোকেয়া কীভাবে তুলে ধরেছেন?
উত্তর : শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র ভারত উপমহাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজতাত্ত্বিক বিকাশের ইতিহাসে বেগম রোকেয় সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) ছিলেন এক অনন্য সাধারণ শিল্পী ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে ছিলেন সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। সাহিত্য সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি পশ্চাৎপদ নারী সমাজের মুক্তির স্বপ্নই দেখে ছিলেন। আমাদের আলোচ্য ‘অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধ এই স্বপ্নেরই শাব্দিক রূপায়ণ। আলোচ্য প্রবন্ধে তিনি নারী মুক্তির উপায় সন্ধানের পাশাপাশি নারীর পাশ্চাৎপদতার ক্ষেত্রসমুহও চিহ্নিত করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি শিক্ষা ও কর্মজীবনে নারীর পশ্চাৎপদতার স্বরূপটিকে অত্যন্ত নিপুণ শিল্প-শৈলীর সাথে তুলে ধরেছেন।
নারীদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগের স্বল্পতাকেই শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের পশ্চাৎপদতার অন্যতম সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন। আমাদের পুরুষশাসিত সমাজে নারী শিক্ষাকে স্বীকার করতে চায় না। মনে করা হয়, নারী শিক্ষিত হয়ে উঠলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে। তাই অভিভাবকেরা কন্যার শিক্ষাকে উৎসাহিত না করে নিরুৎসাহিত করে। তারা মনে করে কন্যারা অক্ষরজ্ঞান লাভ করে দুচারখানা উপন্যাস পাঠ করতে পারলেই যথেষ্ট। অন্যদিকে নারী নিজেও শিক্ষাগ্রহণের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখে না। বিয়ে হয়ে গেলে সে ভাবে যাক লেখাপড়া থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া গেল। আর এ কারণেই শিক্ষাক্ষেতে নারী থেকে যাচ্ছে পশ্চাৎপদ।
পুরুষশাসিত সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও হীনমন্যতাকেই নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বেগম রোকেয়া। নারীর সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডকে স্বীকর করে না পুরুষ সমাজ। অফিস আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য এমন কি পাইলটও যে নারী হতে পারে তা পুরুষ সমাজ কল্পনাও করতে পারে না। পুরুষ মনে করে নারী হবে অন্তঃপুর বাসিনী, সে হবে শুধুই সেবাদাসী। তাই পুরুষ যখন পৃথিবী থেকে সূর্য ও নক্ষত্রের দুরত্ব মাপেন নারীরা তখন একটা বালিসের ওয়াড়ের দৈর্ঘ্য মাপায় ব্যস্ত থাকেন।
বস্তুত, আলোচ্য প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর পশ্চাৎপদতার স্বরূপটিকে যুক্তিনির্ভর করে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রশ্ন নং-১৫: নারীর প্রতি পুরুষের যে দৃষ্টিভঙ্গিকে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে সমালোচনা করা হয়েছে তার পরিচয় দাও?
উত্তর: শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র ভারত উপমহাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজতাত্ত্বিক বিকাশের ইতিহাসে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) ছিলেন এক অনন্য সাধারণ শিল্পী ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে ছিলেন সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। সাহিত্য সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি পশ্চাৎপদ নারী সমাজের মুক্তির স্বপ্নই দেখে ছিলেন। আমাদের আলোচ্য ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধ এই স্বপ্নেরই শাব্দিক রূপায়ণ। আলোচ্য প্রবন্ধে তিনি নারী মুক্তির উপায় সন্ধানের পাশাপাশি নারীর প্রতি পুরুষের যে দৃষ্টিভঙ্গি তাও তুলে ধরেছেন এবং সাথে সাথে তার কঠোর
সমালোচনও করেছেন ।
আমাদের সমাজে নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি পশ্চাদপদ, নেতিবাচক, স্বার্থপর এবং হীনমন্যচেতনায় ভারাক্রান্ত। এই সমাজে নারী শিক্ষাকে স্বীকার করতে চায় না। মনে করা হয়, নারী শিক্ষিত হয়ে উঠলে সমাজ নষ্ট হয়ে যাবে। তাই অভিভাবকেরা কন্যার শিক্ষাকে উৎসাহিত না করে নিরুৎসাহিত করে। তারা মনে করে কন্যারা অক্ষরজ্ঞান লাভ করে দুচারখানা উপন্যাস পাঠ করতে পারলেই যথেষ্ট। এই জন্য আমাদের পুরুষশাসিত সমাজে পুত্রের শিক্ষার জন্য যেখানে চার জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়, সেখানে কন্যার জন্য দু'জন শিক্ষকও নিয়োগ করেন না।
অন্যদিকে পুরুষশাসিত সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও হীনমন্যতাকেই নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বেগম রোকেয়া। নারীর সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডকে স্বীকর করে না পুরুষ সমাজ। অফিস আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য এমন কি পাইলটও যে নারী হতে পারে তা পুরুষ সমাজ কল্পনাও করতে পারে না। পুরুষ মনে করে নারী হবে অন্তঃপুর বাসিনী, সে হবে শুধুই সেবাদাসী। তাই পুরুষ যখন পৃথিবী থেকে সূর্য ও নক্ষত্রের দুরত্ব মাপেন নারীরা তখন একটা বালিসের ওয়াড়ের দৈর্ঘ্য মাপায় ব্যস্ত থাকেন।
নারীর প্রতি পুরুষের উল্লিখিত দৃষ্টিভঙ্গিকেই ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে সমালোচনা করা হয়েছে।
******************************
ড. এ. আাই. এম. মুসা
অধ্যাপক-বাংলা
www.onlinereadingroombd.com
+88 01713 211 910