
NTRCA Schoo: বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা (স্কুল পর্যায়), সহকারী শিক্ষক, সাজেশন ও সমাধান, বাংলা ভাষা রীতি ( সাধু ও চলিত)
নিচের অনুচ্ছেদগুলো সাধু থেকে চলিত ভাষায় রূপান্তর করুন
১। সাধু রীতি : আমি যৌবনের পূজারী কবি বলিয়াই যদি আমায় আাপনাদের মালার মধ্যমণি করিয়া থাকেন, তাহা হইলে আমার অভিযোগ করিবার কিছুই নেই। আপনাদের মহাদান আমি সানন্দে শির নত করিয়া গ্রহণ করিলাম। আপনাদের দলপতি হইয়া নয়, আপনাদের দলভুক্ত হইয়া, সহযাত্রী হইয়া। আমাদের দলে কেহ দলপতি নাই, আজ আমরা শত দিক হইতে শত শত তরুণ মিলিয়া তারুণ্যের শতদল ফুটাইয়া তুলিয়াছি। আমরা সকলে মিলিয়া এক সিদ্ধি, এক ধ্যানের মৃণাল ধরিয়া বিকশিত হইতে চাই।
উত্তর :চলিত রীতি : আমি যৌবনের পূজারি কবি বলেই যদি আমায় আপনাদের মালার মধ্যমণি করে থাকেন, তাহলে আমার অভিযোগ করার কিছুই নেই। আপনাদের মহাহান আমি সানন্দে মাথা নত করে গ্রহণ করলাম। আপনাদের দলপতি হয়ে নয়, আপনাদের দলভুক্ত হয়ে, সহযাত্রী হয়ে। আমাদের দলে কেউ দলপতি নেই, আজ আমরা শত দিক থেকে শত শত তরুণ মিলে তারুণ্যের শতদল ফুটিয়ে তুলেছি। আমরা সকলে মিলে এক সিদ্ধি, এক ধ্যানের মৃণাল ধরে বিকশিত হতে চাই।
(সাধু-চলিত ভাষা রূপান্তর সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:
২। সাধু রীতি : মৃন্ময়ী আর হাসিল না। তাহাকে প্রত্যুষের আলোকে নির্জন পথ দিয়া তাহার মার বাড়ি রাখিয়া অপূর্ব গৃহে আসিয়া মাতাকে কহিল, “ভাবিয়া দেখিলাম, আমার বউকে আমরা সঙ্গে কলিকাতায় লইয়া গেলে আমরা পড়াশুনার ব্যাঘাত হইবে, সেখানে উহারও কেহ সঙ্গিনী নাই। তুমি তো তাহকে এ বাড়িতে রাখিতে চাও না, আমি তাই তাহার মার বাড়িতেই রাখিয়া আসিলাম।”
উত্তর: চলিত রীতি : মৃন্ময়ী আর হাসল না। তাকে ভোরের আলোকে নির্জন পথ দিয়ে তার মার বাড়ি রেখে অপূর্ব গৃহে এসে মাকে বলল,“ভেবে দেখলাম, আমার সাথে কোলকাতায় নিয়ে গেলে আমার পড়াশুনার ব্যাঘাত হবে, সেখানে তারও কেউ সাথী নেই। তুমি তো তাকে এ বাড়িতে রাখতে চাও না, আমি তাই তার মার বাড়িতেই রেখে এলাম।”
৩। সাধু রীতি : জীব শুধু বাঁচিয়া থাকিয়াই সন্তুষ্ট নহে, সে যুগ-যুগান্তরের ভিতর দিয়ে আপনাকে প্রসার করিতে চাহে। অর্থ্যাৎ সে সন্তান-সন্ততির ভিতর দিয়ে নিজেকে চিরকাল বাাঁচিয়া থাকিতে ব্যগ্র। সেই জন্যই জীবজগতে সন্তান-বাৎসল্যের এরূপ প্রবল অভিব্যক্তি। ক্ষুদ্র পিপীলিকা হইতে পাখি, চতুষ্পদ জন্তু এবং মনুষ্য, সকলের মধ্যেই এই সন্তান- বাৎসল্য পরিস্ফুট হইয়াছে। এই যে বাৎসল্যের বিরাট অভিনয়, ইহা যে সকল সময় সজ্ঞানে অনুষ্ঠিত হয়, তাহা নহে।
উত্তর : চলিত রীতি : জীব শুধু বাঁচিয়া থাকিয়াই সন্তুষ্ট নয়, সে যুগ-যুগান্তরের ভিতর দিয়ে আপনাকে প্রসার করতে চায়। সে সন্তান-সন্ততির ভিতর দিয়ে নিজে চিরকাল বাাঁচিয়ে রাখতে আগ্রহী। সেই জন্যই জীবজগতে সন্তান-বাৎসল্যের এরূপ তীব্র প্রকাশ। ক্ষুদ্র পিপীলিকা থেকে পাখি, চতুষ্পদ জন্তু এবং মনুষ্য, সকলের মধ্যেই এই সন্তান- বাৎসল্য লক্ষ করা যায়। বাৎসল্যের এই বিরাট অভিনয়, তা যে সব সময় সজ্ঞানে অনুষ্ঠিত হয়, তা নয়।
৪। সাধু রীতি: এরূপ সংস্কৃতপ্রিয়তা এবং সংস্কৃতানুকারিতা হেতু বাঙ্গলা সাহিত্য অত্যন্ত নীরস শ্রীহীন, দুর্বল এবং বাঙ্গালা সমাজে অপরিচিত হইয়া রহিল। টেকচাঁদ ঠাকুর প্রথমে এ বিষবৃক্ষের মূলে কুঠারঘাত করিলেন। তিনি ইংরেজিতে সুশিক্ষিত। ইংরেজিতে প্রচলিত ভাষার মহিমা দেখিয়াছিলেন এবং বুঝিয়াছিলেন। তিনি ভাবিলেন, বাঙ্গালার প্রচলিত ভাষাতেই বা কেন গদ্যগ্রন্থ রচিত হইবে না?
উত্তর : চলিত রীতি : এরূপ সংস্কৃতপ্রিয়তা এবং সংস্কৃতানুকারিতার কারণে বাংলা সাহিত্য অত্যন্ত নীরস, শ্রীহীন, দুর্বল এবং বাংলা সমাজে অপরিচিত হয়ে রইল। টেকচাঁদ ঠাকুর প্রথমে এ বিষবৃক্ষের মূলে কুঠারঘাত করলেন। তিনি ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত। ইংরেজিতে প্রচলিত ভাষার মহিমা দেখেছিলেন এবং বুঝেছিলেন। তিনি ভাবিলেন, বাংলার প্রচলিত ভাষাতেই বা কেন গদ্যগ্রন্থ রচিত হবে না?
৫। সাধু রীতি : সেই রাত্রি হইতে ভিখুর আদিম, অসভ্য জীবনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হইল। চিতলপুরের পাশে একটা নদী আছে। পেহ্লাদের ঘরে আগুন দিয়া আসিয়া একটা গোল ডিঙ্গি চুরি করিয়া ভিখু নদীর স্রোতে ভাসিয়ে গিয়াছিল। লগি ঠেলিবার সামর্থ্য তাহার ছিল না। একটা চ্যাপটা বাঁশকে হালের মত করিয়া ধরিয়া রাখিয়া সে সমস্ত রাত কোনও রকমে নৌকার মুখ সিধা রাখিয়াছিল। সকাল হওয়ার আগে শুধু স্রোতের টানে সে বেশিদূর আগাইতে পারেনি।
উত্তর : চলিত রীতি : সেই রাত হতে ভিখুর আদিম, অসভ্য জীবনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হল। চিতলপুরের পাশে একটা নদী আছে। পেহ্লাদের ঘরে আগুন দিয়ে এসে একটা গোল ডিঙ্গি চুরি করে ভিখু নদীর স্রোতে ভেসে গিয়াছিল। লগি ঠেলার সামর্থ্য তার ছিল না। একটা চ্যাপটা বাঁশকে হালের মত করে ধরে রেখে সে সারা রাত কোনো রকমে নৌকার মুখ সোজা রেখেছিল। সকাল হওয়ার আগে শুধু স্রোতের সে বেশিদূর আগাতে পারেনি।
৬। সাধু রীতি : বাঙ্গালায় লিখিত এবং কথিত ভাষায় যে পার্থক্য দেখা যায়, অন্যত্র তত নহে। বলিতে গেলে, কিছুকাল পূর্বের দুইটি পৃথক ভাষা বাঙ্গালায় প্রচলিত ছিল। একটির নাম সাধু অপরটির নাম চলিত ভাষা। একটি লেখার ভাষা, অপরটি বলার ভাষা। বইয়ে প্রথম ভাষাটি ভিন্ন দ্বিতীয়টির চিহ্ন পাওয়া যাইত না।
উত্তর : চলিত রীতি : বাংলায় লেখ্য এবং কথ্য ভাষায় যে পার্থক্য দেখা যায়, অন্যত্র তত নয়। বলতে গেলে, কিছুকাল আগে দুটি আলাদা ভাষা বাংলায় প্রচলিত ছিল। একটির নাম সাধু, অপরটির নাম চলিত ভাষা। একটি লেখার ভাষা, অপরটি বলার ভাষা। বইয়ে প্রথম ভাষাটি ভিন্ন দ্বিতীয়টির চিহ্ন পাওয়া যেত না।
৭। সাধু রীতি : সুখে থাকিয়া এবং পেট ভরিয়া খাইয়া কিছুদিনের মধ্যে ভিখুর দেহে পূর্বের স্বাস্থ্য ফিরিয়া আসিল। তাহার ছাতি ফুলিয়া উঠিল, প্রত্যেকটি অঙ্গ সঞ্চালনে হাতে ও পিঠের মাংসপেশী নাচিয়া উঠিতে লাগিল। অবরুদ্ধ শক্তির উত্তেজনায় ক্রমে ক্রমে তাহার মেজাজ উদ্ধত ও অসহিঞ্চু হইয়া পড়িল। অভ্যস্তত বুলি আওড়িতে কাতরভাবে সে এখনো ভিক্ষে চায়। কিন্তু ভিক্ষা না পেলে তার রাগের সীমা থাকে না।
উত্তর : চলিত রীতি : সুখে থেকে এবং পেট ভরে খেয়ে কিছুদিনের মধ্যে ভিখুর দেহে পূর্বের স্বাস্থ্য ফিরে এল। তার ছাতি ফুলে উঠল, প্রত্যেকটি অঙ্গ সঞ্চালনে হাতের ও পিঠের মাংসপেশী নেচে উঠতে লাগল। অবরুদ্ধ উত্তেজনায় ধীরে ধীরে তার মেজাজ উদ্ধত ও অসহিঞ্চু হয়ে পড়ল। অভ্যস্ত বুলি আওড়িয়ে কাতরভাবে সে এখনো ভিক্ষে চায়। কিন্তু ভিক্ষা না পেলে তার রাগের সীমা থাকে না।
৮। সাধু রীতি : গুটিকতেক শিক্ষিত লোককে বাদ দিলে এখনও এই পুঁথি সাহিত্যই বাংলার বিশাল মুসলমান সমাজের আনন্দ ও শিক্ষা সম্পাদন করিতেছে। পুঁথি পাঠক যখন সুর করিয়া পুঁথি পড়িতে থাকে, তখন শ্রোতাবর্গ কখনও কারবালার শহীদগণের দুঃখে গলিয়া যায়, কখনও আমীর হামযার বা রুস্তমের বীরত্বে মাতিয়া উঠে, কখনও বা হাতেমের দুয়ার ভিজিয়া যায়।
উত্তর : চলিত রীতি : গুটিকয়েক শিক্ষিত লোককে বাদ দিলে এখনো এই পুঁথি সাহিত্যই বাংলার বিশাল মুসলিম সমাজের আনন্দ ও শিক্ষা সম্পাদন করছে। পুঁথি পাঠক যখন সুর করিয়া পুঁথি পড়তে থাকে, তখন শ্রোতাবৃন্দ কখনো কারবালার শহীদদের দুঃখে গলে যায়, কখনে আমীর হামযা বা রুস্তমের বীরত্বে মাতিয়া উঠে, কখনো বা হাতেমের দুয়ার ভিজে যায়।
৯। সাধু রীতি : নৌকা যথাস্থানে ঘাটে আসিয়া লাগিল। নদী তীর হইতে অপূর্বদের বাড়ির পাকা ছাদ গাছের অন্তরাল দিয়া দেখা যাইতেছ্ অপূর্বর আগমন-সংবাদ বাড়ির কেহ জানিত না, সেই জন্য ঘাটে লোক আসে নাই। মাঝি ব্যাগ লইতে উদ্যত হইলে অপূর্ব তাহাকে নিবারণ করিয়া নিজেই ব্যাগ হতে লইয়া আনন্দভরে তাড়াতাড়ি নামিয়া আসিল।
উত্তর : চলিত রীতি : নৌকা যথাস্থানে ঘাটে এসে লাগল। নদী তীর থেকে অপূর্বদের বাড়ির পাকা ছাদ গাছের অন্তরাল দিয়া দেখা যাচ্ছে। অপূর্বের আগমনের সংবাদ বাড়ির কেউ জানত ন। সেইজন্য ঘাটে লোক আসে নি। মাঝি ব্যাগ নিয়ে উদ্যত হলে অপুর্ব তাকে নিবারণ করে নিজেই ব্যাগ হতে নিয়া আনন্দভরে তাড়াতাড়ি নেমে পড়ল।
১০। সাধু রীতি : কতক্ষণ নবকুমার তীরে বসিয়া অনন্যমনে জলধিশোভা দৃষ্টি করিতে লাগিলেন তদ্বিষয়ে তৎকালে তিনি পরিমাণ-বোধ রহিত। পরে একেবারে প্রদোষিতিমির আসিয়া কালো জলের উপর বসিল। তখন নবকুমারের চেতনা হইলো যে, আশ্রম সন্ধান করিয়া লইতে হইবে। দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করিয়া গাত্রোত্থান করিলেন। দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করিলেন কেন, তাহা বলিতে পারি না। তখন তাঁহার মনে কোন ভূতপূর্ব সুখের উদয় হইতেছিল, তাহা কে বলিবে? গাত্রোত্থান করিয়া সমুদ্রের দিকে পশ্চাৎ ফিরিলেন।
উত্তর : চলিত রীতি : কতক্ষণ যে নবকুমার তীরে বসে আনমনে জলের শোভা দৃষ্টি দেখতে লাগলেন, সে বিষয়ে তখন তার পরিমাণ জ্ঞান ছিল না। পরে একেবারে সন্ধার আঁধার এসে কালো জলের উপর বসিল। তখন নবকুমারের চেতনা হলো যে, আশ্রম সন্ধান করে নিতে হবে। দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে গাত্রোত্থান করলেন। দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করলেন কেন, তা বলতে পারি না- তখন তাঁর মনে কোন ভূতপূর্ব সুখের উদয় হচ্ছিল, কে তা বলবে? গাত্রোত্থান করে সমুদ্রের দিকে পেছন ফিরলেন।
১১। সাধু রীতি : বই পড়া শখটি মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হইলেও আমি কাহাকেও শখ হিসাবে বই পড়িতে পরামর্শ দিতে চাহি না। প্রথমত, সেই পরামর্শ কেহ গ্রাহ্য করিবেন না। কেননা, আমরা জাত হিসেবে সৌখিন নহি। দ্বিতীয়ত, অনেকে তা কুপরামর্শ মনে করিবেন; কেননা আমাদের এখন ঠিক শখ করার সময় নয়।
উত্তর : চলিত রীতি : বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ হলেও আমি কাউকে শখ হিসাবে বই পড়িতে পরামর্শ দিতে চাই না। প্রথমত, সেই পরামর্শ কেহ গ্রাহ্য করবেন না। কেননা, আমরা জাত হিসেবে সৌখিন নই। দ্বিতীয়ত, অনেকে তা কুপরামর্শ মনে করবেন; কেননা আমাদের এখন ঠিক শখ করার সময় নয়।
১২। সাধু রীতি : বৎস! তোমার কিছুমাত্র দয়া ও মমতা নাই। যখন, তুমি এত সত্বর চলিয়ে যাইবে বলিয়া স্থির করিয়া রাখিয়াছিলে, তখন তোমার সংসারে না আসাই সর্বাংশে উচিত ছিল। তুমি স্বল্প সময়ের জন্য আসিয়া সকলকে কেবল মর্মান্তিক বেদনা দিয়া গিয়াছ। আমি যে, তোমার অদর্শনে কত যাতনা ভোগ করিতেছি তাহা তুমি একবার ভাবিতেছো না।
উত্তর : চলিত রীতি : বাছা! তোমার বিন্দুমাত্র দয়া ও মায়া নেই। যখন, তুমি এত সত্বর চলে যাবে বলে ঠিক করে রেখেছিলে, তখন তোমার সংসারে না আসাই অনেক ভাল ছিল। তুমি স্বল্প সময়ের জন্য সবাইকে শুধু দারুণ বেদনা দিয়া গিয়েছ। আমি যে, তোমার দেখে কত যাতনা ভোগ করছি তা তুমি একবার ভাবছো না।
১৩। সাধু রীতি : তৎকালে তাহার জ্যেষ্ঠ পুত্র ক্ষেত্রে ছিল। সে যখন আসিয়া বাটীর নিকটবর্তী হইল, তখন-ই নৃত্য- গীত-বাদ্যাদিও ধ্বনি শুনিতে পাইলো। তাহতে সে একজন ভৃত্যকে আহ্বান করিয়া জিজ্ঞাসা করিল- এই সকল ব্যাপারের অর্থ কি? ভৃত্য উত্তর দিল- আপনার ভ্রাতা প্রত্যাবর্তন করিয়াছেন ও আপনাদের পিতা তাঁহাকে নিরাপদে সুস্থ শরীরে পুনঃপ্রাপ্ত হইয়াছেন বলিয়া আনন্দোৎসব করিতেছেন।
উত্তর : চলিত রীতি : সে সময় তার বড় ছেলে মাঠে ছিল। সে যখন এসে বাড়ি নিকটবর্তী হলো, তখন-ই নাচ-গান বাজনার শব্দ শুনতে পেল। তখন সে একজন চাকরকে জিজ্ঞেস করল- এ সব করার কারণ কি? চাকর উত্তর দিল, আপনার ভাই ফিরে এসেছেন এবং আপনার বাবা পুত্রকে নিরাপদে ফিরে পেয়েছেন বলে আনন্দ প্রকাশ করছেন।
১৪। সাধু রীতি : দেশি ভাষা, বিশেষ করিয়া বাংলা ভাষার উন্নতির জন্য এই বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ বিশেষ চেষ্টা করিয়াছেন। ইহাদের অকৃত্রিম চেষ্টার ফলে বাংলা গদ্য এতটা নিয়ন্ত্রিত ও বিকশিত হইয়াছিল যে, ইহাদের সম্পাদিত পুস্তক এক সময় দেশবাসীর রসপিপাসা মিটাইবার সব সামর্থ্য লাভ করিয়াছিল।
উত্তর : চলিত রীতি : দেশি ভাষা, বিশেষ করে বাংলা ভাষার উন্নতির জন্য এ বিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা বিশেষ চেষ্টা করেছিলেন। এদের অকৃত্রিম চেষ্টার ফলে বাংলা গদ্য এতটা নিয়ন্ত্রিত ও বিকশিত হয়েছিল যে, এদের সম্পাদিত পুস্তক এক সময় দেশবাসীর রসপিপাসা মিটানোর সব সামর্থ্য লাভ করছিল।
১৫। সাধু রীতি : পরীক্ষা ব্যতীত কোনো বস্তুরই সম্যক পরিচয় পাওয়া যায় না। কিন্তু কোন বস্তুকে পরীক্ষা করিবার ইচ্ছা আমাদের নাই। ইহাও আমাদের শিক্ষার দোষে। বিদ্যাবদানে দেখিতে পাই যে, বৌদ্ধ যুগে জম্বুদ্বীপে কুল- পুতদিগকে অষ্ট বস্তু পরীক্ষা করিবার শিক্ষা দেওয়া হইত। কিন্তু এ যুগে স্কুল-কলেজে আমরাই পরীক্ষিত হই, কিছুই পরীক্ষা করিতে শিখি না। আমরা যদি রত্ন পরীক্ষা করিতে শিখিতাম তাহা হইলে আমরা সাহিত্যে কাচকে মণি এবং মণিকে কাচ বলিতে গড়িমসি করিতাম। আমাদের পক্ষে পরীক্ষা- বিদ্যা শিক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন হইয়া পড়িয়াছে।
উত্তর : চলিত রীতি : পরীক্ষা ছাড়া কোনো বস্তুরই পুরোপুরি পরিচয় পাওয়া যায় না। কিন্তু কোন বস্তুকে পরীক্ষা করার ইচ্ছা আমাদের নেই। এটাও আমাদের শিক্ষার দোষে। বিদ্যার অবদানে দেখতে পাই যে, বৌদ্ধ যুগে জম্বুদ্বীপে কুলের ছেলেদের আট রকম বস্তু পরীক্ষা করার শিক্ষা দেয়া হত। কিন্তু এ যুগে স্কুল-কলেজে আমরাই পরীক্ষিত হই, কিছুই পরীক্ষা করতে শিখি না। আমরা যদি রত্ন পরীক্ষা করিতে শিখতাম তাহলে আমরা সাহিত্যে কাঁচকে মণি আর মণিকে কাঁচ বলতে গড়িমসি করতাম। আমাদের পক্ষে পরীক্ষা-বিদ্যা শিক্ষা শেখা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
১৬। সাধু রীতি : আমাদের এই ভীরুতা কি চিরকাল থাকিয়া যাইবে? ভরসা করিয়া এইটুকু কোনদিন বলিতে পারিব না যে, উচ্চশিক্ষাকে আমাদের দেশের ভাষায় জিনিস করিয়া লইতে হইবে? পশ্চিম হইতে যা কিছু শিখিবার আছে, জাপান তাহা দেখিতে দেখিতে সমস্ত দেশে ছড়াইয়া দিল। তার প্রধান কারণ, সেই শিক্ষাকে তাহারা দেশি ভাষার আধারে বাঁধাই করিতে পারিয়াছে।
উত্তর : চলিত রীতি : আমাদের এ ভীরুতা কি চিরদিনই থেকে যাবে? ভরসা করিয়া এটুকু কোনদিন বলতে পারব না যে, উচ্চশিক্ষাকে আমাদের দেশের ভাষায় জিনিস দেশের করিয়া লইতে হইবে? পশ্চিম হতে যা কিছু শিখিবার আছে, জাপান তাহা দেখতে দেখতে সমস্ত দেশে ছড়িয়ে দিল। তার প্রধান কারণ, সেই শিক্ষাকে তারা দেশি ভাষার আধারে বাঁধাই করতে পেরেছে।
*************************
ড. এ. আই. এম. মুসা
অধ্যাপক-বাংলা
www.onlinereadingroombd.com
+88 01713 211 910